Search This Blog

এক নজরে আরবি গ্রামার (ইলমে নাহু)



 


আরবি ভাষার মৌলিক ভিত্তি মূলত ৪টি

আরবি ভাষা ও ব্যাকরণ শেখার জন্য এই চারটি মৌলিক শাখা অপরিহার্য। নিচে এদের সংক্ষিপ্ত ও সহজ পরিচয় দেওয়া হলো:
1. ইলমে নাহু (علم النحو
2. ইলমে সরফ (علم الصرف
3. ইলমে লুগাত (علم اللغات
4. ইলমে বালাগাত (علم البلاغة

  • ইলমে নাহু (علم النحو - Syntax): আরবি ব্যাকরণের যে শাস্ত্রে বাক্যে শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক, অবস্থান এবং বাক্যের শেষের হরফের (ই‘রাব) পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সহজ কথায়, সঠিক ব্যাকরণ মেনে শুদ্ধভাবে বাক্য গঠন এবং আরবি পড়ার নিয়ম এতে শেখানো হয়। [
  • ইলমে সরফ (علم الصرف - Morphology): এটি আরবি ব্যাকরণের শব্দতত্ত্ব। যে শাস্ত্রে মূল শব্দ বা ধাতু থেকে বিভিন্ন নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের রূপান্তর বা পরিবর্তন করার নিয়মকানুন শিক্ষা দেওয়া হয়, তাকে ইলমে সরফ বলে। [
  • ইলমে লুগাত (علم اللغات - Lexicography): এটি হলো আরবি শব্দভাণ্ডার বা অভিধান বিজ্ঞান। যে শাস্ত্রে আরবি শব্দের মূল অর্থ, প্রতিশব্দ, এবং শব্দগুলোর সঠিক ব্যবহার ও উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
  • ইলমে বালাগাত (علم البلاغة - Rhetoric): এটি আরবি সাহিত্যের অলংকার শাস্ত্র বা বাগ্মিতা বিজ্ঞান। যে শাস্ত্রের মাধ্যমে বাক্যের সৌন্দর্য, শব্দের অলংকার এবং মনের ভাব শ্রোতার অবস্থা ও প্রসঙ্গ অনুযায়ী অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নিখুঁতভাবে প্রকাশ করা যায়, তাকে ইলমে বালাগাত বলে।

ইলমে নাহুর উদ্দেশ্য নির্ভুল বাক্য গঠন।

বাক্য ও বাক্যস্থ শব্দের শেষ অবস্থা জানা ইলমে নাহুর আলোচ্য বিষয়।

মানুষের মুখ থেকে উচ্চারিত যেকোনো অর্থপূর্ণ বা অর্থহীন ধ্বনি বা শব্দকে লফজ (لفظ) বলা হয়।

লফজে মাউজু আবার দুই প্রকার:

  • মুফরাদ (مفرد): একক শব্দ।
  • মুরাক্কাব (مركب): একাধিক শব্দের সমষ্টি বা বাক্য।


অর্থবোধক একক শব্দকে 'কালিমা' (الكلمة) বলা হয়। বাংলায় যাকে ‘পদ’ বলা হয়। আরবি ভাষায় কালিমা মোট ৩ প্রকার যথা:

1. ইসম (اسم)

2. ফেয়েল (فعل)

3. হরফ (حرف)


১. ইসম (اسم): যে কালিমা নিজে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে এবং তা কোনো কালের (অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ) সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। যেমন: কিতাব (বই), জায়েদ (একটি নাম)।
২. ফেয়েল (فعل): যে কালিমা নিজে অর্থ প্রকাশ করতে পারে এবং তা তিন কালের (অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ) কোনো না কোনো কালের সাথে মিলে অর্থ দেয়। যেমন: নাসারা (সে সাহায্য করেছে)।
৩. হরফ (حرف): যে কালিমা নিজে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, বরং 'ইসম' বা 'ফেয়েল'-এর সাথে মিলিত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: মিন (হতে), ফি (মধ্যে)।


ইসম' (اسم - বিশেষ্য, সর্বনাম বা বিশেষণ) তা চেনার জন্য ইবনে হিশামের 'আল-ই'রাব' ও অন্যান্য গ্রন্থে মোট ১৫টি আলামত বা চিহ্ন উল্লেখ আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও মৌলিক ৯টি আলামত নিচে দেওয়া হলো: 
১. জার বা তানবীন গ্রহণ করা
২. 'আল' (ال) যুক্ত হওয়া
৩. মুসনদ হওয়া (বাক্যের আশ্রয় হওয়া)
৪. ইজাফাত বা সম্বন্ধ হওয়া
৫. তাসনিয়াহ বা দ্বিবচন হওয়া লোক)।
৬. জমা বা বহুবচন হওয়া
৭. মুসান্নাত বা গুণবাচক হওয়া
৮. তাসগীর বা ক্ষুদ্রার্থক হওয়া
৯. নিদা বা আহবান করা

১. জার বা তানবীন গ্রহণ করা: শব্দের শেষে তানবীন ( যেমন: زَيْدٌ) বা হরফে জার (যেমন: فِيْ الْبَيْتِ) যুক্ত হলে তা ইসম হয়。
২. 'আল' (ال) যুক্ত হওয়া: শব্দের শুরুতে আলিফ ও লাম যুক্ত হওয়া (যেমন: اَلْبَيْتُ)।
৩. মুসনদ হওয়া (বাক্যের আশ্রয় হওয়া): বাক্য সম্পূর্ণ করার জন্য শব্দটির দিকে কিছু সম্পৃক্ত বা যুক্ত হওয়া (যেমন: قَامَ زَيْدٌ বাক্যে 'যায়িদ' ইসম)।
৪. ইজাফাত বা সম্বন্ধ হওয়া: দুটি শব্দের মধ্যে সম্বন্ধ বা মালিকানা বোঝানো (যেমন: غُلَامُ زَيْدٍ)।
৫. তাসনিয়াহ বা দ্বিবচন হওয়া: শব্দের শেষে দ্বিবচনের আলামত থাকা (যেমন: رَجُلَانِ - দুইজন লোক)।
৬. জমা বা বহুবচন হওয়া: শব্দের শেষে বহুবচনের আলামত থাকা (যেমন: مُسْلِمُوْنَ - অনেক মুসলমান)।
৭. মুসান্নাত বা গুণবাচক হওয়া: বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া (যেমন: عَادِلٌ - ন্যায়পরায়ণ)।
৮. তাসগীর বা ক্ষুদ্রার্থক হওয়া: কোনো বস্তুকে ছোট করে বোঝানোর রূপ থাকা (যেমন: قُرَيْشٌ)।
৯. নিদা বা আহবান করা: শব্দের শুরুতে হরফে নিদা (আহবানসূচক শব্দ) থাকা (যেমন: يَا رَجُلُ)।


ফেল (فعل) এর আলামত ১৫টি কি কি, উদাহরণ 
আরবি ব্যাকরণ বা ইলমুন নাহু অনুযায়ী, যে শব্দ নিজে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে এবং তিন কালের (অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ) কোনো এক কালের সাথে যুক্ত থাকে তাকে ফেল (فعل/ক্রিয়া) বলে। ফেল চেনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু আলামত বা চিহ্ন রয়েছে। 

নিচে ফেল চেনার ১৫টি আলামত এবং উদাহরণ দেওয়া হলো:
১. قد (ক্বাদ): অতীত কালের শুরুতে বসে [০.৫.৯]।
  • উদাহরণ: قَدْ قَامَ (ক্বাদ ক্বামা - সে দাঁড়িয়েছে)।
২. س (ছীন): ভবিষ্যৎ বা বর্তমান কালের শুরুতে বসে অর্থকে নির্দিষ্ট করে [০.৫.৯]। [
  • উদাহরণ: سَيَعْلَمُوْنَ (ছাইয়া’লামূন - তারা অচিরেই জানবে)।
৩. سَوْفَ (ছাওফা): এটিও ভবিষ্যৎ কালের শুরুতে বসে [০.৫.৯]।
  • উদাহরণ: سَوْفَ تَعْلَمُوْنَ (ছাওফা তা’লামূন - অচিরেই তোমরা জানতে পারবে)।
৪. ت (তায়ে সাকিনাহ): ফেলের শেষে [তা সাকিন (تْ)] যুক্ত হয়, যা স্ত্রীলিঙ্গ (মুয়ান্নাস) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبَتْ (দরাবাত - সে একজন স্ত্রীলোক মেরেছে)।
৫. تُ (তা): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে কর্তা বা উত্তম পুরুষ (মুাকাল্লিম) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتُ (দারাবতু - আমি মেরেছি)।
৬. تَ (তা): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে দ্বিতীয় পুরুষ একবচন পুংলিঙ্গ (হাজির ওয়াহিদ মুজাক্কার) এর আলামত হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتَ (দারাবতা - তুমি পুরুষ মেরেছো)।
৭. تِ (তি): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে দ্বিতীয় পুরুষ একবচন স্ত্রীলিঙ্গ (হাজির ওয়াহিদ মুয়ান্নাস) এর আলামত হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتِ (দারাবতি - তুমি স্ত্রীলোক মেরেছো)।
৮. تُمْ (তুম): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে দ্বিতীয় পুরুষ বহুবচন পুংলিঙ্গ (জমা মুজাক্কার হাজির) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتُمْ (দারাবতুম - তোমরা পুরুষেরা মেরেছো)।
৯. تُنَّ (তুন্ন): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে দ্বিতীয় পুরুষ বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গ (জমা মুয়ান্নাস হাজির) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتُنَّ (দারাবতুন্না - তোমরা স্ত্রীলোকেরা মেরেছো)।
১০. تُمَا (তুমা): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে দ্বিবচন (তাসনিয়া) এর আলামত হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتُمَا (দারাবতুমা - তোমরা দুজন মেরেছো)।
১১. نَا (না): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে উত্তম পুরুষ বহুবচন বা দ্বিবচন (মুতাআল্লিম) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْنَا (দারাবনা - আমরা মেরেছি)।
১২. نُوْنَ (নূনা): ফেলে মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল)-এর শেষে বহুবচন পুংলিঙ্গ (জমা মুজাক্কার) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: يَضْرِبُوْنَ (য়াযরিবূনা - তারা পুরুষেরা মারবে/মারছে)।
১৩. نَ (না/নূন): ফেলে মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল)-এর শেষে বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গ (জমা মুয়ান্নাস) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: يَضْرِبْنَ (য়াযরিবনা - তারা স্ত্রীলোকেরা মারবে/মারছে)।
১৪. انِ (আনি): ফেলে মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল)-এর শেষে দ্বিবচন (তাসনিয়া) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: يَضْرِبَانِ (য়াযরিবানি - তারা দুজন মারবে/মারছে)।
১৫. يْنَ (ইনা): ফেলে মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল)-এর শেষে মধ্যম পুরুষ একবচন স্ত্রীলিঙ্গ (ওয়াহিদ মুয়ান্নাস হাজির) হিসেবে যুক্ত হয়। [
১. قد (ক্বাদ): অতীত কালের শুরুতে বসে [০.৫.৯]।
  • উদাহরণ: قَدْ قَامَ (ক্বাদ ক্বামা - সে দাঁড়িয়েছে)।
২. س (ছীন): ভবিষ্যৎ বা বর্তমান কালের শুরুতে বসে অর্থকে নির্দিষ্ট করে [০.৫.৯]। [
  • উদাহরণ: سَيَعْلَمُوْنَ (ছাইয়া’লামূন - তারা অচিরেই জানবে)।
৩. سَوْفَ (ছাওফা): এটিও ভবিষ্যৎ কালের শুরুতে বসে [০.৫.৯]।
  • উদাহরণ: سَوْفَ تَعْلَمُوْنَ (ছাওফা তা’লামূন - অচিরেই তোমরা জানতে পারবে)।
৪. ت (তায়ে সাকিনাহ): ফেলের শেষে [তা সাকিন (تْ)] যুক্ত হয়, যা স্ত্রীলিঙ্গ (মুয়ান্নাস) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبَتْ (দরাবাত - সে একজন স্ত্রীলোক মেরেছে)।
৫. تُ (তা): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে কর্তা বা উত্তম পুরুষ (মুাকাল্লিম) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتُ (দারাবতু - আমি মেরেছি)।
৬. تَ (তা): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে দ্বিতীয় পুরুষ একবচন পুংলিঙ্গ (হাজির ওয়াহিদ মুজাক্কার) এর আলামত হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتَ (দারাবতা - তুমি পুরুষ মেরেছো)।
৭. تِ (তি): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে দ্বিতীয় পুরুষ একবচন স্ত্রীলিঙ্গ (হাজির ওয়াহিদ মুয়ান্নাস) এর আলামত হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتِ (দারাবতি - তুমি স্ত্রীলোক মেরেছো)।
৮. تُمْ (তুম): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে দ্বিতীয় পুরুষ বহুবচন পুংলিঙ্গ (জমা মুজাক্কার হাজির) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتُمْ (দারাবতুম - তোমরা পুরুষেরা মেরেছো)।
৯. تُنَّ (তুন্ন): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে দ্বিতীয় পুরুষ বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গ (জমা মুয়ান্নাস হাজির) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتُنَّ (দারাবতুন্না - তোমরা স্ত্রীলোকেরা মেরেছো)।
১০. تُمَا (তুমা): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে দ্বিবচন (তাসনিয়া) এর আলামত হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْتُمَا (দারাবতুমা - তোমরা দুজন মেরেছো)।
১১. نَا (না): ফেলে মাজি (অতীতকাল)-এর শেষে উত্তম পুরুষ বহুবচন বা দ্বিবচন (মুতাআল্লিম) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: ضَرَبْنَا (দারাবনা - আমরা মেরেছি)।
১২. نُوْنَ (নূনা): ফেলে মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল)-এর শেষে বহুবচন পুংলিঙ্গ (জমা মুজাক্কার) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: يَضْرِبُوْنَ (য়াযরিবূনা - তারা পুরুষেরা মারবে/মারছে)।
১৩. نَ (না/নূন): ফেলে মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল)-এর শেষে বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গ (জমা মুয়ান্নাস) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: يَضْرِبْنَ (য়াযরিবনা - তারা স্ত্রীলোকেরা মারবে/মারছে)।
১৪. انِ (আনি): ফেলে মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল)-এর শেষে দ্বিবচন (তাসনিয়া) হিসেবে যুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: يَضْرِبَانِ (য়াযরিবানি - তারা দুজন মারবে/মারছে)।
১৫. يْنَ (ইনা): ফেলে মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল)-এর শেষে মধ্যম পুরুষ একবচন স্ত্রীলিঙ্গ (ওয়াহিদ মুয়ান্নাস হাজির) হিসেবে যুক্ত হয়। [
  • উদাহরণ: تَضْرِبِيْنَ (তাযরিবীনা - তুমি একজন স্ত্রীলোক মারবে/মারছো)।
ইলমে নাহুর মূল ভিত্তি ৪টি 
আমেল, মামুল, এরাব, এবং মুহাল এরাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি পরিভাষা। এরা বাক্যের শব্দের গঠন ও অর্থ নির্ধারণে কাজ করে। [
সহজ ভাষায় এদের সংজ্ঞা এবং উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. আমেল (اَلْعَامِلُ)
যে শব্দ অন্য কোনো শব্দের শেষাক্ষরে পরিবর্তন ঘটায়, তাকে আমেল বলে। অর্থাৎ, যে প্রভাব ফেলে। 
  • উদাহরণ: বাক্যে ব্যবহৃত অব্যয় বা ক্রিয়াপদ যা অন্য শব্দে পরিবর্তন আনে। যেমন: قَامَ (যে কাজ করল)।
২. মামুল (اَلْمَعْمُولُ)
আমেল-এর প্রভাবে যে শব্দের শেষাক্ষরে পরিবর্তন ঘটে, তাকে মামুল বলে। অর্থাৎ, যার ওপর প্রভাব পড়ে। [
  • উদাহরণ: জয়েদ (زَيْدٌ)-এর ওপর আমেল-এর প্রভাব পড়েছে। 
৩. এরাব (اَلْإِعْرَابُ)
আমেল-এর প্রভাবে শব্দের শেষাক্ষরে যে পরিবর্তন (যের, জবর, পেশ বা দম্মা, ফাতহা, কাছরা) আসে, তাকে এরাব বলে। [
  • উদাহরণ: جاءَ زَيْدٌ (জয়েদ আসলো) বাক্যে পেশ (ضمة) হলো এরাব। [
৪. মহল্লে এরাব (مَحَلُّ الْإِعْرَابِ)
যে শব্দের শেষাক্ষরে আমেল-এর প্রভাব বাহ্যিকভাবে বা সরাসরি প্রকাশ পায় না, বরং শব্দটির স্থান বা অবস্থানের কারণে অদৃশ্য এরাব নির্ধারিত হয়, তাকে মহল্লে এরাব বলে। [
  • উদাহরণ: অব্যয়িত বা মাবনী (স্থির) শব্দ। যেমন: جاءَ هَؤُلَاءِ (এই লোকেরা আসলো) বাক্যে হাযা (هَؤُلَاءِ)-এর শেষাক্ষরে কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু এটি কর্তাকারকের (رفع) স্থানে রয়েছে। এই স্থানটিকেই মহল্লে এরাব বলে। [
একটি পূর্ণাঙ্গ উদাহরণ:
جاءَ زَيْدٌ (জয়েদ আসলো)
  • এই বাক্যে جاءَ হলো আমেল (যেহেতু এটি পরবর্তী শব্দকে প্রভাবিত করেছে)।
  • زَيْدٌ হলো মামুল (যেহেতু এর শেষাক্ষরে পেশ বা দম্মা এসেছে)।
  • زَيْدٌ (ٌ)-এর শেষের পেশটি হলো এরাব [
 ২ প্রকার কি কি
فى الاسم، فى الفعل 
সংখ্যার দিক থেকে ইসম বা বিশেষ্য তিন প্রকার: ওয়াহিদ (একবচন বা Singular), তাসনিয়া (দ্বিবচন বা Dual) এবং জামা (বহুবচন বা Plural)। [
  • ওয়াহিদ (واحد): এটি দ্বারা নির্দিষ্ট একটিমাত্র ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে বোঝায় (যেমন: কিতাবুন - একটি বই)।
  • তাসনিয়া (تثنية): এটি দ্বারা নির্দিষ্ট দুটি ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে বোঝায়। ওয়াহিদ শব্দের শেষে 'আনি' বা 'আইনি' যোগ করে তাসনিয়া তৈরি করা হয় (যেমন: কিতাবানি - দুটি বই)। [
  • জামা (جمع): এটি দ্বারা দুইয়ের অধিক (তিন বা ততোধিক) ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে বোঝায়। জামা আবার দুই প্রকার: জামায়ে সালেম (সুনির্দিষ্ট নিয়মে গঠিত) এবং জামায়ে মুকাসসার (ভাঙা বহুবচন)। [
সালিম বা সুস্থ বহুবচন প্রধানত দুই প্রকার: [
  • জমা মুজাক্কার সালিম (جمع المذكر السالم): এটি পুরুষবাচক বা পুংলিঙ্গের সুস্থ বহুবচন। একবচন শব্দের শেষে ‘ওয়াও নূণ’ (ون) বা ‘ইয়া নূণ’ (ين) যোগ করে এটি গঠন করা হয়। মূল একবচন শব্দে কোনো পরিবর্তন হয় না।
    • উদাহরণ: مُسْلِمٌ (একজন মুসলিম) থেকে مُسْلِمُوْنَ বা مُسْلِمِيْنَ (অনেক মুসলিম)। 
  • জমা মুয়ান্নাস সালিম (جمع المؤنث السالم): এটি স্ত্রীবাচক বা স্ত্রীলিঙ্গের সুস্থ বহুবচন। একবচন শব্দের শেষে ‘আলিফ তা’ (ات) যুক্ত করে এটি গঠন করা হয়।
    • উদাহরণ: مُسْلِمَةٌ (একজন মুসলিম নারী) থেকে مُسْلِمَاتٌ (অনেক মুসলিম নারী)। [

