তিন (০৩) নিয়ে নারীর পর্দা, শুধু বোরকা নয়!
নারী হল পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও আকর্ষণীয় সৃষ্টি। সেই নারীর বিষয়ে কোরআনে বারবার আলোচনা করা হয়েছে। হ্যাঁ, নারী হল পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময়ী সুন্দরী। আর আমরা সবাই জানি রহস্যময় হল তাই যা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই! আর নারীর সৌন্দর্য নিয়েও মানুষের কৌতুহল অনেক।
আমাদের সমাজে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে শুধু বোরকা পরলেই পর্দা হয়ে যায়। কিন্তু কোরআন-হাদিসে নারীকে বিভিন্নভাবে তার সৌন্দর্য ঢেকে রাখতে বলা হয়েছে। এবং কোরআন-হাদিসে নারীকে বারবার পর্দা করতে বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো পর্দা কিভাবে করতে হবে। পর্দা তিন (০৩) ভাবে মানতে হয়, এই তিনটির কোন একটি লঙ্ঘন করলে কবিরা গুনাহ হবে। যেমন -
১/ বলনে অর্থাৎ কথায় নারীর পর্দা
২/ চলনে অর্থাৎ হাঁটায় নারীর পর্দা
৩/ শরীরে অর্থাৎ দেহে নারীর পর্দা
চলুন যে তিন দিক মেনে চললে নারীর পর্দা হয় তা দেখে নেয়া যাকঃ
১/ বলনে নারীর পর্দাঃ
যে নারী সৃষ্টিগত ভাবে রহস্যময়ী সে নারীর সব কিছুই আকর্ষণীয় অর্থাৎ তার কথা বলনেও আমাদের মন রাঙ্গিয়ে তোলে। নারীর পর পুরুষের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা নিষেধ। জরুরী প্রয়োজন হলে মুখে কাপড় দিয়ে কথা বলবেন তাই ইসলামের নির্দেশ।
কোরআনের আয়াতেঃ
আল্লাহ বলেন "হে নাবীর পত্নীরা (নবী সঃ স্ত্রীদের বলার মাধ্যমে সকল বিশ্বাসী নারীর প্রতি ঈঙ্গিত করা হয়েছে) তোমরা অন্য নারীদের মত নও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তাহলে পর-পুরুষের সাথে কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলোনা যাতে অন্তরে যার ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ (নারীকে যৌন চাহিদা মিটাতে পেতে চাওয়া) হয় এবং তোমরা ন্যায় সঙ্গত কথা বলবে। (Al-Ahzab 33:32)"
নারীর কন্ঠও কৌকিলা কন্ঠ কারণ আল্লাহ নারীদের পুরুষদের আকৃষ্ট করার মত সকল যোগ্যতা দিয়েই তৈরি করেছেন।
হাদীসের বাণীঃ
ওকবা ইবনে আমের জুহানী রা.-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-তোমরা নারীদের নিকট যাওয়া থেকে বিরত থাক। এক আনসারী সাহাবী আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! স্বামী পক্ষীয় আত্মীয় সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললে, সে তো মৃত্যু। -সহীহ বুখারী ৯/২৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২১৭২; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১১৭১; মুসনাদে আহমাদ ৪/১৪৯, ১৫৩
হযরত উমাইমা বিনতে রুকাইকা রা. থেকে বাইয়াত সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ হাদীসে আছে যে, নারীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের প্রতি আমাদের নিজেদের চেয়েও মেহেরবান। সুতরাং আপনার হাত মোবারক দিন, আমরা বাইয়াত হই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি নারীদের সাথে হাত মিলাই না। (যা মুখে বলেছি তা মেনে চলাই তোমাদের জন্য অপরিহার্য)।-মুয়াত্তা মালিক
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহর কসম! বাইয়াতের সময় তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি শুধু মুখে বলতেন, তোমাকে বাইয়াত করলাম।-সহীহ বুখারী ২/১০৭১
২/ চলনে নারীর পর্দাঃ
কোরআনে পুরুষের জোরে হাঁটাকে গর্বের দিকে ইঙ্গিত করে তা করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর নারীর জোরে হাঁটাকে পর্দা লঙ্ঘনের দিকে ইঙ্গিত করে তাও করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, দুইজন সৃষ্টিগত দিক থেকে আলাদা আর দুইজনের কর্মক্ষেত্রও আলাদা। পুরুষ নারীর মনোরঞ্জন করে বিনিময়ে পুরুষের মনে প্রশান্তি এনে দেয় নারী। পুরুষ হল সবল আর নারী হল দুর্বল।
কোরআনের আয়াতেঃ
"......ঈমান আনয়নকারিনী নারীদেরকে বলঃ তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে (রাস্তায় হাঁটার সময় পরপুরুষের দেকে তাকাবেনা এবং মোবাইল বা টেলিভিশনে পরপুরুষের দিকে তাকাবেনা) এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযাত করে।......" (সূরা- আন নূর ৩১)
".....তারা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশে সজোরে পদক্ষেপ না ফেলে। হে মু’মিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (An-Nur 24:31)"
আল্লাহ কোরআনে বলন, "এবং তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে; প্রাচীন জাহেলী যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবেনা।... (Al-Ahzab 33:33)"
তোমরা তাঁদের (নবী পত্নীদের) নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাও। এই বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ।...... (সূরা আহযাব (৩৩) : ৫৩)
হাদীসের বাণীঃ
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন, “যে নারী সুগন্ধি মেখে (পুরুষ) জনসমষ্টির পাশ দিয়ে গমন করে যাতে করে তার সুগন্ধি তাদের নাকে লাগে সে নারী ব্যভিচারী।” (মুসনাদে আহমাদ: ৪/৪১৮)
হযরত ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-যখনই কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে একান্তে সাক্ষাত করে তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।-জামে তিরমিযী
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম তখন আমাদের পাশ দিয়ে অনেক কাফেলা অতিক্রম করত। তারা যখন আমাদের সামনাসামনি চলে আসত তখন আমাদের সকলেই চেহারার ওপর ওড়না টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার তা সরিয়ে নিতাম।-মুসনাদে আহমাদ ৬/৩০; ইবনে মাজাহ,
হাদীস: ২৯৩৫ (এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, পরপুরুষের সামনে চেহারা ঢেকে রাখা আবশ্যক।)
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, একজন মহিলা পর্দার পিছন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে একটি কাগজ দিতে চাইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাত গুটিয়ে নিলেন (কাগজটি নিলেন না এবং) বললেন, আমি জানি না, এটা কি পুরুষের হাত না নারীর। মহিলা আরজ করলেন, ‘নারীর হাত।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি যদি নারী হতে তাহলে নিশ্চয়ই নখে মেহেদী থাকত।’-সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়ী
এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, পীর-মুর্শিদ ও উস্তাদের সাথেও পর্দা করা অপরিহার্য।
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
দুই শ্রেণীর দোযখী এখনও আমি দেখিনি। (কারণ তারা এখন নেই, ভবিষ্যতে আত্মপ্রকাশ করবে) এক শ্রেণী হচ্ছে ঐ সকল মানুষ, যাদের হাতে ষাঁড়ের লেজের মতো