(মুকাসসার বা ভগ্ন বহুবচন) কত প্রকার ও কি কি

আরবি ব্যাকরণে বা ইলমুল সরফে (Arabic Morphology) বহুবচন দুই প্রকার: জমা সালেম (সুস্থ বহুবচন) এবং জমা মুকাসসার বা ভগ্ন বহুবচন
জমা মুকাসসার (جمع التكسير) বা ভগ্ন বহুবচন হলো সেই বহুবচন, যা একবচন (ওয়াহেদ) শব্দের মূল গঠন ভেঙে বা পরিবর্তন করে তৈরি করা হয়。 [
জমা মুকাসসার প্রধানত দুই প্রকার: [
১. জমায়ে কিল্লা (جمع القلة - অল্প সংখ্যার বহুবচন)
সাধারণত ৩ (তিন) থেকে ১০ (দশ) পর্যন্ত সীমিত সংখ্যার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়। এর ওজন বা গঠন প্রণালী নির্দিষ্ট কয়েকটি।
যেমন: [
  • أَفْعِلَةٌ (আফ'ইলাতুন) - যেমনঃ أَقْوَامٌ (লোকেরা), أَنْفُسٌ (প্রাণগুলো)
  • أَفْعُلٌ (আফ'উলুন) - যেমনঃ أَعْيُنٌ (চোখগুলো)
  • فِعْلَةٌ (ফিশ'লাতুন) - যেমনঃ فِتْيَةٌ (কয়েকজন যুবক)
  • أَفْعَالٌ (আফ'আলুন) - যেমনঃ أَنْهَارٌ (কয়েকটি নদী)
২. জমায়ে কাসরাহ বা কাসরা (جمع الكثرة - অধিক সংখ্যার বহুবচন)
সাধারণত ৩ (তিন) থেকে শুরু করে অসীম বা বিপুল সংখ্যক বস্তু/প্রাণী বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়। এর প্রায় ২৫টিরও বেশি ওজন রয়েছে।
যেমন: [
  • فُعْلٌ (ফুক'লুন) - যেমনঃ بُكْمٌ (বোবা ব্যক্তিরা)
  • فُعُلٌ (ফুক'উলুন) - যেমনঃ رُسُلٌ (রাসূলগণ)
  • فَعَالِلُ (ফায়া-লিলু) - যেমনঃ دَرَاهِمُ (দিরহামসমূহ)
  • فَوَاعِلُ (ফাওয়া-ইলু) - যেমনঃ قَوَاعِدُ (নিয়মসমূহ) [
লিঙ্গ বা জেন্ডার দুই ভাগে বিভক্ত: মুযাক্কার (পুংলিঙ্গ)মুয়ান্নাস (স্ত্রীলিঙ্গ) নিচে এদের বিস্তারিত দেওয়া হলো: [
মুযাক্কার (পুংলিঙ্গ)
পুরুষবাচক শব্দকে মুযাক্কার বলে। এটি দুই প্রকার:
১. মুযাক্কার হাকীকী: যার প্রকৃত পুরুষবাচকতা আছে (জীবন্ত)। [
  • উদাহরণ: رَجُلٌ (পুরুষ), وَلَدٌ (বালক), ثَوْرٌ (ষাঁড়)।
    ২. মুযাক্কার মাজাযী: যার কোনো প্রকৃত স্ত্রী-পুরুষ নেই, কিন্তু ব্যাকরণগতভাবে পুরুষ হিসেবে গণ্য হয় (অজীব)।
  • উদাহরণ: قَلَمٌ (কলম), بَابٌ (দরজা), كِتَابٌ (বই)। [
মুয়ান্নাস (স্ত্রীলিঙ্গ)
স্ত্রীবাচক শব্দকে মুয়ান্নাস বলে। এটি প্রধানত তিন প্রকার:
১. মুয়ান্নাস হাকীকী: যার প্রকৃত স্ত্রীবাচকতা আছে (জীবন্ত)। 
  • উদাহরণ: اِمْرَأَةٌ (নারী), بِنْتٌ (বালিকা), بَقَرَةٌ (গরু)।
    ২. মুয়ান্নাস লাফযী (আলাতমী): দেখতে স্ত্রীলিঙ্গ মনে হয় (আলামত থাকে), কিন্তু ব্যাকরণগতভাবে বস্তুবাচক।
  • উদাহরণ: سَيَّارَةٌ (গাড়ি), جَنَّةٌ (জান্নাত)।
    ৩. মুয়ান্নাস সামাঈ: যার কোনো আলামত বা চিহ্ন থাকে না, কিন্তু আরববাসীরা একে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করে।
    [
  • উদাহরণ: شَمْسٌ (সূর্য), أَرْضٌ (পৃথিবী), عَيْنٌ (চোখ)।
মুয়ান্নাস চেনার নিয়ম
সাধারণত মুযাক্কার শব্দের শেষে কোনো স্ত্রীলিঙ্গের আলামত থাকে না। মুয়ান্নাস চেনার জন্য শব্দের শেষে প্রধানত এই তিনটি আলামত থাকে: [
  • গোল তা (ة): শব্দের শেষে গোল তা থাকে। যেমন- مَدْرَسَةٌ (মাদ্রাসা)।
  • আলিফ মাকসূরা (ى): শব্দের শেষে আলিফ খাড়া যবর বা ى থাকে। যেমন- صُغْرَى (ছোট)।
  • আলিফ মামদূদাহ (اءُ): শব্দের শেষে ‘আলিফ ও হামযা’ (اء) থাকে। যেমন- صَحْرَاءُ (মরুভূমি)।

মারেফা ও নাকেরা কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি, উদাহরণ দাও এবং চেনার নিয়ম।

আরবি ব্যাকরণে (ইলমুন নাহু) বিশেষ্যের (ইসম) নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা বোঝাতে মারেফা ও নাকেরা ব্যবহৃত হয়। নিচে এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
মারেফা (الْمَعْرِفَةُ)
সংজ্ঞা: যে ইসম বা বিশেষ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, স্থান বা প্রাণীকে বোঝায়, তাকে মারেফা বলে।
প্রকারভেদ: মারেফা ৭ প্রকার:
১. যামীর (সর্বনাম): যেমন- هُوَ (সে), أَنَا (আমি)।
২. ইসমে আলম (নামবাচক বিশেষ্য): যেমন- مُحَمَّدٌ (মুহাম্মদ), مَكَّةُ (মক্কা)।
৩. ইসমে ইশারা (ইঙ্গিতবাচক বিশেষ্য): যেমন- هَذَا (এটি), تِلْكَ (ঐটি)।
هٰذَا كِتَابٌ، هٰذَانِ كِتَابَانِ، تِلْكَ مَدْرَسَةٌ، تَانْكَ مَدْرَسَتَانِ، قَرَأْتُ تَيْنِكَ الْجَرِيدَتَيْنِ، هٰذِهِ قَلَنْسُوَةٌ، ذَهِي قَلَنْسُوَةٌ، تِهِي سَبُّورَةٌ، هٰؤُلَاءِ تَلَامِيذُ، هٰؤُلَاءِ عُلَمَاءُ

৪. ইসমে মাওসুল (আপেক্ষিক বা সংযোগবাচক বিশেষ্য): যেমন- الَّذِي (যে), الـَّتِي (যে [স্ত্রীলিঙ্গ])।
الَّذِي اشْتَرَيْتُهُ هُوَ -جَدِيدٌ- الْقَمِيصَانِ اللَّذَانِ اشْتَرَيْتُهُمَا جَدِيدَانِ اشْتَرَى
الْكِتَابَيْنِ اللَّذَيْنِ كَتَبَهُمَا الْعُلَمَاءُ -الْأُدَبَاءُ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ الْقَلَنْسُوَةُ الَّتِي اشْتَرَاهَا التِّلْمِيذُ هِيَ قَدِيمَةٌ - التِّلْمِيذَتَانِ اللَّتَانِ دَخَلَتَا فِي الْفَصْلِ هُمَا ذَكِيَّتَانِ قَرَأْتُ الْجَرِيدَتَيْنِ اللَّتَيْنِ صَدَرَتَا فِي الشَّهْرِ الْمَاضِي الْمَحِيضُ مِنْ عَجُوزٍ - لَا آكُلُ مَا حَرَّمَهُ اللَّهُ - انْصُرْ مَنْ
اللَّاتِي الْآلِي يَنْسِينَ
نَصَرَنِي فِي يَوْمٍ

৫. মুআররাফ বিল লাম (আলিফ-লাম যুক্ত শব্দ): কোনো নাকেরা শব্দের শুরুতে আলিফ-লাম যুক্ত করে নির্দিষ্ট করা হয়। যেমন- الْكِتَابُ (নির্দিষ্ট বইটি)।
إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ أَيْ أَنَّ كُلَّ إِنْسَانٍ لَفِي خُسْرٍ - خُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا أَيْ خُلِقَ كُلُّ إِنْسَانٍ ضَعِيفًا
 وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ فَلَا يُقَالُ جَعَلْنَا مِنْ كُلِّ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ - ٢٢/٦/٠٩ الرَّجُلُ خَيْرٌ مِنَ الْمَرْأَةِ فَلَا يُقَالُ كُلُّ الرَّجُلِ خَيْرٌ مِنْ كُلِّ الْمَرْأَةِ
أَهْلَكَ النَّاسَ الدِّينَارُ وَالدِّرْهَمُ، الذَّهَبُ أَثْمَنُ مِنَ الْفِضَّةِ

فَعَصَى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ - إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ- إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ 
تِلْمِيذُ خَالِدٍ ذَكِيٌّ، قَلَمُكَ جَدِيدٌ، كِتَابُ الْمَدْرَسَةِ قَدِيمٌ، قَلَمُ هَذَا جَمِيلٌ
تِلْمِيذُ مَنْ أَنْتَ

الْمُعَرَّفُ بِالنِّدَاءِ: يَا بِلَالٌ -يَا تِلْمِيذُ- يَا مُسْلِمُونَ - يَا أَيُّهَا الْمُجَاهِدُونَ

৬. মুযাররাফ বিন নেদা (আহ্বানকৃত শব্দ): যেমন- يَا رَجُلُ (হে লোকটি)।
৭. মুয়াররাফ বিল ইজাফাত (সম্পর্ক বা সম্বন্ধযুক্ত শব্দ): যেমন- كِتَابُ زَيْدٍ (যায়েদের বই)। [
মারেফা চেনার নিয়ম:
  • শব্দের শুরুতে ال (আলিফ-লাম) থাকলে তা নিশ্চিত মারেফা।
  • কোনো ব্যক্তি, স্থান বা বস্তুর নির্দিষ্ট নাম (Proper Noun) হলে তা মারেফা।
  • বাক্যে সর্বনাম (যামীর) ব্যবহার হলে তা মারেফা। [

নাকেরা (النَّكِرَةُ)
সংজ্ঞা: যে ইসম বা বিশেষ্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে বোঝায়, তাকে নাকেরা বলে।
নাকেরার প্রকারভেদ: নির্দিষ্ট কোনো প্রকারভেদ নেই, তবে ব্যাপক অর্থে সকল অ-নির্দিষ্ট শব্দই নাকেরা।
উদাহরণ: [
  • রজলুন (رَجُلٌ) = একজন পুরুষ (যেকোনো পুরুষ হতে পারে)
  • কিতাবুন (كِتَابٌ) = একটি বই (যেকোনো বই)
  • কলামুন (قَلَمٌ) = একটি কলম 
নাকেরা চেনার নিয়ম:
  • শব্দের শেষে তানবীন (দুই যবর ً , দুই যের ٍ , দুই পেশ ٌ ) থাকলে সাধারণত তা নাকেরা হয়।
  • শব্দের শুরুতে ال (আলিফ-লাম) থাকে না। [
ذَهَبَ خَالِدٌ إِلَى الْمَدْرَسَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ 
٢
 دَخَلَ تِلْمِيذُ1 الْمَدْرَسَةِ فِي الْفَصْلِ ٣ 
إِنَّا نَرَى الْكَوْثَرَ ٤ تَصْدُرُ الْمَجَلَّةُ الْكَوْثَرُ مِنْ مَرْكِزِ الدَّعْوَةِ الْإِسْلَامِيِّ ٥ إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ ٦ فَعَصَى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ ٧ كِتَابِي عَلَى الطَّاوِلَةِ الَّتِي الْمِقْرَانُ أَكُلُ يَوْمًا فِي غُرْفَتِكَ ٨ هَذَا بَيْتِي الَّذِي يَسْكُنُ فِيهِ أُسْرَتِي ٩ هَؤُلَاءِ الْمُجَاهِدُونَ خَرَجُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لِإِعْلَاءِ كَلِمَةِ اللَّهِ ١٠ يَا تِلْمِيذُ لَا تَخْرُجْ مِنَ الْمَدْرَسَةِ ١١ يَا حَبِيبِي لَا تَنْزِلْ فِي النَّهْرِ لِأَنَّ فِيهِ تِمْسَاحًا كَبِيرًا


ইসমে মুরাব (পরিবর্তনশীল বিশেষ্য) প্রধানত দুই প্রকার: মুনসারিফগাইরে মুনসারিফ。 [
মুনসারিফ
যে বিশেষ্যের শেষে তানউইন (দুই যবর, দুই যের, দুই পেশ) দেওয়া যায় এবং স্বাভাবিক নিয়মে তিনটি হালতেই (রফা, নসব, যার) হরকত পরিবর্তিত হয়, তাকে মুনসারিফ বলে。এটি বাক্যের প্রয়োজন অনুযায়ী তানউইন এবং জের (\(Kasrah\)) গ্রহণ করতে পারে। [
  • উদাহরণ: জাইদুন (জায়েদ) \(\rightarrow \) زَيْدٌ (রফা), زَيْدًا (নসব), زَيْدٍ (যার)।
গাইরে মুনসারিফ
যে বিশেষ্য তানউইন গ্রহণ করে না এবং যার শেষে জেরের (\(Kasrah\)) পরিবর্তে যবর (\(Fathah\)) বসে。এদের মূল অবস্থা হলো, এরা কখনও তানউইন বা জের গ্রহণ করতে পারে না。
প্রকারভেদ ও কারণ (সবব)
গাইরে মুনসারিফ হওয়ার মূল কারণ ৯টি。এই ৯টি কারণের মধ্যে যেকোনো দুটি কারণ অথবা একটি শক্তিশালী কারণ (যা দুটির সমান) কোনো বিশেষ্যে থাকলে তা গাইরে মুনসারিফ হয়。কারণগুলো হলো: [
  1. আদল (মূল শব্দ পরিবর্তন হওয়া)
  2. ওসফ (বিশেষণ হওয়া)
  3. তায়নীছ (স্ত্রীলিঙ্গবাচক হওয়া)
  4. মা’রিফাত (নির্দিষ্ট নাম/Proper Noun)
  5. আজমাহ (অ-আরবি শব্দ)
  6. জম’ (বহুবচন)
  7. তারকীব (দুটি শব্দ মিলে একটি হওয়া)
  8. ওযনে ফে’ল (ক্রিয়ার ওযন/আকার হওয়া)
  9. আলিফ ও নূনে যায়েদাহ (শব্দের শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও নূন থাকা) [
চেনার নিয়ম
১. নবী-রাসূলদের নাম: হজরত ইবরাহীম, ইসমাইল, ইয়াকুব ইত্যাদি (তবে ৬ জন নবীর নাম মুনসারিফ: নূহ, হূদ, লূত্ব, শু’আইব, ছালেহ, মুহাম্মদ)。
২. ফেরেশতাদের নাম: যেমন- জিবরীল (جِبْرِيْلُ), মীকাঈল (مِيْكَائِيْلُ)。
৩. স্থানের নাম: যেমন- মাক্কাতু (মক্কা), মিস্বরু (মিশর)。
৪. মহিলাদের নাম: যেমন- ফাতিমাতু (فَاطِمَةُ), আয়েশাতু (عَائِشَةُ)。
৫. রঙ বা গুণের নাম (বিশেষণ): যেমন- আহমারু (লাল), আসওয়াদু (কালো)。
৬. ভিনদেশী নাম: যেমন- ইবরাহীম (إِبْرَاهِيْمُ)。

মুরাব মাবনী কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি, উদাহরণ দাও এবং চেনার নিয়ম কি
১. মু'রাব (معرب)
সংজ্ঞা: যে শব্দের শেষ হরফের এরাব (যের, জবর, পেশ ইত্যাদি) বাক্যের চাহিদানুযায়ী পরিবর্তন হয় , তাকে মু'রাব বলে আধুনিক আরবী ব্যাকরণ। [
  • প্রকারভেদ: মু'রাবের মূল প্রকারভেদ ৩টি (এরাব অনুযায়ী):
    1. মারফূ' (Marfoo): যা পেশ (َ) গ্রহণ করে।
    2. মানসূব (Mansoob): যা জবর (ُ) গ্রহণ করে।
    3. মজরূ' (Majroor): যা যের (ِ) গ্রহণ করে।
  • উদাহরণ:
    • جاءَ زَيْدٌ (জায়িদ এসেছে - এখানে 'যায়িদ' পেশ গ্রহণ করেছে)।
    • رَأَيْتُ زَيْداً (আমি যায়িদকে দেখলাম - এখানে 'যায়িদ' জবর গ্রহণ করেছে)।
    • مَرَرْتُ بِزَيْدٍ (আমি যায়িদের পাশ দিয়ে গেলাম - এখানে 'যায়িদ' যের গ্রহণ করেছে)।
২. মাবনী (مبني)
সংজ্ঞা: যে শব্দের শেষ হরফের এরাব (যের, জবর, পেশ বা সুকূন) বাক্যের চাহিদানুযায়ী কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তন হয় না  এবং সর্বদা নির্দিষ্ট অবস্থায় স্থির থাকে Mabni - Grokipedia, তাকে মাবনী বলে মাবনী কাকে বলে┇মাবনী কত প্রকার ও কী কী┇تعريف مبني┇Mabni in arabic grammar┇সহজে মাবনী শিখুন - YouTube
  • প্রকারভেদ: মাবনী ৫টি প্রধান অবস্থায় স্থির থাকতে পারে:
    1. মাবনী আলাল ফাতহ্: যার শেষ হরফে সর্বদা জবর থাকে। (যেমন: أَيْنَ)
    2. মাবনী আলাল কাস্র: যার শেষ হরফে সর্বদা যের থাকে। (যেমন: هٰؤُلَاءِ)
    3. মাবনী আলাদ দাম্ম: যার শেষ হরফে সর্বদা পেশ থাকে। (যেমন: حَيْثُ)
    4. মাবনী আলাস সুকূন: যার শেষ হরফে সর্বদা জজম থাকে। (যেমন: مَنْ)
    5. মাবনী আলা হাযফি হারফিল ইল্লাল: শেষ হরফ বিলুপ্ত হওয়া (ফে'লে মুজারেতে)। 
  • উদাহরণ:
    • جاءَ هَؤُلاءِ (এরা এসেছে)।
    • رَأَيْتُ هَؤُلاءِ (আমি এদের দেখলাম)।
    • مَرَرْتُ بِهَؤُلاءِ (আমি এদের পাশ দিয়ে গেলাম)।
    • নোট: বাক্যের অবস্থান বদলালেও 'هَؤُلاءِ' (হাউলাই)-এর শেষ হরফে সবসময় যেরই রয়েছে।
চেনার নিয়ম
  • মু'রাব চেনার উপায়: যেসব শব্দের শেষে তানবীন বা স্বাভাবিক জের, জবর, পেশ বসে এবং বাক্যের ক্রিয়া বা কারকের পরিবর্তনে (যেমন ফায়েল, মাফউল ইত্যাদি অবস্থানে) শব্দের শেষের হরকত পরিবর্তন হয়, সেগুলো মু'রাব Arabic Grammar: Mu'rab and Mabni Explained - Scribd। (আরবি হরফ বা কালিমার মধ্যে ইসম মুতামাক্কিন বা সাধারণ বিশেষ্যগুলো সাধারণত মু'রাব হয়)।
  • মাবনী চেনার উপায়: সমস্ত হরফ (যেমন: فِي، مِنْ), সমস্ত ফে'লে মাজী (অতীতকালবাচক ক্রিয়া, যেমন: ضَرَبَ), ফে'লে আমর (আদেশসূচক ক্রিয়া, যেমন: اِضْرِبْ) এবং নির্দিষ্ট কিছু ইসমে ইশারা বা সর্বনাম (যেমন: هَذَا، هَذِهِ) সর্বদা মাবনী হয়।

১৬ প্রকার ইসমের ৯ প্রকার ইরাব কি কি, এরাব গ্রহণের নিয়মসহ উদাহরণ দিয়ে বর্ণনা করেন

আরবি ব্যাকরণে (ইলমে নাহু) পরিবর্তনশীল বা মু'রাব (مُعْرَب) ইসমসমূহ তাদের ইরাব বা কারক (যের, যবর, পেশ) গ্রহণের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ১৬টি ভাগে বিভক্ত হলেও, প্রধানত ৯ প্রকার ইরাব বা হরকত প্রদান করা হয়ে থাকে। এখানে ৯ প্রকার ইরাব গ্রহণকারী ইসমগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো: [
১. হরকত দ্বারা ইরাব গ্রহণকারী (حركات)
ইসমের ধরন:
  • মুফরাদ মুনসারিফ সহীহ: যার শেষে হরফে ইল্লাত নেই। (যেমন: زَيْدٌ)
  • জারী মাজরায়ে সহীহ: যার শেষে 'ওয়াও' বা 'ইয়া' আছে কিন্তু পূর্বের হরফ সাকিন। (যেমন: دَلْوٌ)
  • জমায়ে মুকাস্সার মুনসারিফ: ভগ্ন বহুবচন। (যেমন: رِجَالٌ)
  • জমায়ে মুয়ান্নাস সালিম: আলিফ ও তা যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক বহুবচন। (যেমন: مُسْلِمَاتٌ) [
ইরাব গ্রহণের নিয়ম ও উদাহরণ:
  • রফা (পেশ/ذمة): স্বাভাবিক পেশ হয়। (নসব ও যরে ব্যতিক্রম হতে পারে)
  • নসব (যবর/فتحة): যবর
  • জ্র (যের/كسرة): জের [
উদাহরণ:
  • রফা: جاء زيدٌ (যায়েদ এসেছে)
  • নসব: رأيت زيدًا (আমি যায়েদকে দেখেছি)
  • জ্র: مررت بزيدٍ (আমি যায়েদের পাশ দিয়ে গেলাম)
[

২. গাইরে মুনসারিফ (غير منصرف)
ইসমের ধরন: যেসব ইসম ৯টি ব্যাকরণগত কারণে তানভীন ও জের গ্রহণ করে না। [
  • উদাহরণ: عُمَرُ (ওমর) [
ইরাব গ্রহণের নিয়ম ও উদাহরণ:
  • রফা (পেশ): একটি পেশ (তানভীন ছাড়া)।
  • নসব (যবর): একটি যবর (তানভীন ছাড়া)।
  • জ্র (যের): জেরের স্থলে এক যবর হয়। [
উদাহরণ:
  • রফা: جاء عمرُ
  • নসব: رأيت عمرَ
  • জ্র: مررت بعمرَ


৩. আসমায়ে সিত্তাহ মুকাব্বরা (أسماء ستة مكبرة)
ইসমের ধরন: নির্দিষ্ট ৬টি বিশেষ্য (যেমন: أَبٌ، أَخٌ، حَمٌ، فَمٌ، هَنٌ، ذُو) []
ইরাব গ্রহণের নিয়ম ও উদাহরণ (হরফ দ্বারা ইরাব):
  • রফা: শেষে ওয়াও (و) যুক্ত হবে।
  • নসব: শেষে আলিফ (ا) যুক্ত হবে।
  • জ্র: শেষে ইয়া (ي) যুক্ত হবে। [, 
উদাহরণ:
  • রফা: جاء أخوك (তোমার ভাই এসেছে)
  • নসব: رأيت أخاك (আমি তোমার ভাইকে দেখলাম)
  • জ্র: مررت بأخيك (আমি তোমার ভাইয়ের পাশ দিয়ে গেলাম)
[]

৪. দ্বিবচন বা তাসনিয়াহ (تثنية)
ইসমের ধরন: যা দিয়ে দুটি বস্তু বা ব্যক্তিকে বোঝায়। [,
  • উদাহরণ: رَجُلَانِ (দুইজন পুরুষ) []
ইরাব গ্রহণের নিয়ম ও উদাহরণ:
  • রফা: আলিফ ও নূনের (ان) মাধ্যমে।
  • নসব ও জ্র: ইয়া ও নূনের (ين) মাধ্যমে (ইয়া-এর আগের হরফে যবর হবে)। []
উদাহরণ:
  • রফা: جاء الرجلان (দুইজন লোক আসল)
  • নসব: رأيت الرجلين (আমি দুজন লোককে দেখলাম)
  • জ্র: مررت بالرجلين (আমি দুজন লোকের পাশ দিয়ে গেলাম)
[]

৫. জমায়ে মুজাক্কার সালিম (جمع مذكر سالم)
ইসমের ধরন: ওয়াব ও নূনের (ون) মাধ্যমে গঠিত পুংলিঙ্গের বহুবচন। [,
  • উদাহরণ: مُسْلِمُونَ (মুসলিমরা)
ইরাব গ্রহণের নিয়ম ও উদাহরণ:
  • রফা: শেষে ওয়াও ও নূন (ونَ) হবে।
  • নসব ও জ্র: শেষে ইয়া ও নূন (يْنَ) হবে।
উদাহরণ:
  • রফা: جاء المسلمون (মুসলিমরা এসেছে)
  • নসব: رأيت المسلمين (আমি মুসলিমদের দেখলাম)
  • জ্র: مررت بالمسلمين (আমি মুসলিমদের পাশ দিয়ে গেলাম)

৬. ইসমে মাকসূর (اسم مقصور)
ইসমের ধরন: যার শেষে খাড়া যবর বা লম্বা আলিফ (ى) রয়েছে। [
  • উদাহরণ: عَصَا (লাঠি), مُوسَى (মূসা)
ইরাব গ্রহণের নিয়ম ও উদাহরণ (তাকদীরী ইরাব):
  • রফা, নসব ও জ্র: সকল অবস্থায় এর পরিবর্তন উহ্য বা অস্পষ্ট থাকে। [
উদাহরণ:
  • রফা: جاء موسى (মূসা আসল)
  • নসব: رأيت موسى (আমি মূসাকে দেখলাম)
  • জ্র: مررت بموسى (আমি মূসার পাশ দিয়ে গেলাম)

৭. ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের দিকে মুদাঁফ ইসম (مضاف إلى ياء المتكلم)
ইসমের ধরন: যে ইসমটি 'আমার' (ي) সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়েছে। [,
  • উদাহরণ: كِتَابِي (আমার কিতাব)
ইরাব গ্রহণের নিয়ম ও উদাহরণ:
  • রফা, নসব ও জ্র: ইয়া-এর নিজস্ব যেরে (كسرة) কারণে বাকি ইরাবগুলো উহ্য থাকে।
উদাহরণ:
  • রফা: جاء كتابي (আমার কিতাবটি আসল)
  • নসব: رأيت كتابي (আমি আমার কিতাবটি দেখলাম)
  • জ্র: نظرت إلى كتابي (আমি আমার কিতাবের দিকে তাকালাম)

৮. ইসমে মানকূস (اسم منقوص)
ইসমের ধরন: যার শেষে একটি সাকিন ‘ইয়া’ (ي) আছে এবং তার পূর্বের অক্ষরে জের (કસরা) থাকে। [
  • উদাহরণ: القَاضِي (বিচারক)
ইরাব গ্রহণের নিয়ম ও উদাহরণ:
  • রফা ও জ্র: ইরাব উহ্য থাকে (পেশ বা জের পড়া যায় না)।
  • নসব: সহজে যবর (فتحة) উচ্চারণ করা যায়।
উদাহরণ:
  • রফা: جاء القاضي (বিচারক এসেছেন)
  • নসব: رأيت القاضيَ (আমি বিচারককে দেখলাম)
  • জ্র: مررت بالقاضي (আমি বিচারকের পাশ দিয়ে গেলাম)

৯. জমায়ে মুজাক্কার সালিম মুদাঁফ ইলা ইয়া (جمع مذكر سالم المضاف إلى ياء المتكلم)
ইসমের ধরন: পুংলিঙ্গের বহুবচন ইসম, যা 'ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম' (আমার)-এর সাথে যুক্ত। ]
  • উদাহরণ: مُسْلِمِيَّ (আমার মুসলিমরা)
ইরাব গ্রহণের নিয়ম ও উদাহরণ:
  • রফা: রফার অবস্থায় ওয়াও-টি ইয়া-তে পরিবর্তিত হয়ে ইয়া-এর সাথে মুদগাম (যুক্ত) হয়। এর ইরাব উহ্য থাকে।
  • নসব ও জ্র: নসব ও যরের ক্ষেত্রেও একই রূপ থাকে। 
উদাহরণ:
  • রফা: جاء مسلميَّ (আমার মুসলিমরা এসেছে)
  • নসব: رأيت مسلميَّ (আমি আমার মুসলিমদের দেখলাম)
  • জ্র: مررت بمسلميَّ (আমি আমার মুসলিমদের পাশ দিয়ে গেলাম)


 

ফেলে মুজারের ইরাব কত প্রকার বিলহরকত, বিলহরফ, তাকদীরী ও কি কি, এরাব গ্রহণের নিয়মসহ উদাহরণ দিয়ে বর্ণনা করেন

আরবি ব্যাকরণে (ইলমুন নাহু) ফেলে মুজারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়া) বা   -এর ইরাব প্রধানত তিন প্রকার: রফ (رفع), নসব (نصب) ও জযম (جزم)    |  - । ইরাব গ্রহণের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এগুলোকে বিলহরকত (হরকত দ্বারা), বিলহরফ (হরফ বা বর্ণ দ্বারা) ও তাকদীরী (উহ্য) হিসেবে ভাগ করা হয়   । নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. বিলহরকত (হরকত বা স্বরচিহ্ন দ্বারা এরাব)
যেসব ফেলে মুজারের শেষে কোনো দুর্বল হরফ (আলিফ, ওয়াও, ইয়া) থাকে না এবং শেষে 'আফআলে খামসা'র (পাঁচটি বিশেষ রূপ) নুন থাকে না, সেসব ক্রিয়ার এরাব হরকত দ্বারা প্রকাশ পায় إﻋراب اﻟﻔﻌل اﻟﻣﺿﺎرع
  • রফ (رفع) - পেশ বা দম্মা (ـُ) দ্বারা:
    • নিয়ম: যখন ফেলে মুজারের শুরুতে কোনো নাসেবা (নসব প্রদানকারী) বা জাযেমা (জযম প্রদানকারী) অব্যয় আসে না, তখন তা রফ হয়।
    • উদাহরণ: یَضْرِبُ (সে প্রহার করে/করবে)। এখানে با (বা)-এর ওপর পেশ হলো রফ।
  • নসব (نصب) - জবর বা ফাতহা (ـَ) দ্বারা:
    • নিয়ম: ক্রিয়ার শুরুতে কোনো নাসেবা অব্যয় (যেমন: أَنْ, لَنْ) যুক্ত হলে নসব হয়
    • উদাহরণ: لَنْ یَضْرِبَ (সে কখনো প্রহার করবে না)। এখানে বা (বা)-এর ওপর জবর হলো নসব। []
  • জযম (جزم) - সুকূন বা জযম (ـْ) দ্বারা:
    • নিয়ম: ক্রিয়ার শুরুতে কোনো জাযেমা অব্যয় (যেমন: لَمْ, لَا) যুক্ত হলে জযম হয় إعراب الفعل المضارع المجزوم
    • উদাহরণ: لَمْ یَضْرِبْ (সে প্রহার করেনি)। এখানে با (বা)-এর ওপর জযম হলো জযম।

২. বিলহরফ (হরফ বা বর্ণ দ্বারা এরাব)
যেসব ফেলে মুজারের শেষে 'আফআলে খামসা' (দ্বিবচন ও বহুবচনের সীগাহ) থাকে, সেগুলোর এরাব হরফ বা বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে সাধিত হয় 
  • রফ (رفع) - 'নূন সাবিত' বা নুন বহাল থাকা দ্বারা إﻋراب اﻟﻔﻌل اﻟﻣﺿﺎرع:
    • উদাহরণ: یَضْرِبَانِ (তারা দুজন প্রহার করে)। এখানে শেষ বর্ণ হিসেবে 'নূন' বহাল আছে।
  • নসব ও জযম - 'হজফে নূন' বা নুন বিলুপ্ত হওয়া দ্বারা إعراب الفعل المضارع | PDF - Scribd إﻋراب اﻟﻔﻌل اﻟﻣﺿﺎرع:
    • উদাহরণ: لَنْ یَضْرِبَا (তারা দুজন কখনো প্রহার করবে না) এবং لَمْ یَضْرِبَا (তারা দুজন প্রহার করেনি)। লক্ষণীয় যে, উভয় ক্ষেত্রে শেষ নুনটি পড়ে গেছে।

৩. তাকদীরী (উহ্য এরাব)
যেসব ফেলে মুজারের শেষ অক্ষরটি দুর্বল হরফ (আলিফ, ওয়াও বা ইয়া) হয়, সেগুলোতে এরাবের কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে না إﻋراب اﻟﻔﻌل اﻟﻣﺿﺎرع। উচ্চারণ সহজ করার জন্য এরাবটি মনে মনে বা উহ্য ধরে নিতে হয়। [
  • শেষে 'আলিফ' (ا) থাকলে: রফ ও নসব উভয় ক্ষেত্রেই এরাব উহ্য থাকে إﻋراب اﻟﻔﻌل اﻟﻣﺿﺎرع
    • উদাহরণ: یَسْعٰی (সে চেষ্টা করে)। ]
  • শেষে 'ওয়াও' (و) বা 'ইয়া' (ي) থাকলে: রফ অবস্থায় এরাব উহ্য থাকে এবং নসব অবস্থায় দৃশ্যমান জবর বসে إﻋراب اﻟﻔﻌل اﻟﻣﺿﺎرع
    • উদাহরণ (নসব): لَنْ یَرْضِیَ (সে কখনো সন্তুষ্ট হবে না)। এখানে ইয়ার ওপর জবর দৃশ্যমান।
    • উদাহরণ (জযম): জযম অবস্থায় দুর্বল হরফটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন: لَمْ یَدْعُ (সে ডাকেনি; মূল শব্দ ছিল یدعو)। 
মুরাক্কাব কত প্রকার ও কি কি, আলামত, এরাব গ্রহণের নিয়মসহ উদাহরণ দিয়ে বর্ণনা করেন

আরবি ব্যাকরণ (ইলমুন নাহু) অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক শব্দ পাশাপাশি বসে কোনো সম্পর্ক তৈরি করলে তাকে মুরাক্কাব (যৌগিক শব্দ) বলে। মুরাক্কাব প্রধানত দুই প্রকার: মুরাক্কাবে তাম (পূর্ণাঙ্গ বাক্য) এবং মুরাক্কাবে নাকিস (অসম্পূর্ণ বাক্যাংশ)। বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো: [
১. মুরাক্কাবে তাম (مركب تام) বা জুমলা (বাক্য)
যে মুরাক্কাবের বক্তার বক্তব্য পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় এবং শ্রোতা কোনো পূর্ণাঙ্গ সংবাদ বা আদেশ-নিষেধ বুঝতে পারে, তাকে মুরাক্কাবে তাম বলে। [
  • আলামত: এটি পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে এবং এর মাধ্যমে বাক্য সমাপ্ত হয়। [
  • এরাব: মুরাক্কাবে তাম হলো একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য। এর মধ্যে মুক্তাদা ও খবর, কিংবা ফেল ও ফায়েল থাকে। এদের এরাব বাক্যের অবস্থান অনুযায়ী রফা, নসব বা জর (জের, জবর, পেশ) হয়ে থাকে। []
  • উদাহরণ:
    • العِلْمُ نَافِعٌ (জ্ঞান উপকারী)। এখানে العلم মুবতাদা (পেশ/রফা) এবং نافع খবর (পেশ/রফা)।

২. মুরাক্কাবে নাকিস (مركب ناقص)
যে মুরাক্কাব বা শব্দগুচ্ছ দ্বারা অসম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায়, অর্থাৎ বক্তার কথা শেষ হওয়ার পরও শ্রোতার মনে পূর্ণাঙ্গ কোনো ধারণা জন্মায় না, তাকে মুরাক্কাবে নাকিস বলে। এটি কয়েকটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: [
ক) মুরাক্কাবে তাওসিফী (বিশেষণবাচক বাক্যাংশ) [
যে বাক্যাংশে একটি শব্দ অন্য শব্দের দোষ, গুণ, অবস্থা ইত্যাদি বর্ণনা করে। প্রথম শব্দকে মাউসুফ (বর্ণিত বস্তু) এবং দ্বিতীয় শব্দকে সিফাত (গুণ) বলা হয়。 [
  • আলামত: সিফাত ও মাউসুফ লিঙ্গ, বচন, নির্দিষ্টতা/অনির্দিষ্টতা এবং এরাবের দিক দিয়ে হুবহু একরকম হয়। [
  • এরাব গ্রহণের নিয়ম: সিফাত সবসময় মাউসুফের এরাব অনুসরণ করে। মাউসুফ রফা হলে সিফাত রফা, নসব হলে নসব এবং জর হলে জর হয়। [
  • উদাহরণ:
    • وَلَدٌ صَالِحٌ (একজন নেককার বালক)। (উভয়ই পেশ/রফা)।
    • رَأَيْتُ وَلَدًا صَالِحًا (আমি একজন নেককার বালককে দেখলাম)। (উভয়ই জবর/নসব)। [
খ) মুরাক্কাবে ইদফী (সম্বন্ধবাচক বাক্যাংশ) [
যে বাক্যাংশে দুটি শব্দের মধ্যে মালিকানা, সম্পর্ক বা অধিকার বোঝায়। প্রথম শব্দকে মুজাফ এবং দ্বিতীয় শব্দকে মুজাফ ইলাইহি বলে。 
  • আলামত: মুজাফ শুরুতে নির্দিষ্ট আল (ال) বা তানউইন (নুন-ধ্বনি) গ্রহণ করে না। মুজাফ ইলাইহি সর্বদা জের (জর/খাফদ) গ্রহণ করে। [
  • এরাব গ্রহণের নিয়ম: মুজাফ বাক্যের অবস্থান অনুযায়ী এরাব (পেশ, জবর, জের) গ্রহণ করে, তবে এটি কখনোই দুই পেশ, দুই জবর বা দুই জের (তানউইন) নেয় না। অন্যদিকে, মুজাফ ইলাইহি সবসময় নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট যাই হোক না কেন, সবসময় জের বা জর (জেরের রূপ) গ্রহণ করবে। [
  • উদাহরণ:
    • بَيْتُ اللّٰهِ (আল্লাহর ঘর)। এখানে بَيْتُ (মুজাফ - পেশ) এবং اللّٰهِ (মুজাফ ইলাইহি - জের)। [
গ) মুরাক্কাবে ইশারা (ইঙ্গিতবাচক বাক্যাংশ) [
যে শব্দগুচ্ছে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করা হয়। [
  • আলামত: শুরুতে ইশারা বাচক শব্দ (যেমন: هٰذَا, ذٰلِكَ) থাকে এবং তার সাথে আল (ال) যুক্ত শব্দ থাকে। [
  • এরাব গ্রহণের নিয়ম: ইশারা প্রদানকারী শব্দগুলো মাবনী (অপরিবর্তিত) হয়। তবে ইঙ্গিতকৃত শব্দটি ইশারা বাচক শব্দের এরাব গ্রহণ করে। [
  • উদাহরণ:
    • هٰذَا الْوَلَدُ (এই বালকটি)।
ঘ) মুরাক্কাবে আত্বফী (সংযোজক বাক্যাংশ) 
যে শব্দগুচ্ছে হরফে আত্বফ (যেমন: وَ - এবং, أَوْ - অথবা) ব্যবহার করে দুটি শব্দকে যুক্ত করা হয়। [
  • আলামত: মাঝে হরফে আত্বফ থাকবে। 
  • এরাব গ্রহণের নিয়ম: আত্বফের পরের শব্দ (মা’তুফ) তার আগের শব্দের (মা’তুফ আলাইহি) এরাব পুরোপুরি অনুসরণ করে। 
  • উদাহরণ:
    • جَاءَ زَيْدٌ وَعَمْرٌو (যায়েদ ও আমর এসেছে)। এখানে زيد পেশ যুক্ত, তাই عمرو ও পেশ যুক্ত হয়েছে।
দুই বা ততোধিক শব্দ মিলে গঠিত বাক্য-কে আরবীতে ils (জুমলাহ/বাক্য) বা the qui
(শিবহুল জুমলাহ / খণ্ডবাক্য/মুরাক্কাব) বলে।
আরবীতে জুমলাহ বা বাক্য কয়েকভাগে বিভক্ত। নিন্মে তা তুলে ধরা হলো।
বাক্য প্রকারভেদ:
আরবী ভাষায় জুমলা বা বাক্য দুই প্রকার।
১. সংll (জুমলাহ খবারিয়্যাহ) বা সংবাদপ্রদানসূচক বাক্য
২. Lay it (জুমলাহ ইনশাইয়্যাহ) বা এমন বাক্য যা সংবাদপ্রদানসূচক নয়।
জুলমাহ খবারিয়্যাহ এর সংজ্ঞা :
যে বাক্যের বক্তাকে ‘সত্য অথবা মিথ্যা' উভয়দিক থেকে বিবেচনা করা যায় তাকে জুমলাহ খবারিয়্যাহ বলা হয়। এটি এমন একটি বাক্য যা মূলত একটি সংবাদ/খবর, এবং সংবাদটি সত্য ও মিথ্যা উভয়টিরই সম্ভাবনা রাখে। যেমন,
زَيْدٌ عَالِمٌ
‘যায়িদ হয় একজন আলেম'
‘যায়িদ হয় একজন আলেম' কেবলই একটি সংবাদপ্রধান বাক্য। বাস্তবে যায়িদ আলেম হওয়া / না হওয়া দু'টির সম্ভাবনা রয়েছে।
জুলমাহ খবারিয়্যাহ'র প্রকারভেদ :
জুমলাহ খবারিয়্যাহ দু'ই প্রকার।
১. জুমলাহ ইসমিয়্যাহ (নামপ্রধান বাক্য/ Nominal Sentence)
২. জুমলাহ ফেলিয়্যাহ (ক্রিয়াপ্রধান বাক্য / Verbal Sentence)
জুলমাহ ইসমিয়্যাহ এর সংজ্ঞা:
• কোন বাক্য ইসম বা বিশেষ্য দ্বারা শুরু হলে তাকে জুমলাহ ইসমিয়্যাহ বলে। এ ক্ষেত্রে বাক্যের দ্বিতীয় অংশ ইসম অথবা ফে’ল দু'টিই হতে পারে।
(যায়িদ হয় একজন আলেম) (যায়িদ পড়েছে)। এ

উপরোক্ত দু'টি বাক্যই ইসম (যায়িদ) দিয়ে শুরু হওয়ায় এগুলো জুমলাহ ইসমিয়্যাহ হিসেবে বিবেচিত। দ্বিতীয় বাক্যের দ্বিতীয় অংশটি ফে’ল (পড়েছে) হওয়া স্বত্বেও এটি জুমলাহ ইসমিয়্যাহ। এ ধরণের বাক্যের প্রথমাংশকে সি (মুবতাদা/ Subject/উদ্দেশ্য) বলে এবং দ্বিতীয় অংশকে স (খবর / Predicate/ বিধেয়) বলে।
kit: (মুবতাদা/Subject/উদ্দেশ্য) হল, যার উদ্দেশ্যে কিছু বলা হয়, আর ১ (খবর/ Predicate/বিধেয় হলো, মুবতাদা/উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে খবর/সংবাদ দেওয়া হয়। যেমন,
خَبَرٌ
عَالِمٌ
رَسُوْلٌ
كِتابٌ
مبتدا
زَيْدٌ
القُرْآنُ
অর্থ
যায়িদ হয় একজন আলেম
মুহাম্মাদ হন একজন রাসূল
কুরআন হলো একটি কিতাব
এসব বাক্যে প্রথম অংশগুলো ইসম ও দ্বিতীয় অংশগুলো খবর, ফলে এগুলো জুমলাহ
ইসমিয়্যাহ।
জুমলাহ ইসমিয়্যাহ-র খবরটি পাঁচ ধরণের হতে পারে।
১) একশব্দ বিশিষ্ট খবর
২) জার মাজরুর-বিশিষ্ট্য খবর
না-বাচক নামপ্রধান বাক্য
বাড়িটি নতুন নয়
বাড়িটি নতুন নয়
আমি শিক্ষক নই।
আমি শিক্ষক নই
আমার কাছে কোন গাড়ি নাই
না আমার কাছে কোন বই আছে না কোন কলম
সে না কোন শিক্ষক না কোন ছাত্র
সুতরাং তার কোন শক্তি নাই, এবং নাই কোন সাহায্যকারী সুতরাং তাদের কোন ভয় নাই, আর না তারা চিন্তিত হবে
مَا الْبَيْتُ جَدِيْدًا مَا الْبَيْتُ بِجَدِيدٍ
مَا أَنَا مُدَرِّما مَا أَنَا بِمُدَرِّسِ
مَا عِنْدِي سَيَّارَةٌ مَا عِنْدِي قَلَمٌ وَلَا كِتَابٌ مَا هُوَ مُدَرِّسًا وَ لا طَائِبًا فمَا لَهُ مِن قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرِ
فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ


জলমাহ ফে’লিয়্যাহ এর সংজ্ঞা:
• যে বাক্যটি ফে’ল বা ক্রিয়া দ্বারা শুরু হয় তাকে জুমলাহ ফে’লিয়্যাহ বলে। এ জাতীয় বাক্যের দ্বিতীয় অংশটি সর্বদাই ইসম হবে। যেমন:-
ضَرَبَ زَيْدٌ
‘যায়িদ প্রহার করলো'
এ বাক্যেটি যেহেতু ফে’ল দ্বারা শুরু হয়েছে তাই এটি-কে জুমলাহ ফে’লিয়্যাহ বলে। এসব বাক্যের প্রথম অংশকে ফে’ল এবং দ্বিতীয় অংশকে ফা’য়িল (কর্তা) বলে।
ফলে, আরবীতে তিনটি পদ্ধতিতে একটি জুমলাহ (বাক্য), ইসমিয়া ও ফে’লিয়্যাহ,-কে স্বার্থক বাক্যে রূপান্তরিত করা হয়। যেমন:-
১. ইসম + ইসম =
২. ইসম + ফে’ল = ia 33
৩. ফে’ল + ইসম =
জুলমায়ে ইনশাইয়্যাহ এর সংজ্ঞা:
জুমলায়ে ইনশাইয়্যাহ হলো যে বাক্য সংবাদসূচক বাক্য নয় বিধায় এর বক্তাকে সত্যবাদী কিংবা
মিথ্যাবাদী কোনোটিই বলা যায় না।
জুলমায়ে ইনশাইয়্যাহ এর প্রকারভেদ:
জুমলায়ে ইনশাইয়্যাহ সর্বমোট ১৪ প্রকার।
যথা:-
১. আমর (আদেশসূচক) বাক্য। এটি আদেশসূচক ক্রিয়া'র মাধ্যমে গঠিত হয়৷ যথা:
(তুমি প্রহার কর)।
২. নাহী বা নিষেধাজ্ঞাসূচক বাক্য, যা নিষেধসূচক ক্রিয়া'র মাধ্যমে গঠিত হয়। যথা: by (তুমি প্রহার করো না)।
৩. ‘ইস্তিফহাম' বা প্রশ্নবোধক বাক্য। যথা:
15)
(তুমি কি যায়েদকে প্রহার করেছো?)।
৪. ‘তামান্নায়ী’ বা আকাঙ্ক্ষাসূচক বাক্য। যথা:
(যায়েদ যদি উপস্থিত হতো!)
৫. ‘তারাজ্জী' বা সম্ভাবনা প্রকাশক বাক্য। যথা :
BD Jail (সম্ভবত যায়েদ অনুপস্থিত)
৬. ‘উকুদ’ বা চুক্তি বুঝায় এমন বাক্য।
যথা: একজন বললো এ, (আমি বিক্রয় করেছি) তখন অপরজন বলল- এ। (আমি ক্রয় করেছি)
৭. ‘নিদা’ বা আহ্বানসূচক বাক্য। এটি হুরুফে নিদার মাধ্যমে গঠিত হয়। যথা:
bl (হে আল্লাহ!)
৮.‘আরয’ বা আবেদনসূচক বাক্য। যথা:
ألا تَنْزِلُ بِنَا فَتُصِيبَ خَيْرًا
(তুমি যদি আমাদের কাছে আসতে তাহলে কল্যাণ লাভ করতে।) ৯. ‘কসম’ বা শপথসূচক বাক্য। এটি হুরুফুল কসম যোগে গঠিত হয়। যথা:
ওর by bl; (আল্লাহর শফথ! অবশ্যই আমি তোমাকে প্রহার করবো।
১০. তা’আজ্জব বা বিস্ময়বোধক বাক্য। যথা:
JIL (কী চমৎকার!)
১১. ‘দু’আ’ বা প্রার্থনাসূচক বাক্য। যথা:
ail akasi) (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন)
১২. ‘মাদহ’ বা প্রশংসাসূচক বাক্য। এ জাতীয় বাক্য আফয়ালল মাদহ এর মাধ্যমে গঠিত হয়।
যথা:-
এবং এর এ যায়িদ খুবই ভালো লোক)।
১৩. ‘জম’ বা নিন্দাসূচক বাক্য, যা ‘আফয়াল জম’ দ্বারা গঠিত হয়ে থাকে। যথা:
অতএব আমর (যায়িদ খুবই খারাপ লোক)
১৪. ‘আফয়াল মুকারাবাহ' বা নৈকট্যজ্ঞাপক ক্রিয়া'র মাধ্যমে গঠিত বাক্য। যথা:
সে মত এক (অচিরেই যায়িদ বের হবে)


আমেল ২ প্রকার 
আমেলে লফজী এবং মানয়ী

আমেলে লফজী তিন প্রকার হরফে আমেলাত, আফআলে আমেলাত ও আসমায়ে আমেলাতে

হরফে আমেলাতের ফিল ইসমে (حرف عاملة فى الاسم) কত প্রকার ও কি কি,

আরবি ব্যাকরণে (নাহু শাস্ত্রে) যে অব্যয় বা হরফগুলো ইসিম বা বিশেষ্যের শুরুতে বসে তার অবস্থায় পরিবর্তন ঘটায়, সেগুলোকে হরফে আমেলা ফিল ইসিম বলা হয়। প্রধানত এগুলো ৪ প্রকার এবং সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: [
১. حروف الجر (হুরুফুল জার): এই হরফগুলো ইসিমের শুরুতে বসে এবং ইসিমকে জের (কাসরা) প্রদান করে। যেমন: مِنْ (থেকে), إِلَى (দিকে), فِي (মধ্যে) ইত্যাদি।
২. الحروف المشبهة بالفعل (হুরুফুল মুশাব্বাহাতু বিল ফিল): এগুলো বাক্যের শুরুতে এসে মুবতেদাকে জবর (নসব) এবং খবরকে পেশ (রফা) দেয়। যেমন: إِنَّ (নিশ্চয়ই), أَنَّ (যে), لَيْتَ (হায়! আফসোস) ইত্যাদি।
৩. حروف النداء (হুরুফুন নিদা): সম্বোধন করার জন্য ব্যবহৃত হরফগুলো। যেমন: يَا (হে), أَيَا (হে) ইত্যাদি।
৪. ما، لا، لات، إن المشبهات بليس (মা, লা, লাত ও ইন্না): এ হরফগুলো ইসিমের শুরুতে যুক্ত হয়ে 'লেসা' (ليس) এর মতো কাজ করে, অর্থাৎ মুবতেদাকে পেশ (রফা) এবং খবরকে জবর (নসব) দেয়।

 মাকসূর হবে ৪ জায়গায়

إنَّ (ইন্না)-এর হামজা মাকসূর বা নিচে যের (Kasra) হবে এমন ৪টি প্রধান জায়গা হলো: শুরুতে, صلة (সুলাহ বা বাক্যের শুরুতে), কসম বা শপথের জবাবে, এবং مقول القول (উক্ত বাক্যের শুরুতে). ]
এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. প্রারম্ভে (بداية الكلام): যদি إنَّ কোনো বাক্যের একদম শুরুতে বা ইবতিদায় (শুরু) আসে. 
  • যেমন: إنّ الله مع الصابرين (আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন).
২. সুলাহ-এর শুরুতে (صدر جملة الصلة): যদি ইসমে মাওসুল (الذي, التي, ما ইত্যাদি)-এর ঠিক পরের বাক্যের শুরুতে আসে. [
  • যেমন: وَآتَيْنَاهُ مِنَ الْكُنُوزِ مَا إِنَّ مَفَاتِحَهُ (এবং আমি তাকে এমন ধনভান্ডার দান করেছিলাম, যার চাবিগুলো...). [
৩. শপথ বা কসমের জবাবে (جواب القسم): যদি إنَّ কোনো কসম বা শপথের জবাবে আসে এবং তার খবরে 'লাম' (لام الابتداء) থাকে. [
  • যেমন: وَالْعَصْرِ إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (সময়ের শপথ, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততায় নিমজ্জিত).
৪. উক্ত বাক্যের শুরুতে (بعد القول / محكية بالقول): قال (সে বলেছে), يقول (সে বলে) জাতীয় কোনো ক্রিয়ার (Verb of saying) ঠিক পরে, অর্থাৎ কারো কথার উদ্ধৃতি দেওয়ার শুরুতে হামজা মাকসূর হয়. 
  • যেমন: قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ (সে বলল, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা)

মোনাদা (المُنَادَى) বা সম্বোধিত অংশ মূলত ৫ প্রকার। তবে প্রাথমিক আলোচনার সুবিধার্থে মোনাদাকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা হয়: 
১. মোনাদা মুফরাদ বা মাবনী (المُنَادَى الْمَبْنِيّ): নির্দিষ্ট নাম বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে সম্বোধন করা।
২. মোনাদা গায়রে মুফরাদ বা মু'রাব (المُنَادَى الْمُعْرَب): অনির্দিষ্ট ব্যক্তি/বস্তু বা কারো দিকে সম্বোধন করা। [
নিচে এদের আমেল (কাজ করার নিয়ম) ও উদাহরণ দেওয়া হলো:
১. মোনাদা মুফরাদ (المُنَادَى الْمَبْنِيّ)
  • সংজ্ঞা: যখন মোনাদাটি 'আলাম' (নির্দিষ্ট নাম) অথবা 'নাকেরা মাকসুদাহ' (কোনো নির্দিষ্ট অনির্দিষ্ট ব্যক্তি) হয়।
  • আমেল: এটি হরফে নিদা (যেমন: يَا / ইয়া) দ্বারা পেশ (দম্মাহ) এর ওপর মাবনী বা অপরিবর্তিত থাকে। দ্বিবচনে আলিফ (ا) এবং বহুবচনে ওয়াও (و) দিয়ে মাবনী হয়। [
  • উদাহরণ:
    • যায়িদু (নির্দিষ্ট নাম): يَا زَيْدُ (হে যায়েদ!)
    • রাজুলু (নির্দিষ্ট ব্যক্তি): يَا رَجُلُ (হে লোক!) এখানে 'যায়েদ' ও 'রাজুল' পেশ (দম্মা) যুক্ত হয়ে আমেল গ্রহণ করেছে। [
২. মোনাদা গায়রে মুফরাদ (المُنَادَى الْمُعْرَب)
  • সংজ্ঞা: যখন মোনাদাটি নাকেরা গায়রে মাকসুদাহ (যেকোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি), মুদাফ (সম্পর্কযুক্ত) অথবা শাবিহ বিল মুদাফ (সাদৃশ্যপূর্ণ) হয়। [
  • আমেল: হরফে নিদা একে মানসুব (যবর বা ফাতহা যুক্ত) করে। [
  • উদাহরণ:
    • আসিয়ান (সাধারণ পাপী): يَا عَاصِيًا (হে গুনাহগার!) (এখানে 'আসিয়ান' নসব বা মানসুব হয়েছে)
    • তালিবাল ইলমি (জ্ঞান অন্বেষণকারী): يَا طَالِبَ الْعِلْمِ (হে জ্ঞানের সন্ধানকারী!)

 রায়ে নফী জিন্স মূলত বাক্য ও ব্যবহারের ভিত্তিতে চার ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে তিনটি হলো এর 'ইসম' (اسم) বা নামের প্রকারভেদ এবং অন্যটি তার প্রয়োগ বা অর্থের দিক থেকে আসে।
১. মুফরাদ (مفرد):
যে ইসমে নফি জিন্স একক শব্দ হয়, অর্থাৎ যা মুজাফ (সম্পর্কযুক্ত) বা শبیه بالمضاف (সাদৃশ্যপূর্ণ) নয়।
  • আমল: এটি 'মাবনী' বা অপরিবর্তনশীল হয় এবং ফাতাহা (যবর) এর উপর স্থির থাকে।
  • উদাহরণ: لا رَبَ فيه (এর মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই) قواعدُ اللّغَةِ العربيّةِ - لا النّافيةُ لِلْجِنْسِ - المركز التربوي للبحوث والإنماء
২. মুজাফ (مضاف):
যে اسمটি অন্য কোনো শব্দের সাথে মুজাফ (সম্পর্ক বা সম্বন্ধযুক্ত) হয়ে আসে।
  • আমল: এটি 'মু’রাব' (পরিবর্তনশীল) এবং সর্বদা মানসব বা যবরযুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: لا طالِبَ عِلمٍ خاسِرٌ (জ্ঞান অন্বেষণকারী কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না) 
৩. শাবীহ বিল মুজাফ (شبيه بالمضاف):
যে اسمটির সাথে অর্থ পূর্ণ করার জন্য অন্য কোনো শব্দের সম্পর্ক থাকে, ঠিক মুজাফের মতো কিন্তু সরাসরি মুজাফ-মুজাফ ইলাইহ নয়।
  • আমল: এটিও মানসব বা যবরযুক্ত হয়।
  • উদাহরণ: لا طالِعاً جَبَلاً ضَعيفٌ (পাহাড়ে আরোহণকারী কেউ দুর্বল নয়) 
৪. মুকাররার বা পুনরাবৃত্ত (مكرر):
যখন বাক্যে 'লা' শব্দটিকে জোর দেওয়ার জন্য বা একাধিক জিনিসের ক্ষেত্রে বারবার ব্যবহার করা হয়।
  • আমল: এ ক্ষেত্রে প্রথম 'লা' এর اسم (নাম) মুফরাদ হিসেবে মাবনী হতে পারে এবং পরবর্তীতে 'লা' বারবার ব্যবহার করা হয়।
  • উদাহরণ: لا حَوْلَ وَ لا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ (কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া)
 উহ্য থেকে নসব দিবে ৬ জায়গ

আরবি ব্যাকরণ (নাহু) অনুযায়ী 'أن' (আন্) উহ্য বা গোপন থেকে فعل مضارع (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালবাচক ক্রিয়া)-কে ৬টি স্থানে নসব (যবর/فتحة প্রদান) দেয়। স্থানগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: 
১. لام الجحود (লামুল জুহুদ বা অস্বীকৃতির لام): যে লামের আগে কান (كان)-এর অতীতকালের নফি বাচক শব্দ (যেমন- مَا كَانَ বা لَمْ يَكُنْ) থাকে। যেমন: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ}। এখানে لِيُعَذِّبَ-এর 'লি' হলো লামুল জুহুদ, যার পরে 'আন্' উহ্য থাকে।
২. حَتَّى (হাত্তা): 'পর্যন্ত' বা 'যে পর্যন্ত না' অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: {حَتَّىٰ يَقُولَ الرَّسُولُ}। এখানে 'হাত্তা'-এর পরে 'আন্' উহ্য থাকে।
৩. فَاءُ السَّبَبِيَّة (ফাউস সাবাবিয়্যাহ): নফি (অস্বীকার) অথবা তলব (আদেশ, নিষেধ, প্রশ্ন, আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি)-এর উত্তরে ব্যবহৃত 'ফা'। যেমন: أَنْفِقْ فَتَنَالَ (দান কর, যাতে তুমি লাভ করতে পার)।
৪. وَاوُ الْمَعِيَّة (ওয়াউল মাইয়্যাহ): কোনো কাজের সাথে অন্য কাজ একই সময়ে ঘটা বোঝাতে 'ওয়াও'। যেমন: لاَ تَأْكُلِ السَّمَكَ وَتَشْرَبَ اللَّبَنَ (মাছ খেয়ে দুধ পান করো না)।
৫. أَوْ (আউ): 'হাফেজাতা' (যে পর্যন্ত না) অর্থে। যেমন: لَأَسْتَسْهِلَنَّ الصَّعْبَ أَوْ أُدْرِكَ الْمُنَى (সহজ না হওয়া পর্যন্ত আমি কঠিন কাজ সহজ মনে করব)।
৬. لامُ التَّعْلِيل (লামুত তা’লীল বা কারণবাচক লাম): কোনো কাজের কারণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: جِئْتُ لِأُكْرِمَكَ (আমি এসেছি তোমাকে সম্মান করার জন্য)। [

হরফে আমেলাতের ফিল ফেল (حرف عاملة فى الفعل) কত প্রকার ও কি কি,

 যে অব্যয় বা হরফগুলো ক্রিয়া বা ফেলের ওপর প্রভাব ফেলে (আমল করে), সেগুলোকে হুরুফে আমেলা ফিল ফেল (حروف عاملة فى الفعل) বলা হয়। ক্রিয়ার ওপর আমলকারী হরফগুলো প্রধানত ২ প্রকার
১. হুরুফে নাসেবা (حروف ناصبة - নসব প্রদানকারী হরফ)
এই হরফগুলো মুদারি (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালবাচক) ফেলের শুরুতে বসে এবং তাকে নসব (জবর/ফাতহাহ) প্রদান করে। এগুলোর প্রধান ৪টি হরফ নিচে দেওয়া হলো: 
  • أن (আন্): অর্থ 'যে' (যেমন- أريد أن أكتب)।
  • لن (লান): অর্থ 'কখনোই না' (যেমন- لن يذهب)।
  • إذن (ইজান): অর্থ 'তবে, তাহলে' (যেমন- إذن أكرمك)।
  • كي (কাই): অর্থ 'যাতে, যেন' (যেমন- كي أتعلم)। 
২. হুরুফে জাজিমা (حروف جازمة - জজম প্রদানকারী হরফ)
এই হরফগুলো মুদারি ফেলের শুরুতে বসে তাকে জজম (সুকূন/হজম) প্রদান করে। এগুলো আবার দুই ভাগে বিভক্ত: 
  • ক) যে হরফগুলো একটি মাত্র ফেল মুদারিকে জজম দেয়:
    • لم (লাম): অতীতকালের নাবোধক (যেমন- لم يلد - সে জন্ম নেয়নি)।
    • لما (লাম্মা): এখন পর্যন্ত না-বোধক (যেমন- لما يذوقوا)।
    • لام الأمر (লামুল আমর): আদেশসূচক (যেমন- لينفق)।
    • لا الناهية (লা-আন-নাহিয়া): নিষেধসূচক (যেমন- لا تحزن)। 
  • খ) যে হরফগুলো দুটি ফেল মুদারিকে জজম দেয় (শর্ত ও জওয়াবে শর্ত):
    • এদেরকে হুরুফে শর্তিয়্যা বলা হয়। যেমন: إن (ইন - যদি), إذما (ইজমা - যখন), من (মান - যে কেউ), ما (মা - যা) ইত্যাদি। [












আফআল আমেলাহ (أفعال عاملة)

আফআল আমেলাহ (أفعال عاملة) হলো সেই ক্রিয়াপদগুলো, যা বাক্যে অন্য কোনো শব্দের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) শেষে ব্যাকরণগত পরিবর্তন বা 'আমল' (عمل) সাধন করে。 সহজ কথায়, যে ক্রিয়াগুলো নিজে কাজ করার পাশাপাশি অন্য শব্দকে পেশা, যবর, বা যের দিতে সক্ষম, সেগুলোই আফআল আমেলাহ

আফআল আমেলাহ (أفعال عاملة) ২ প্রকার এদের পরিচয় ও উদাহরণ দেওয়া হলো:
১. আফআলে তাম্মাত (أفعال تامة)
যে ক্রিয়াগুলো কেবল কর্তা (ফায়েল) গ্রহণের মাধ্যমেই নিজের অর্থ পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারে, সেগুলোকে আফআলে তাম্মাত বা পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়া বলে।
উদাহরণ:
  • যায়িদ দাঁড়িয়েছে।
  • আরবি: قَامَ زَيْدٌ
  • এখানে قَامَ (কা-মা) হলো আফআলে তাম্মাহ। এটি কোনো ইসিম বা খবরকে নসব দেয় না, বরং শুধু ফায়েল (زَيْدٌ) দ্বারাই বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে। 
২. আফআলে নাকেছাত (أفعال ناقصة)
যে فعل এর 'ইসম' (اسم) এবং 'খবর' (خبر) হয় তাকে أفعال ناقصة বলে। বা
যে ক্রিয়াগুলো শুধু তার কর্তাকে (ইসম) নিয়ে মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ করতে পারে না, বরং অর্থ পূর্ণ করার জন্য আরেকটি শব্দের (খবর) প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে আফআলে নাকেছাত বা অসম্পূর্ণ ক্রিয়া বলে। (এগুলোকে 'আফআলে কানাহ' বা কানার পরিবারও বলা হয়)। 
আফআলে নাকেছাত (أفعال ناقصة) ৬ প্রকার কানা, মুকারাবাত, রজাআ, শুরু, তায়াজ্জুব, মাদাহ-যাম্মুন আরবি উদাহরণ দাও

আফআলে নাকেছাত (অসম্পূর্ণ ক্রিয়া) মূলত এমন ক্রিয়া যা শুধু তার কর্তার দ্বারা পূর্ণতা পায় না, বরং অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য একটি খবরের (কর্ম/অবস্থা) প্রয়োজন হয়। 
এগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত। নিচে প্রতিটি প্রকারের নাম ও আরবি উদাহরণ দেওয়া হলো: 
১. কান এবং তার ভগিনীগণ (كَانَ وَأَخَوَاتُهَا): এগুলোকে 'কানা ও তার বোন' বলা হয়। এগুলো অসম্পূর্ণ ক্রিয়া। 
  • আরবি উদাহরণ: كانَ الطَّقْسُ جَمِيلًا (আবহাওয়া সুন্দর ছিল)। 
২. মুকারাবাত (أفعال المقاربة): যে ক্রিয়াগুলো কোনো কাজের কাছাকাছি হওয়া বা আসন্ন হওয়া বোঝায়। 
  • আরবি উদাহরণ: كَادَ الْمَطَرُ أَنْ يَنْزِلَ (বৃষ্টি পড়ার উপক্রম হয়েছিল)। 
৩. রজাআ (أفعال الرجاء): যে ক্রিয়াগুলো দ্বারা কোনো কাজ ঘটার আশা বা প্রত্যাশা করা বোঝায়। 
  • আরবি উদাহরণ: عَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ (আল্লাহ শীঘ্রই বিজয় দান করবেন, আশা রাখি)। 
৪. শুরু (أفعال الشروع): যে ক্রিয়াগুলো দিয়ে কোনো কাজ শুরু করা বা আরম্ভ করা বোঝায়। 
  • আরবি উদাহরণ: أَخَذَ الطِّفْلُ يَبْكِي (শিশু কাঁদতে শুরু করল)। 
৫. তায়াজ্জুব (أفعال التعجب): কোনো বিষয়ে আশ্চর্যজনক অবস্থা বা বিস্ময় প্রকাশ করার জন্য ব্যবহৃত ক্রিয়া। 
  • আরবি উদাহরণ: مَا أَجْمَلَ السَّمَاءَ! (আকাশটি কতই না সুন্দর!)
৬. মাদাহ-যাম্মুন (أفعال المدح والذم): মাদাহ (প্রশংসা) এবং যাম্মুন (নিন্দা) প্রকাশ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। 
  • প্রশংসার উদাহরণ (মাদাহ): نِعْمَ الرَّجُلُ عَلِيٌّ (আলী কতই না উত্তম মানুষ!)
  • নিন্দার উদাহরণ (যাম্মুন): بِئْسَ الرَّجُلُ الْكَذَّابُ (মিথ্যুক কতই না নিকৃষ্ট মানুষ!)


আরবি ব্যাকরণে كان وأخواتها (কানা ও তার বোনসমূহ) হলো ১৭টি অসম্পূর্ণ ক্রিয়া (الأفعال الناقصة)। 


আমল:

এগুলো বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের (مبتدأ وخبر) শুরুতে বসে এবং প্রথমটিকে পেশ (দম্মা ــُــ) ও দ্বিতীয়টিকে যবর (ফাতহা ــَــ) দেয়।


আরবি ব্যাকরণে كان وأخواتها (কানা ও তার বোনসমূহ) হলো ১৭টি অসম্পূর্ণ ক্রিয়া (الأفعال الناقصة)। এগুলো বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের (مبتدأ وخبر) শুরুতে বসে এবং মুবতাদা/প্রথমটিকে পেশ (দম্মা ــُــ) ও খবর/দ্বিতীয়টিকে যবর (ফাতহা ــَــ) দেয়। 
নিম্নে ১৭টি 'কানা ও তার বোন' এবং তাদের বাংলা অর্থ দেওয়া হলো:
  • كَانَ (কানা): হওয়া / ছিল; 
  • আরবি: كَانَ الطَّقْسُ بَارِدًا
  • বাংলা: আবহাওয়াটি ঠান্ডা ছিল। 

  • صَارَ (ছারা): রূপান্তরিত হওয়া / হওয়া; 
  • আরবি: صَارَ الْمَاءُ ثَلْجًا
  • বাংলা: পানি বরফে পরিণত হলো।

  • ظَلَّ (জ্বাল্লা): দিনের বেলায় হওয়া / থাকা; 
  • আরবি: ظَلَّ الْمُسَافِرُ صَائِمًا
  • বাংলা: মুসাফির ব্যক্তি সারাদিন রোজা রাখলেন।

  • بَاتَ (বাতা): রাত্রিযাপন করা / রাতের বেলায় হওয়া; 
  • আরবি: بَاتَ الْجُنْدِيُّ سَاهِرًا
  • বাংলা: সৈনিকটি রাত জেগে পাহারা দিলেন। 

  • أَصْبَحَ (আছবাহা): সকাল হওয়া / সকালের সময় হওয়া
  • আরবি: أَصْبَحَ الْجَوُّ مُعْتَدِلًا
  • বাংলা: সকালে আবহাওয়া মনোরম হলো।

  • أَمْسَى (আমছা): সন্ধ্যা হওয়া / সন্ধ্যার সময় হওয়া; 
  • আরবি: أَمْسَى الْعَامِلُ تَعِيبًا
  • বাংলা: সন্ধ্যায় শ্রমিকটি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। 

  • أَضْحَى (আদ্বহা): পূর্বাহ্ণ বা দুপুরের পূর্বের সময় হওয়া
  • আরবি: أَضْحَى الضَّيْفُ مُسَافِرًا
  • বাংলা: দুপুরের দিকে অতিথি ভ্রমণকারী হলেন।

  • آض (আদ্বা): রূপান্তরিত হওয়া
  • عاد (আদা): পরিণত হওয়া
  • غدا (গাদা): প্রাতঃকালে হওয়া / পরিণত হওয়া
  • راح (রাহা): যাওয়া / পরিণত হওয়া
  • مَا زَالَ (মা-জালা): চলতে থাকা / অব্যাহত থাকা; 
  • আরবি: مَا زَالَ الْمَطَرُ نَازِلًا
  • বাংলা: বৃষ্টি এখনও পড়ছে।
  • مَا دَامَ (মা-দামা): যতক্ষণ পর্যন্ত (সময়কাল বুঝাতে); 
  • আরবি: سَأُذَاكِرُ مَا دُمْتَ حَاضِرًا
  • বাংলা: আপনি যতদিন উপস্থিত থাকবেন, আমি ততদিন পড়াশোনা করব।
  • مَا انْفَكَّ (মা-ইনফাক্কা): অব্যাহত থাকা; 
  • আরবি: مَا انْفَكَّ الطِّفْلُ بَاكِيًا
  • বাংলা: শিশুটি অনবরত কাঁদছে।
  • مَا بَرِحَ (মা-বারিহা): বিরত না হওয়া / লেগে থাকা; 
  • আরবি: مَا بَرِحَ الْحَارِسُ وَاقِفًا
  • বাংলা: প্রহরী এখনও দাঁড়িয়ে আছে।
  • مَا فَتِئَ (মা-ফাতিইয়া): অব্যাহত থাকা; 
  • আরবি: مَا فَتِئَ الرَّجُلُ عَامِلًا
  • বাংলা: লোকটি এখনও কাজ করছে।
  • لَيْسَ (লাইছা): না হওয়া / না-বোধক; 
  • আরবি: لَيْسَ الْكَذِبُ نَافِعًا
  • বাংলা: মিথ্যা কখনোই উপকারী নয়।
আরবি ব্যাকরণে ‘কানা’ (كَانَ) যখন যায়েদ বা অতিরিক্ত (Redundant) হয়, তখন বাক্যের মূল অর্থের কোনো পরিবর্তন হয় না。 এই অতিরিক্ত ‘কানা’ সাধারণত কোনো বিশেষ অর্থের জন্য নয়, বরং বাক্যের সৌন্দর্য, বক্তব্যের নিশ্চয়তা বা বাক্যের ছন্দ ঠিক রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত হয়.
উদাহরণ: مَا أَحْسَنَ كَانَ زَيْدٌ قَائِمًا (যায়েদ কতই না সুন্দরভাবে দাঁড়িয়েছে!)。 এখানে অতিরিক্ত ‘কানা’ না থাকলেও বাক্যের মূল ভাব ও অর্থ একই থাকে। 

'কানা' (كَانَ) 'তাম্মা' বা পূর্ণাঙ্গ (كان التامة) হলে তা কেবল একটি কর্তা বা 'ফায়েল' (فاعل) গ্রহণ করে পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে এবং এর অর্থ হয় ‘ঘটা’, ‘হওয়া’ বা ‘অস্তিত্বে আসা’। নিচে এর কয়েকটি বিখ্যাত উদাহরণ দেওয়া হলো:
উদাহরণ: 1. وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍ
(সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৮০)
  • অর্থ: আর যদি সে (ঋণগ্রহীতা) অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া উচিত।
  • ব্যাখ্যা: এখানে 'কানা'-এর পরে 'জু' (ذُو) এসেছে, যা তার 'ফায়েল' বা কর্তা এবং এটি 'ওয়াও' (و) দ্বারা মারফূ' (পেশযুক্ত)। 
  • 2. اجتهدَ الطالبُ فكانَ النَّجاحُ
    • অর্থ: ছাত্রটি কঠোর পরিশ্রম করল, ফলে সাফল্য অর্জিত হলো।
    • ব্যাখ্যা: এখানে 'কানা' অর্থ ‘হয়েছে’ বা ‘অর্জিত হয়েছে’। 'আন-নাজাহু' (النجاح) হলো 'কানা'-এর 'ফায়েল'।

মুকারাবাত (أفعال المقاربة): ৩টি কি কি

আরবি ব্যাকরণে মুকারাবাত (أفعال المقاربة) বলতে এমন কয়েকটি ক্রিয়াবাচক শব্দকে বোঝায় যা দিয়ে কোনো কাজের সংঘটিত হওয়ার নিকটবর্তী হওয়া বোঝায়。এগুলো 'কাদ' (كاد) এবং তার ভগিনী বা সমগোত্রীয় হিসেবে পরিচিত。 

আফআলুল মুকারাবাহ (অফাল-আল-মুকারাবাহ) বলতে সেসব ক্রিয়াপদ বোঝায় যা কোনো কাজের আসন্নতা বা কাছাকাছি ঘটার সময় নির্দেশ করে।মুকারাবাত ক্রিয়ার প্রধান ৩টি শব্দ হলো:
مبتدأ (উদ্দেশ্য) বা ফাইলকে مرفوع (পেশ/দম্মা) করে তাদের ইসিম বানায় এবং খবরকে منصوب (যবর/ফাতহা) করে তাদের খবর বানায়।তবে এদের একটি বিশেষ শর্ত হলো, এদের خبر (খবর) সর্বদা فعل مضارع (বর্তমান/ভবিষ্যৎ কালবাচক ক্রিয়া) হতে হবে এবং খবরের শুরুতে ‘أنْ’ (আন্) অব্যয়টি যুক্ত হয়/হয় না।
কাদা (كَادَ) - প্রায় কাছাকাছি হওয়া।
  • উদাহরণ: কাদা জায়িদুন ইয়াসকুতু (كَادَ زَيْدٌ يَسْقُطُ) – জায়িদ প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
২. কারুবা (قَرُبَ) - নিকটবর্তী হওয়া।
  • উদাহরণ: কারুবা আল-মাতরু আন ইয়ানজিলার (قَرُبَ الْمَطَرُ أَنْ يَنْزِلَ) – বৃষ্টি প্রায় নামার উপক্রম হয়েছে।
৩. আউশাকা (أَوْشَكَ) - কাছাকাছি হওয়া বা সম্ভাবনা থাকা।
  • উদাহরণ: আউশাকা আল-ফজরু আন ইয়াতালুয়া (أَوْشَكَ الْفَجْرُ أَنْ يَطْلُعَ) – ভোর প্রায় হওয়ার সময় হয়েছে।

আফআলুর রজাআ' (أَفْعَالُ الرَّجَاءِ) হলো এমন কিছু ক্রিয়া (Verbs) যা কোনো আকাঙ্ক্ষা বা আশা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। বাংলায় এর অর্থ "আশা প্রকাশের ক্রিয়া"
নিচে এর বিস্তারিত ব্যাকরণগত নিয়ম দেওয়া হলো:
মূল ক্রিয়াসমূহ
এই গ্রুপে প্রধানত ৩টি ক্রিয়া রয়েছে:
  • عَسَى (আস-সা) — আশা করা যায় / সম্ভবত (সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত)
  • حَرَى (হারা) — আশা করা যায়
  • اِخْلَوْلَقَ (ইখলাওলাকা) — আশা করা যায়
ব্যাকরণগত কাজ (Grammatical Function)
  • এরা 'কানা ওয়া আখাওয়াতুহা' (كَانَ وَأَخَوَاتُهَا) এর মতো কাজ করে।
  • এরা বাক্যের শুরুতে বসে মুক্তাদাকে (Subject) পেশ (Raf') দেয়। তখন একে বলা হয় 'ইসমুহা' (اِسْمُهَا)
  • এরা বাক্যের খবরকে (Predicate) জবর (Nasb) দেয়। তখন একে বলা হয় 'খবারুহা' (خَبَرُهَا)
খবর (Predicate) হওয়ার শর্ত
  • এদের খবরটি অবশ্যই একটি ফেলে মুদারে (Present Tense Verb) সম্বলিত বাক্য হতে হবে।
  • সাধারণত এই ফেলে মুদারের আগে একটি أَنْ (আন্‌) যুক্ত হয়।
উদাহরণ
  • আরবি: عَسَى اللَّهُ أَنْ يَشْفِيَهُ
  • উচ্চারণ: আসা-ল্লাহু আইঁ ইয়াশফিয়াহু।
  • অর্থ: আশা করা যায় আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দেবেন।
  • বিশ্লেষণ: এখানে اللَّهُ হলো 'عَسَى' এর ইসম (পেশযুক্ত) এবং أَنْ يَشْفِيَهُ হলো এর খবর।
শুরু (أفعال الشروع): কি কি

আরবি ব্যাকরণে আফয়ালুশ শুরু (أفعال الشروع) হলো সেই সূচনাবাচক ক্রিয়াগুলো, যা দিয়ে কোনো কাজের আরম্ভ বা শুরু বোঝায়。এগুলো 'কানা' (كان)-এর মতো কাজ করে এবং এদের খবর অবশ্যই বর্তমান কাল বা মুদারি (مضارع) ক্রিয়া হতে হয়。 
প্রধান আফয়ালুশ শুরু গুলো হলো:
  • شرع (শার'আ - শুরু করল)
  • بدأ (বাদাআ - আরম্ভ করল)
  • أخذ (আখাজা - ধরল বা শুরু করল)
  • جعل (জা'আলা - পরিণত করল বা শুরু করল)
  • أنشأ (আনশাআ - তৈরি বা শুরু করল)
  • طفق (ত্বাফিকা - শুরু করল)
  • هبّ (হাব্বা - ধেয়ে চলল বা শুরু করল) 

তায়াজ্জুব বা 'আফআলুত তা’আজ্জুব' (أفعال التعجب) হলো বিস্ময় বা আশ্চর্য প্রকাশ করার ক্রিয়াপদ。কোনো কিছুর অসাধারণত্ব বা সৌন্দর্য প্রকাশ করতে এই বিশেষ ক্রিয়াবচনগুলো ব্যবহার করা হয়。এগুলো নির্দিষ্ট নিয়মে মাত্র দুটি মূল ওজনের (বা সিগার) মাধ্যমে গঠিত হয়。 
তায়াজ্জুব (أفعال التعجب) গঠনের নিয়ম
আরবিতে তায়াজ্জুব গঠনের জন্য দুটি সুনির্দিষ্ট ও নির্দিস্ট পদ্ধতি বা ওজন রয়েছে : 
১. ما أفعلَ (মা আফ’আলা) - রূপটি
এটি একটি নামবাচক বাক্য। এর মূল গঠনকাঠামো হলো:
মা (ما) + আফ’আলা (أَفْعَلَ) + মুতা’আজ্জিব মিনহু (المتعجب منه - যাকে নিয়ে বিস্ময়) 
  • উদাহরণ: ما أجملَ السماءَ! (আকাশটি কতই না সুন্দর!)
  • গঠন বিশ্লেষণ: এখানে ما (মা - যা 'আশ্চর্যজনক বস্তু' হিসেবে ব্যবহৃত হয়), أجمل (আফ'আলা ওজনের ক্রিয়া), এবং السماء (মুতা'আজ্জিব মিনহু বা যাকে নিয়ে আশ্চর্য হওয়া হচ্ছে)。
২. أفْعِلْ به (আফ’ইল বিহী) - রূপটি
এটি মূলত ক্রিয়াবাচক বাক্য। এর মূল গঠনকাঠামো হলো:
আফ’ইল (أَفْعِلْ) + বা (بِـ - হরফে যার) + মুতা’আজ্জিব মিনহু (المتعجب منه) 
  • উদাহরণ: أجملْ بالسماءِ! (আকাশটি কতই না সুন্দর!)
  • গঠন বিশ্লেষণ: এখানে أجمل (আফ'ইল ওজনের ক্রিয়া), ب (অতিরিক্ত অব্যয় বা হরফে যার), এবং السماء (যার কারণে বিস্ময় প্রকাশ করা হচ্ছে)。 

যে শব্দগুলো থেকে তায়াজ্জুব গঠিত হয় (শর্তাবলি)
যেকোনো ক্রিয়া থেকে সরাসরি তায়াজ্জুব তৈরি করা যায় না। যে ক্রিয়া থেকে তায়াজ্জুব গঠন করতে হবে, তার মধ্যে ৭টি প্রধান শর্ত থাকতে হবে: 
১. থুলাসী (ثلاثي): ক্রিয়াটি অবশ্যই মূল ৩ অক্ষরের হতে হবে。
২. তাম্ম (تام): এটি পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়া হতে হবে (كان - কানা বা অসম্পূর্ণ ক্রিয়া হবে না)。
৩. মুসবাত (مثبت): ক্রিয়াটি নাবোধক (না-বাচক) হওয়া যাবে না。
৪. মাবনিয়্যুল মা’লূম (مبني للمعلوم): ক্রিয়াটির কর্তা জানা থাকতে হবে (কর্মবাচ্য বা প্যাসিভ ভয়েস হবে না)。
৫. তাসাররুফ (متصرف): ক্রিয়াটি থেকে রূপান্তর বা পরিবর্তন সম্ভব হতে হবে。
৬. قابلة للتفاوت (ক্বাবিলুত তাফাউত): এর গুণ বা মাত্রার তারতম্য বা তুলনার সুযোগ থাকতে হবে (যেমন মরা বা ধ্বংস হওয়া থেকে তায়াজ্জুব হয় না, কারণ মৃত্যুর কম-বেশি হয় না)।
৭. ওয়াসফটি ‘আফ’আলা’ (أفعل) ভিত্তিক নয়: এমন শব্দ হওয়া যাবে না যার স্ত্রীলিঙ্গ 'ফা'লা' (فعلاء) হয় (যেমন রং বা শারীরিক ত্রুটিবাচক শব্দ, যার জন্য অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়)।


প্রশংসা (مدح) এবং নিন্দা (ذম) প্রকাশের জন্য أفعال المدح والذم (প্রশংসা ও নিন্দাসূচক ক্রিয়াপদ) ব্যবহার করা হয়।
প্রধান প্রশংসা সূচক ক্রিয়াগুলো হলো: نِعْمَ (কতই না উত্তম) এবং حَبَّذَا (কতই না চমৎকার)।
প্রধান নিন্দা সূচক ক্রিয়াগুলো হলো: بِئْسَ (কতই না নিকৃষ্ট) এবং لَا حَبَّذَا (কতই না মন্দ)।
এই বাক্যগুলোর গঠন পদ্ধতি প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত। নিচে বিস্তারিত গঠন পদ্ধতি দেওয়া হলো:
১. نِعْمَ এবং بِئْسَ এর গঠন পদ্ধতি
এই দুটি ক্রিয়ার মাধ্যমে বাক্য গঠন করতে ৩টি উপাদান লাগে: ক্রিয়া (الفعل) + কর্তা (الفاعل) + নির্দিষ্ট বিশেষ্য (المخصوص بالمدح أو الذم)
এই পদ্ধতিতে কর্তার (الفاعل) ৪টি রূপ বা গঠন হতে পারে:
  • আলিফ-লাম যুক্ত (المُعَرَّف بِـ أَلْ): কর্তার শুরুতে ال থাকবে।
    • উদাহরণ: نِعْمَ الرَّجُلُ زَيْدٌ (জায়েদ কতই না উত্তম ব্যক্তি)।
  • আলিফ-লাম যুক্ত শব্দের দিকে ইদাফাত বা সম্বন্ধ হওয়া: কর্তাটি এমন একটি শব্দের দিকে সম্বন্ধ হবে যার শুরুতে ال আছে।
    • উদাহরণ: بِئْسَ صَاحِبُ السُّوءِ خَالِدٌ (খালেদ কতই না নিকৃষ্ট সঙ্গী)।
  • অস্পষ্ট সর্বনাম (ضمير مستتر), যা একটি নাকেরা শব্দ দ্বারা স্পষ্ট হয়: কর্তাটি লুকিয়ে থাকে এবং ক্রিয়ার পরে একটি জবরযুক্ত (منصوب) নাকেরা শব্দ (تمييز) এসে তাকে স্পষ্ট করে।
    • উদাহরণ: نِعْمَ رَجُلًا عَلِيٌّ (আলী ব্যক্তি হিসেবে কতই না উত্তম)। এখানে কর্তা 'هُوَ' যা লুকিয়ে আছে।
  • ‘مَا’ বা ‘مَنْ’ সর্বনাম হওয়া: কর্তার জায়গায় ما বা مَنْ বসে।
    • উদাহরণ: بِئْسَ مَا تَفْعَلُ الكَذِبُ (মিথ্যা কতই না নিকৃষ্ট কাজ, যা তুমি করছ)।
২. حَبَّذَا এবং لَا حَبَّذَا এর গঠন পদ্ধতি
এই পদ্ধতিটি অনেক সহজ এবং সরাসরি গঠিত হয়। এখানে আলাদা করে কর্তা খুঁজতে হয় না।
  • গঠন সূত্র: حَبَّ (ক্রিয়া) + ذَا (কর্তা/ইশারা বাচক সর্বনাম) + নির্দিষ্ট বিশেষ্য (المخصوص)।
  • প্রশংসার উদাহরণ: حَبَّذَا الأَمَانَةُ (আমানতদারিতা কতই না চমৎকার বিষয়)।
  • নিন্দার উদাহরণ: لَا حَبَّذَا الخِيَانَةُ (খেয়ানত কতই না মন্দ বিষয়) 

আফআলে তাম্মাত (أفعال تامة) হলো সেই পূর্ণাঙ্গ বা স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্রিয়াপদ, যা আরবি বাক্যে কেবল তার ফاعل (কর্তা) গ্রহণ করেই একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করতে সক্ষম। অর্থাৎ, এগুলোকে বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য অন্য কোনো খবরের (خبر) প্রয়োজন হয় না।

কর্ম বা উদ্দেশ্যের (ফায়েল) সম্পর্ক অনুযায়ী 'ফেল' বা ক্রিয়া মূলত দুই প্রকার: ফেল-এ মারুফ (কর্মবাচক) এবং ফেল-এ মাজহুল (কর্মহীন বা অন্যকর্তৃক সাধিত)। 
নিচে এদের বিস্তারিত পরিচয় ও উদাহরণ দেওয়া হলো:
১. ফেল-এ মারুফ (فعل معروف):
যে ফেল বা ক্রিয়ার ফায়েল (কর্তা) উল্লেখ থাকে এবং কর্তা নিজেই কাজটি সম্পন্ন করে, তাকে ফেল-এ মারুফ বলে। 
  • উদাহরণ: نَصَرَ زَيْدٌ (যায়েদ সাহায্য করেছে)।
    এখানে সাহায্য করার কাজটি 'যায়েদ'-এর দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে।
২. ফেল-এ মাজহুল (فعل مجهول):
যে ফেল বা ক্রিয়ার ফায়েল (কর্তা) অজ্ঞাত বা উল্লেখ থাকে না এবং কাজটি যার ওপর পতিত হয় (মাফউল বা কর্ম) তাকেই ফায়েল বা কর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়, তাকে ফেল-এ মাজহুল বলে।
  • উদাহরণ: نُصِرَ زَيْدٌ (যায়েদকে সাহায্য করা হয়েছে)।
    এখানে সাহায্যকারী কে তা উল্লেখ নেই, বরং যায়েদের ওপর সাহায্য করার কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। 

ফেল-এ মারুফ (فعل معروف): ২ প্রকার লাযীম ও মুতায়াদ্দী উদাহরণ দাও

ফেল-এ মারুফ (فعل معروف) হলো সেই ক্রিয়াপদ, যার কর্তা (ফায়েল) জানা বা উল্লেখ থাকে। অর্থের পূর্ণতার দিক থেকে ফেল-এ মারুফ ২ প্রকার: ফেল-এ লাযীম এবং ফেল-এ মুতাআদ্দী। 
১. ফেল-এ লাযীম (فعل لازم - অকর্মক ক্রিয়া)
যে ক্রিয়া কেবল কর্তা (ফায়েল)-কে নিয়েই অর্থ পূর্ণ করতে পারে এবং কোনো কর্ম (মাফউল)-এর প্রয়োজন হয় না, তাকে ফেল-এ লাযীম বলে। 
  • উদাহরণ:
    • ذهب الولدُ (বালকটি গেল)। এখানে 'গেল' ক্রিয়া সম্পন্ন করতে কোনো কর্মের প্রয়োজন হয়নি।
    • جلس الرجلُ (লোকটি বসলো)। 
২. ফেল-এ মুতাআদ্দী (فعل متعدي - সকর্মক ক্রিয়া)
যে ক্রিয়া কেবল কর্তা (ফায়েল)-এর দ্বারা অর্থ পূর্ণ করতে পারে না, বরং অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য কর্ম (মাফউল)-এর প্রয়োজন হয়, তাকে ফেল-এ মুতাআদ্দী বলে। 
  • উদাহরণ:
    • كتب الطالبُ الدرسَ (ছাত্রটি পাঠটি লিখল)। এখানে 'ছাত্রটি লিখল' বললে অসম্পূর্ণ থাকে, তাই 'পাঠটি' (কর্ম) আনতে হয়েছে।
    • ضرب زيدٌ بكراً (জায়েদ বকরকে প্রহার করল)। 

মারফুয়াত আফয়াল-এর ২টি প্রকার ও উদাহরণ:
১. ফায়েল (الْفَاعِلُ): ক্রিয়ার কর্তা。 
  • উদাহরণ: قَامَ زَيْدٌ (যায়েদ দাঁড়িয়েছে)।
২. নায়েবে ফায়েল (نَائِبُ الْفَاعِلِ): কর্মবাচ্যের কর্তা (যার শুরুতে পেশ হয়)। 
  • উদাহরণ: ضُرِبَ زَيْدٌ (যায়েদকে প্রহার করা হয়েছে)।

যে সকর্মক ক্রিয়াগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কর্ম (Maf'ool) গ্রহণ করে সেগুলোকে আফআলে মুতাআদ্দী (الأفعال المتعدية) বলা হয়। কর্মের সংখ্যার ভিত্তিতে আফআলে মুতাআদ্দী ৪ প্রকার:
১. মুতাআদ্দী ইলা মাফঊলিন ওয়াহিদিন (যে ক্রিয়া একটি কর্ম গ্রহণ করে)
এই ক্রিয়াগুলো একটি মাত্র কর্মের মাধ্যমে তার অর্থ পূর্ণ করে।
  • আরবি উদাহরণ: قَرَأَ زَيْدٌ كِتَابًا (ক্বরাআ যায়িদুন কিতাবান)
  • অর্থ: যায়িদ একটি বই পড়ল।
  • বিশ্লেষণ: এখানে قَرَأَ (পড়ল) ক্রিয়ার জন্য كِتَابًا (একটি বই) একমাত্র কর্ম।
২. মুতাআদ্দী ইলা মাফঊলাইন (যে ক্রিয়া দুটি কর্ম গ্রহণ করে)
এই ক্রিয়াগুলো দুটি কর্ম (মাফঊল) ছাড়া অর্থ প্রকাশ করতে পারে না। এগুলো মূলত দু'ভাগে বিভক্ত: 
ক) মাফঊলে আউয়াল ও মাফঊলে ছানী দু'টিই মূল مبتدأ (মুবতাদা) ও خبر (খবর) হয়।
  • আরবি উদাহরণ: ظَنَنْتُ زَيْدًا صَالِحًا (জ্বানানতু যায়িদান সালিহান)
  • অর্থ: আমি যায়িদকে সৎ মনে করলাম।
  • বিশ্লেষণ: এখানে ظَنَنْتُ (আমি মনে করলাম) ক্রিয়ার প্রথম কর্ম زَيْدًا এবং দ্বিতীয় কর্ম صَالِحًا।
খ) মাফঊলে আউয়াল ও মাফঊলে ছানী দু'টি মূল مبتدأ ও خبر হয় না।
  • আরবি উদাহরণ: أَعْطَى زَيْدٌ بَكْرًا دِرْهَمًا (আ'ত্বা যায়িদুন বাক্করান দিরহামান)
  • অর্থ: যায়িদ বকরকে একটি দিরহাম দিল।
  • বিশ্লেষণ: এখানে أَعْطَى (দিল) ক্রিয়ার প্রথম কর্ম بَكْرًا (বকরকে) এবং দ্বিতীয় কর্ম دِرْهَمًا (একটি দিরহাম)।
৩. মুতাআদ্দী ইলা সালাছাতা মাফঊলিন (যে ক্রিয়া তিনটি কর্ম গ্রহণ করে)
যে ক্রিয়াগুলো একই সাথে তিনটি কর্ম (মাফঊল) গ্রহণ করে।
  • আরবি উদাহরণ: أَرَى الْمُعَلِّمُ التَّلْمِيذَ الْمَسْأَلَةَ وَاضِحَةً (আরাল মু'আল্লিমুত তিলমীযাল মাসআলাতা ওয়াদিহ্বাতান)
  • অর্থ: শিক্ষক ছাত্রকে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেখালেন।
  • বিশ্লেষণ: এখানে أَرَى (দেখালেন) ক্রিয়ার তিনটি কর্ম হলো যথাক্রমে: التَّلْمِيذَ (ছাত্রকে), الْمَسْأَلَةَ (বিষয়টি) ও وَاضِحَةً (স্পষ্টরূপে)।


আফআলে কুলুব (افعال القلوب) হলো সেই অন্তর বা বিশ্বাসের ক্রিয়াগুলো যা দুটি কর্ম বা মাফ’উল (مفعول) গ্রহণ করে。এগুলো মানুষের হৃদয় বা মস্তিষ্কের অনুভূতি, বিশ্বাস বা ধারণার সাথে সম্পর্কিত。 
ব্যাকরণবিদদের মতে, এই ধরনের ক্রিয়াগুলো প্রধানত ৭টি ভাগে বিভক্ত:
১. ইয়াqin বা দৃঢ় বিশ্বাসবাচক (أفعال اليقين)
  • عَلِمَ (আলিমা - জানা):
    • উদাহরণ: عَلِمْتُ زَيْداً قَائِمًا (আমি জায়িদকে দাঁড়ানো অবস্থায় জেনেছি বা নিশ্চিত হয়েছি)।
  • رَأَى (রাআ - দেখা/উপলব্ধি করা):
    • উদাহরণ: رَأَيْتُ الْعَدْلَ حَسَنًا (আমি ইনসাফকে সুন্দর দেখেছি/উপলব্ধি করেছি)।
  • وَجَدَ (ওয়াজাদা - পাওয়া/উপলব্ধি করা):
    • উদাহরণ: وَجَدْتُ اللَّهَ غَفُورًا (আমি আল্লাহকে ক্ষমাশীল পেয়েছি)। 
২. যন্ন্ বা সন্দেহ ও ধারণা বাচক (أفعال الظن)
  • ظَنَّ (যান্না - ধারণা করা/মনে করা):
    • উদাহরণ: ظَنَنْتُ زَيْداً أَخَاكَ (আমি জায়িদকে তোমার ভাই বলে ধারণা করেছি)।
  • حَسِبَ (হাসিবা - মনে করা/ধারণা করা):
    • উদাহরণ: حَسِبْتُ الْعَدُوَّ صَدِيقًا (আমি শত্রুকে বন্ধু বলে মনে করেছি)।
  • خَالَ (খালা - কল্পনা করা/মনে করা):
    • উদাহরণ: خِلْتُ الْهِلَالَ لَامِعًا (আমি নতুন চাঁদকে উজ্জ্বল মনে করেছি)।
  • زَعَمَ (যা'আমা - দাবি করা/ধারণা করা):
    • উদাহরণ: زَعَمَ زَيْدٌ الْعَمَلَ سَهْلًا (জায়িদ কাজটিকে সহজ বলে ধারণা বা দাবি করেছে)।


যে সকল মুতায়াদ্দী ৩ মাফউল গ্রহণ করে
আরবি ব্যাকরণে যে সকল ফেল বা ক্রিয়া তিনটি মাফউল (কর্ম) গ্রহণ করে, তাদের "আফআলুল মুতাআদ্দী ইলা সালাসাতি মাফাউল" (الأفعال المتعدية إلى ثلاثة مفاعيل) বলা হয়। মূল দুটি ক্রিয়া (أرى এবং أعلم) এবং এদের অর্থবহ অন্যান্য ক্রিয়া মিলিয়ে মোট ৭টি ফেল এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। 
৭টি প্রধান ক্রিয়া:
১. أَعْلَمَ (আ'লামা - কাউকে অবগত করা)
২. أَرَى (আরা - কাউকে দেখানো)
৩. أَخْبَرَ (আখবারা - কাউকে সংবাদ দেওয়া)
৪. خَبَّرَ (খাব্বারা - বিস্তারিত জানানো)
৫. حَدَّثَ (হাদ্দাসা - বর্ণনা করা / বলা)
৬. أَنْبَأَ (আম্বাবা - খবর দেওয়া)
৭. نَبَّأَ (নাবাবা - সংবাদ দেওয়া) 
কীভাবে ৩টি মাফউল কাজ করে:
  • এই ক্রিয়াগুলোর প্রথম মাফউলটি সাধারণত মূল বাক্যের 'ফায়েল' (কর্তা) হয়।
  • দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাফউল দুটি মূলত প্রাথমিক অবস্থায় 'মুবতাদা' ও 'খবর' ছিল, যা ক্রিয়াটি প্রয়োগের ফলে মাফউলে পরিণত হয়।
উদাহরণ:
বাক্য: أَعْلَمْتُ زَيْدًا عَمْرًا قَائِمًا (আমি জায়েদকে আমর সম্পর্কে জানিয়েছি যে সে দাঁড়ানো আছে)। 
  • أَعْلَمْتُ: ফেল (ক্রিয়া) + ফায়েল (সর্বনাম- কর্তা)
  • زَيْدًا: প্রথম মাফউল (মাফউল বিহি আউয়াল)
  • عَمْرًا: দ্বিতীয় মাফউল (মাফউল বিহি সানি)
  • قَائِمًا: তৃতীয় মাফউল (মাফউল বিহি ছালিস)

মানসুবাত আফআল কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি

মানসুবাত (المنصوبات) বলতে সেই ক্রিয়াগুলোকে বোঝায়, যেগুলো 'নসব' বা 'জবর' (/ ) অবস্থায় থাকে।

ইহা ৮ প্রকার: 
১. মাফউলু বিহি (المفعول به): কর্তা যার উপর কাজ সম্পন্ন করে। যেমন: জাইদ বই পড়ল। এখানে "বই" হলো মাফউলু বিহি।
২. মাফউলু লাহু (المفعول له): যে কারণ বা উদ্দেশ্যের জন্য কাজটি করা হয়। যেমন: সম্মানের জন্য দাঁড়ালাম।
৩. মাফউলু মা'আহু (المفعول معه): কোনো কিছুর সাথে বা সাথে যুক্ত হয়ে বোঝাতে যা ব্যবহৃত হয়। যেমন: আমি নদীর পাশ দিয়ে হাঁটলাম।
৪. মাফউলু ফিহী (المفعول فيه): কাজটি যে স্থান বা সময়ে সংঘটিত হয়েছে। যেমন: আমি সকালে (সময়) বাজারে (স্থান) গিয়েছিলাম।
৫. মাফউলু মুতলাক (المفعول مطلق): ক্রিয়ার ধরন বা আধিক্য বোঝাতে ক্রিয়ার মূল ধাতু থেকে গঠিত শব্দ। যেমন: সে খুব দ্রুত দৌড়াল।
 ৬. হাল
৭. তমিজ
৮. মুসতাসনা 

আসমায়ে আমেলা (الأسماء العاملة) বা আমলকারী বিশেষ্য হলো সেই সমস্ত বিশেষ্য বা ইসিম, যেগুলো নিজের শব্দার্থ প্রকাশের পাশাপাশি ক্রিয়ার (فعل) মতো কাজ করে এবং পরবর্তী শব্দের (ফায়েল বা মাফউল) মাঝে পরিবর্তন বা 'আমল' (إعراب) সাধন করে ।
اسماء عاملة فى الفعل ১০টি
-مَن-مَهمَا-اَى- حَيثُمَا-اِذمَا-مَتىٰ-اَينمَا-اَنىّٰ- ما

اسماء عاملة فى الاسم 
শব্দকে গণ্য করা হয়— যেমন: 
1. اسم الفاعل (اسم الفاعل)
2. اسم المفعول (اسم المفعول)
3. اسم التفضيل (তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্ববাচক)
4 & 5. اَسْمَاء اَفْعَال (৯টি) :حَيَّهَـلْ، هَـلُّـمَّ، عَـلَـيْـكَ، رُوَيْـدَ، بَلَهَ، دُوْنَـكَ، هَـيْـهَـاتَ، شَـتَّـانَ، سَرْعَـانَ.
6. আসমায়ে কিনায়াত (أسماء الكنايات) হলো এমন কিছু শব্দ বা সর্বনাম, যা নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা পরিমাণ সরাসরি প্রকাশ না করে অস্পষ্ট বা অনির্দিষ্টভাবে বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
এর প্রধান দুটি শব্দ হলো:
  • كم (কাম): কতটি (প্রশ্নবাচক বা সংখ্যা বোঝাতে)।
  • كذا (কাযা): এতটি / অমুকটি (নির্দিষ্ট সংখ্যা বা বস্তুর পরিবর্তে)। 
নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
আসমায়ে কিনায়াত এর প্রকার ও ব্যবহার
আরবি শব্দবাংলা অর্থউদাহরণ (আরবি)বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা
كم (কাম)কত / কতটিکم رجلا ضربت؟ [কাম রাজুলান দরাবতু?]তুমি কতজন লোককে প্রহার করেছ? (এখানে নির্দিষ্ট সংখ্যা লুক্কায়িত)
كذا (কাযা)এতটি / অমুকটিعندی کذا كتابا [ইনদী কাযা কিতাবান]আমার কাছে এতগুলো (যেমন: ২০, ৫০ বা ১০০) বই আছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
  • كم (কাম) এবং كذا (কাযা) এর পরের শব্দটি সবসময় ‘মানসুব’ (যবর বা ফাতহা বিশিষ্ট) হয় এবং তা একক ‘নাকেরাহ’ (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
7. المصدر (উৎস বা ধাতু)
8. اَسْمَاء مُضَافٌ
মুজাফ (مُضَافٌ) হলো এমন একটি বিশেষ্য (اسم)، যা তার পরবর্তী অন্য একটি বিশেষ্যের সাথে সম্পর্ক বা সম্বন্ধ স্থাপন করে 
সহজ কথায়, যে বিশেষ্যটির সাথে সম্পর্ক বা সম্বন্ধ যুক্ত করা হয়, তাকে মুজাফ (مضاف) বলে এবং যার দিকে সম্পর্ক বা সম্বন্ধ স্থাপন করা হয় তাকে মুজাফ ইলাইহি (مضاف إليه) বলে。 বাংলা ব্যাকরণে একে 'সম্বন্ধ পদ' (ষষ্ঠী বিভক্তি) বলা হয়। 
উদাহরণ:
আরবি বাক্যে: كِتَابُ زَيْدٍ (কিতাবু যায়দিন) - অর্থ: যায়েদের বই।
বিশ্লেষণ:
  • مضاف (মুজাফ): كِتَابُ (বই) - এটি প্রথম শব্দটি, যার সাথে সম্পর্ক জোড়া হচ্ছে।
  • مضاف إليه (মুজাফ ইলাইহি): زَيْدٍ (জায়েদ) - এটি দ্বিতীয় শব্দটি, যার দিকে সম্বন্ধটি করা হচ্ছে। 
মুজাফ (مضاف)-এর প্রধান নিয়মাবলী:
১. মুজাফের শুরুতে কখনো আলিফ-লাম (ال) যুক্ত হয় না。
২. এটি তানউইন (যেমন: ٌ, ٍ, ً) গ্রহণ করতে পারে না।
৩. মুজাফের শেষের হরকত বাক্যে তার অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
9.  الصفة المشبهة (উপমাবাচক বিশেষণ)
10. সিফাতে মুবালাগাহ (صفة المبالغة) বা ইসমে মুবালাগাহ হলো এমন বিশেষ্য (বিশেষণ) যা দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে বিদ্যমান কোনো গুণের আধিক্য, তীব্রতা বা অতিরঞ্জন বোঝায়。সহজ কথায়, সাধারণ গুণের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় কোনো গুণ প্রকাশ করতে এই শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়。 
সংজ্ঞা ও স্বরূপ:
এটি মূলত 'ইসমে ফায়েল' (কর্তৃবাচক বিশেষ্য)-এর রূপ থেকে গঠিত হয়, কিন্তু এর অর্থের মাঝে আধিক্যতা (Hyperbole) সৃষ্টি করা হয়。 আরবি ভাষায় গুণ বা সিফাতটি কতটা প্রবল, তা প্রকাশ করার জন্য এটি নির্ধারিত ওজনের (ওয়াজনের) হয়ে থাকে。 
প্রধান ওজন বা সিগা:
সিফাতে মুবালাগাহ গঠনের জন্য আরবী ভাষায় কিছু নির্দিষ্ট সুপরিচিত ওজন রয়েছে। যেমন:
  • فعّال (ফাল-আল): যেমন, غفّار (গাফফার - অত্যন্ত ক্ষমাশীল)
  • فعيل (ফাইল): যেমন, عليم (আলিম - মহাজ্ঞানী)
  • مفعال (মিফআল): যেমন, منحر (মিকহার - অধিক কোরবানিদাতা)
  • فعول (ফাইল): যেমন, صبور (সাবুর - অত্যন্ত ধৈর্যশীল)
  • فَعِل (ফায়িল): যেমন, حذر (হাজির - খুব সতর্ক) 
বাস্তব উদাহরণ:
উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনকারী হলে তাকে বলা হয় 'আলিম' (عالم)। কিন্তু সেই ব্যক্তির মাঝে যদি জ্ঞানের চরম আধিক্য বোঝাতে হয়, তখন বলা হয় 'আলীম' (عليم)। এই 'আলীম' শব্দটাই হলো সিফাতে মুবালাগাহ, যার অর্থ 'মহাজ্ঞানী'
11. যে বিশেষ্য বা সর্বনামটি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয় তাকে মুবতাদা (المُبْتَدَأُ) বলে
12. মুবতাদা সম্পর্কে যে নতুন তথ্য, খবর বা বিবরণ দেওয়া হয় তাকে খবর (الخَبَرُ) বলে।
সহজ ভাষায়, বাক্যের উদ্দেশ্য বা Subject হলো মুবতাদা এবং বিধেয় বা Predicate হলো খবর। 
উদাহরণ:
বাক্য: زَيْدٌ قَائِمٌ (যায়েদ দাঁড়িয়ে আছে) 
  • مبتدأ (মুবতাদা): زَيْدٌ (যায়েদ - এটি বাক্যের শুরু এবং তাকে নিয়েই কথা বলা হচ্ছে)
  • خبر (খবর): قَائِمٌ (দাঁড়িয়ে আছে - এটি যায়েদ সম্পর্কে তথ্য বা খবর দিচ্ছে)
13. সংখ্যা বাচক বিশেষ্যকে عدد (আদাদ) বলা হয়। যার দ্বারা কোনো কিছু গণনা করা হয় বা পরিমাণ বোঝায় তাকে عدد বলে
আরবি ব্যাকরণে عدد (সংখ্যা) এবং তার সাথে সম্পর্কিত গণনাযোগ্য বিষয় معدود (মাদূদ) নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিস্তারিত নিয়ম: 
  • মাদূদ (Maddod): সংখ্যা দ্বারা যা গণনা করা হয় তাকে معدود বলে।
  • عدد ও معدود এর সম্পর্ক: ১ থেকে ২ পর্যন্ত সংখ্যার ক্ষেত্রে عدد এবং معدود পরস্পরের লিঙ্গ ও বচন (বচন) অনুসারে একই রকম হয় (যেমন: رجل واحد)। ৩ থেকে ১০ পর্যন্ত সংখ্যার ক্ষেত্রে عدد (عدد) স্ত্রীলিঙ্গ হলে معدود পুংলিঙ্গ হয়, এবং عدد পুংলিঙ্গ হলে معدود স্ত্রীলিঙ্গ হয়।
14. (الصرف) ওজন (الوزن - অওয়াযান) হলো শব্দের গঠন বা পরিমাপের ছাঁচ。আরবি ভাষার প্রায় সব শব্দ নির্দিষ্ট মূল অক্ষর থেকে তৈরি হয়। এই মূল অক্ষরগুলোর সাথে অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। যে কাঠামো বা ছাঁচের মাধ্যমে শব্দের এই রূপ, ওজন ও অর্থ পরিবর্তন মাপা হয়, তাকে 'ওজন' বলে。 
মূল শব্দ হিসেবে সাধারণত ফ-আ-ল (ف-ع-ل) বা fa3ala কে প্রমাণ ধরা হয়。উদাহরণস্বরূপ: 
  • ওজন: فاعِلٌ (faa3il)
  • মূল শব্দ (নাসর): نصر
  • নতুন শব্দ: ناصِرٌ (naasir)
এখানে 'নাসির' শব্দটি 'ফায়িল' ওজনের সাথে মিলে তৈরি হয়েছে যার অর্থ সাহায্যকারী। 
ওজন ব্যবহারের প্রধান সুবিধা হলো:
  • অর্থ নির্ধারণ: একই মূল শব্দ থেকে বিভিন্ন ওজনে শব্দ তৈরি করে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ (যেমন: আধিক্য, স্থান, পাত্র বা কাজের নাম) প্রকাশ করা যায়。
  • মুখস্থ করার সহজ উপায়: কোনো শব্দের ওজন জানা থাকলে, আরবি ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী নতুন শব্দ দেখেই তার গঠন ও উচ্চারণ চিনে ফেলা যায়。 
কিছু বহুল ব্যবহৃত ওজনের উদাহরণ:
  • مَفْعَلٌ (maf'alun): স্থান বা সময় বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। (যেমন: مَكْتَبٌ - লেখার জায়গা বা অফিস)।
  • مِفْعَالٌ (mif'aalun): কোনো কাজের আধিক্য বোঝাতে। (যেমন: مِفْتَاحٌ - চাবি)।
  • فَعَّالٌ (fa''aalun): পেশা বা অতিশয্য বোঝাতে। (যেমন: نَجَّارٌ - কাঠমিস্ত্রি)।
15. قِيلَ (কীলা) হলো فعل (ক্রিয়া) বা verb-এর একটি রূপ。 
সহজ কথায় এর বিস্তারিত পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:
  • অর্থ: "বলা হয়েছিল" (It is said / It was said)。 এটি প্যাসিভ ভয়েস বা কর্মবাচ্যের ক্রিয়া।
  • কাল: অতীতকাল (فعل الماضي مجهول - Past Indefinite Tense)।
  • মূল ধাতু: ق و ل (ক্ব-ওয়াও-লাম), যার অর্থ 'বলা'。 
শব্দটির বিশ্লেষণ (তাহকীক):
  • সিগাহ (বচন ও পুরুষ): صِيغَة وَاحِد مُذَكَّر غَائِب (Singular Masculine Third Person)। অর্থাৎ, এটি দিয়ে একজন অনুপস্থিত পুরুষকে বোঝায়。
  • বাব বা গঠন: এটি নাছারা (نصر) বাবের অন্তর্ভুক্ত
16. ساحت" (المساحة) বলতে মূলত পরিমাপ, স্থান বা আয়তনকে বোঝায়। যখন কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ বা ক্ষেত্রফল প্রকাশ করতে হয়, 
আরবি ব্যাকরণে এর ব্যবহারিক প্রয়োগ:
আরবি ব্যাকরণে পরিমাপের ক্ষেত্রে সাধারণত তাময়ীজ (تمييز) এর নিয়ম প্রযোজ্য হয়। ওজন বা মাপ (যেমন: বর্গমিটার, হেক্টর) বোঝাতে নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে তার পরের শব্দটিকে মানসূব (Mansub/Fatha যুক্ত) করা হয়। যেমন: 
  • শব্দ: مَسَاحَة (Masaahah - ক্ষেত্রফল/এলাকা)

تابع (তাবে বা অনুগামী):
تابع (তাবে বা অনুগামী) হলো এমন একটি শব্দ বা পদ, যা তার পূর্ববর্তী পদের ব্যাকরণগত অবস্থা বা ইরাব (اعراب) হুবহু অনুসরণ করে। পূর্ববর্তী পদটিকে متبوع (মাতবু) বলা হয়। 
تابع বা তাবে ৫ প্রকার:
১. না’ত (نعت - গুণ বা বিশেষণ): যা পূর্ববর্তী শব্দের দোষ, গুণ, অবস্থা ইত্যাদি প্রকাশ করে। [1]
  • উদাহরণ: جَاءَ رَجُلٌ عَالِمٌ (একজন জ্ঞানী লোক আসলেন)। এখানে 'عَالِمٌ' (জ্ঞানী) শব্দটি 'رَجُلٌ' (লোক) শব্দের না’ত বা গুণ।
২. আত্বফ (عطف - সংযোজক): حرف عطف (যেমন- وَ , ثُمَّ ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত হয়ে আগের পদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা পদ। 
  • উদাহরণ: جَاءَ زَيْدٌ وَبَكْرٌ (যায়েদ ও বকর আসলো)। এখানে 'بَكْرٌ' হলো মাতবু-এর আত্বফ।
৩. তাওকীদ (تأكيد - জোর প্রদানকারী): পূর্ববর্তী শব্দের অর্থকে জোরালো বা নিশ্চিত করার জন্য যে পদ ব্যবহার করা হয়। 
  • উদাহরণ: جَاءَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ (সব কওম বা লোকেরা আসলো)। এখানে 'كُلُّهُمْ' শব্দটি তাওকীদ।
৪. বাদল (بدل - পরিবর্তন বা প্রতিনিধি): মূল উদ্দেশ্য বা পদকে বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে যে পদটি ব্যবহৃত হয় এবং মূল পদের স্থলাভিষিক্ত হয়। 
  • উদাহরণ: جَاءَ أَخُوكَ زَيْدٌ (তোমার ভাই যায়েদ আসলো)। এখানে 'زَيْدٌ' হলো বাদল, যা 'أَخُوكَ' এর প্রতিনিধি।
৫. আত্বফ-ই-বায়ান (عطف بيان - সুস্পষ্টকারী): যে পদটি তার আগের অস্পষ্ট শব্দ বা নামকে সুস্পষ্ট করে। 
  • উদাহরণ: أَقْسَمَ اللَّهُ رَبُّ الْعِزَّةِ (আল্লাহ কসম করেছেন, যিনি সম্মানের রব)। এখানে 'رَبُّ' হলো 'اللَّهُ' শব্দের আত্বফ-ই-বায়ান।

না’ত (نَعْتٌ)
না’ত (نَعْتٌ) হলো এমন একটি শব্দ যা তার পূর্ববর্তী বিশেষ্য পদের গুণ, দোষ, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। আরবিতে একে সিফাহ (صِفَةٌ)-ও বলা হয়। যে বিশেষ্য বা নামপদটির গুণ বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়, তাকে বলা হয় মান‘উত (مَنْعُوتٌ) বা মাওসুফ (مَوْصُوفٌ)। 
না’ত ও মান‘উত (বিশেষণ ও বিশেষ্য)-এর নিয়ম:
আরবি ব্যাকরণে না’ত সর্বদা তার মান‘উতের অনুগামী (তাবা‘ঈ) হয়। অর্থাৎ, লিঙ্গ, বচন, নির্দিষ্ট-অনির্দিষ্ট হওয়া এবং কারক/বিভক্তি (اعراب) এর ক্ষেত্রে না’ত ও মান‘উত হুবহু এক হতে হবে। 
গঠনের দিক থেকে সাধারণত না’ত দুই প্রকার:
১. নাত হাকীকী (النعت الحقيقي)
সংজ্ঞা: যে বিশেষণ সরাসরি তার পূর্ববর্তী বিশেষ্যের (মান‘উত) নিজস্ব কোনো গুণ বা অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে নাত হাকীকী বলে। 
বৈশিষ্ট্য:
এই ধরনের বিশেষণটি তার বিশেষ্যের সাথে ৪টি বিষয়ে হুবহু মিলে যায়:
১. বচন (একবচন, দ্বিবচন বা বহুবচন)।
২. লিঙ্গ (পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ)।
৩. অবস্থা (নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট)।
৪. কারক বা স্বরচিহ্ন (اعراب)। 
উদাহরণ:
  • جَاءَ الرَّجُلُ الْعَالِمُ (জাআর রাজুলুল আলিমু) - জ্ঞানী লোকটি আসল। এখানে الْعَالِمُ (জ্ঞানী) হলো বিশেষণ, যা সরাসরি الرَّجُلُ (লোকটি)-কে নির্দেশ করছে। 

২. নাত গায়ের হাকীকী / নাত সাবাবী (النعت غير الحقيقي / السببي)
সংজ্ঞা: যে বিশেষণটি সরাসরি তার পূর্ববর্তী শব্দের কোনো গুণ প্রকাশ করে না, বরং বিশেষ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত অন্য কোনো বিষয়ের গুণ বা অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে নাত গায়ের হাকীকী বা নাত সাবাবী বলে।
বৈশিষ্ট্য:
১. এটি সর্বদা একবচন (مفرد) হয়।
২. এটি লিঙ্গের দিক থেকে পরবর্তী শব্দের (যাকে বিশেষায়িত করছে) সাথে মিল থাকে।
৩. এর মধ্যে একটি সর্বনাম (ضمير) থাকে, যা পূর্ববর্তী বিশেষ্যের দিকে ফিরে যায়। 
উদাহরণ:
  • جَاءَ الرَّجُلُ الْعَالِمُ أَبُوهُ (জাআর রাজুলুল আলিমু আবূহু) - এমন একজন লোক আসল যার বাবা জ্ঞানী।
    এখানে الْعَالِمُ (জ্ঞানী) শব্দটি الرَّجُلُ (লোকটি) সরাসরি নয়, বরং তার বাবা (أَبُوهُ)-এর গুণ প্রকাশ করছে। তাই এটি নাত গায়ের হাকীকী
এছাড়াও পদের কাঠামোর উপর ভিত্তি করে না'ত ৩ ভাগে বিভক্ত হতে পারে: একক শব্দ (মুফরাদ), বাক্য (জুমলা) এবং বাক্যাংশ (শবহু জুমলা)। 
উদাহরণ (النَّعْت الحَقِيقِيّ):
১. মুফরাদ বা একক শব্দ (একবচন, পুংলিঙ্গ, অনির্দিষ্ট):
  • আরবি: قَلَمٌ جَدِيدٌ
  • বাংলা অর্থ: একটি নতুন কলম
  • বিশ্লেষণ: এখানে قَلَمٌ (কলম) হলো মান‘উত এবং جَدِيدٌ (নতুন) হলো না’ত। 
২. নির্দিষ্ট ও বহুবচন:
  • আরবি: الرِّجَالُ الصَّالِحُونَ
  • বাংলা অর্থ: সৎ মানুষগুলো
  • বিশ্লেষণ: এখানে الرِّجَالُ (মানুষেরা) হলো মান‘উত এবং الصَّالِحُونَ (সৎ) হলো তার না’ত। 
৩. লিঙ্গ ও বচন অনুযায়ী মিল (দ্বিবচন, স্ত্রীলিঙ্গ):
  • আরবি: بِنْتَانِ جَمِيلَتَانِ
  • বাংলা অর্থ: দুই জন সুন্দরী মেয়ে
  • বিশ্লেষণ: এখানে بِنْتَانِ হলো মান‘উত এবং جَمِيلَتَانِ হলো না’ত। উভয় শব্দই স্ত্রীলিঙ্গ এবং দ্বিবচন।

তাকীদ বা তাওকীমূল (التاكيد / التوكيد)
তাকীদ বা তাওকীমূল (التاكيد / التوكيد) হলো এমন একটি শব্দ বা অনুসৃত পদ (التابع), যা তার পূর্ববর্তী শব্দের (متبوع) অর্থকে সুদৃঢ়, স্পষ্ট বা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়。
তাকীদ মূলত দুই প্রকার:
১. তাকীদ লাফযী (التوكيد اللفظي):
যে তাকীদে মূল শব্দ বা বাক্যকে হুবহু পুনরাবৃত্তি করে অর্থের দৃঢ়তা আনা হয়। 
  • উদাহরণ: جاء زيدٌ زيدٌ (যায়েদ স্বয়ং এসেছে)। এখানে 'যায়েদ' শব্দটির পুনরাবৃত্তি করে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। 
২. তাকীদ মানাভী (التوكيد المعنوي):
যে তাকীদে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ (যেমন- نفس، عين، كل، جميع ইত্যাদি) ব্যবহার করে অর্থকে সুদৃঢ় করা হয়।
  • উদাহরণ: جاء القومُ كلُّهم (সবাই এসেছে)। এখানে 'كلّهم' শব্দটি ব্যবহার করে আগতদের শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। 
التوكيد المعنوي নির্দিষ্ট ১০টি শব্দ দ্বারা হয়:
  1. النَّفْسُ
  2. العَيْنُ
    (يُجمعان على: أَنْفُس، وأَعْيُن)
     
للمثنى (توكيد المثنى):
3. كِلَا (للمثنى المذكر)
4. كِلْتَا (للمثنى المؤنث)
للشمول والإحاطة (توكيد الجمع والمفرد ذي الأجزاء):
5. كُلّ
6. جَمِيع
7. عَامَّة
لتوكيد الشمول وتقويته (ألفاظ ملحقة لـ "كل"):
8. أَجْمَع (للمفرد المذكر والمؤنث، وتُجمع على أجمعون/جمع)
9. أَكْتَع
10. أَبْتَع / أَبْصَع

বদল (بدل)
পূর্ববর্তী শব্দের (مبدل منه) পরিবর্তে বা তার ব্যাখ্যা হিসেবে ব্যবহৃত শব্দকে বদল (بدل) বলা হয়। বদল তার পূর্ববর্তী শব্দের অনুরূপ ইরাব বা কারক গ্রহণ করে। মূলত মূল উদ্দেশ্য বা বদলের পরিচয় উদ্ঘাটনের জন্যই এটি আনা হয়। 
বদল প্রধানত ৪ প্রকার:
১. দল বদল (بدل الكل من الكل / بدل المطابق): বদল এবং মুবদালুন মিনহু একই বস্তু বা ব্যক্তি হয়।
  • উদাহরণ: جاء الخليفة عمر (খলিফা ওমর এসেছেন)। এখানে 'ওমর' এবং 'খলিফা' একই ব্যক্তি।
২. কিছু অংশ বদল (بدل البعض من الكل): বদলটি মুবদালুন মিনহুর একটি অংশ বা টুকরা হয়।
  • উদাহরণ: أكلت الرغيف ثلثه (আমি রুটির এক-তৃতীয়াংশ খেয়েছি)।
৩. সূক্ষ্ম বদল (بدل الاشتمال): বদলটি মুবদালুন মিনহুর কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্য হয়, যা তার অংশ নয়।
  • উদাহরণ: نفعني زيد علمه (জায়েদের জ্ঞান আমাকে উপকৃত করেছে)। এখানে তার জ্ঞান হলো বদল।
৪. ভ্রম বদল (بدل الغلط): বক্তা ভুল শব্দ বলে ফেলার পর সঠিক শব্দটি বদল হিসেবে ব্যবহার করেন।
  • উদাহরণ: جاءني رجل فرس (আমার কাছে একটি লোক... না বরং একটি ঘোড়া এসেছে)।

عطف بيان (আতফে বয়ান)
عطف بيان (আতফে বয়ান) হলো আরবি ব্যাকরণের একটি পরিভাষা。 এটি এমন একটি শব্দ (تابع বা অনুগামী) যা তার পূর্ববর্তী শব্দের (متبوع) অর্থকে আরও স্পষ্ট ও পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত হয়, এটি কোনো বিশেষণ নয়, বরং পূর্ববর্তী অস্পষ্ট শব্দের সমর্থক বা দ্বিতীয় নাম. 
عطف بيان-এর প্রকারভেদ
আরবি ব্যাকরণবিদদের মতে, عطف بيان-এর নির্দিষ্ট কোনো কাঠামোগত প্রকারভেদ নেই。 তবে ব্যবহারের ভিত্তিতে এটি সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত:
১. বদল বা বদলি নাম (নাম বা উপাধি): ব্যক্তির নামের পাশাপাশি তার উপাধি বা বংশপরিচয় স্পষ্ট করা।
২. গুণবাচক প্রকাশ: নির্দিষ্ট কোনো বস্তুর সাধারণ নামের পাশাপাশি তার প্রসিদ্ধ নামটি উল্লেখ করা। 
উদাহরণসমূহ
আরবি বাক্যে عطف بيان-এর কিছু সহজ উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
  • উদাহরণ ১: جاءني أبو حفصٍ عمرٌ (আবু হাফস আমার কাছে আসলেন)
    এখানে عمرٌ (উমর) শব্দটি أبو حفصٍ (আবু হাফস)-এর عطف بيان। কারণ, আবু হাফস হলো উপনাম এবং উমর হলো আসল নাম। উমর শব্দটি দ্বারা পূর্বের নামটি আরও স্পষ্ট হয়েছে。
  • উদাহরণ ২: أقسم بالله أبو حفصٍ (আল্লাহর কসম আবু হাফস করেছেন)
  • উদাহরণ ৩: مررتُ بأخيكَ زيدٍ (আমি তোমার ভাই যায়েদের পাশ দিয়ে গেলাম)
    এখানে زيدٍ (জায়েদ) হলো أخيكَ (তোমার ভাই)-এর عطف بيان, যা বুঝাচ্ছে কার কথা বলা হচ্ছে
  • উদাহরণ ৪: نَصَرَ زَيْدٌ أخوكَ (তোমার ভাই যায়েদ সাহায্য করেছে)
দুটি শব্দ বা বাক্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ১০টি নির্দিষ্ট অব্যয় বা শব্দ ব্যবহৃত হয়, যেগুলোকে حروف العطف (হুরুফুল আতফ) বলা হয় । 
প্রখ্যাত নাহুবিদদের মতে (যেমন 'আল-আজরুমিয়্যাহ' গ্রন্থ অনুযায়ী), এই অব্যয় বা শব্দ মোট ১০টি। 
নিচে এই ১০টি নির্দিষ্ট শব্দ, তাদের কাজ এবং উপযুক্ত উদাহরণ দেওয়া হলো: 
১. الواو (ওয়াও): একত্রে বা সাধারণভাবে অংশগ্রহণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
  • উদাহরণ: جَاءَ زَيْدٌ وَعَمْرٌو (জায়েদ এবং আমর এসেছে)। 
২. الفاء (ফা): ধারাবাহিকতা এবং তাৎক্ষণিকতা (বিলম্ব ছাড়া) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
  • উদাহরণ: دَخَلَ الْحَارِسُ فَالْمُدِيرُ (প্রহরী প্রবেশ করল, অতঃপর পরিচালক)। 
৩. ثم (ছুম্মা): ধারাবাহিকতা এবং বিরতি বা বিলম্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
  • উদাহরণ: كَانَ طِفْلًا ثُمَّ شَابًّا (সে শিশু ছিল, এরপর যুবক হয়েছে)। 
৪. أو (আউ): সন্দেহ, বিকল্প বা কোনো একটি বেছে নেওয়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
  • উদাহরণ: تَكَلَّمْ عَرَبِيًّا أَوْ فَرَنْسِيًّا (আরবি অথবা ফরাসি ভাষায় কথা বলো)। 
৫. أم (আম): প্রশ্নবোধক বাক্যে দুটির মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো একটিকে বেছে নিতে বা তালাবুত তা'য়িন (طلب التعيين) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
  • উদাহরণ: أَأَنْتَ فَعَلْتَ هَذَا أَمْ غَيْرُكَ؟ (তুমি কি এটি করেছ, নাকি অন্য কেউ?)
৬. حتى (হাত্তা): শেষ বা চূড়ান্ত পর্যায় (غاية) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
  • উদাহরণ: مَاتَ النَّاسُ حَتَّى الْأَنْبِيَاءُ (মানুষ মারা গেছে, এমনকি নবীরাও)
৭. لا (লা): না-বোধক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
  • উদাহরণ: أُرِيدُ السَّلَامَ لَا الْحَرْبَ (আমি শান্তি চাই, যুদ্ধ নয়)।
৮. بل (বাল): পূর্বের বক্তব্য থেকে ফিরে আসা (ইজরার) বা সংশোধন বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
  • উদাহরণ: جَاءَ مُحَمَّدٌ بَلْ عَلِيٌّ (মুহাম্মদ আসেনি, বরং আলী এসেছে)
৯. لكن (লাকিন্না): পূর্বের কথা সংশোধিত করে নতুন তথ্য যোগ করতে বা ইসতিদরাক (الاستدراك) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
  • উদাহরণ: مَا جَاءَ زَيْدٌ لَكِنْ عَمْرٌو (জায়েদ আসেনি, কিন্তু আমর এসেছে) 
১০. إما (ইম্মা): দুটি বিষয়ের মধ্যে তুলনা, ভাগ করা বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
  • উদাহরণ: ﴿فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً﴾ (এরপর হয় অনুগ্রহ করবে, না হয় মুক্তিপণ গ্রহণ করবে)। 
এই অব্যয়গুলো দিয়ে গঠিত বাক্যে حرف العطف ( conjunction particle) এর পূর্বের অংশকে বলে معطوف عليه ( মাতুফুন আলাইহ) এবং পরের অংশকে বলে معطوف ( মাতুফ)। ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী ‘মাতুফ’ সর্বদা ‘মাতুফুন আলাইহ’ এর এরাব বা হরকত অনুসরণ করে (যেমন: পেশ, জবর বা জের গ্রহণ করে)। 


Post a Comment

0 Comments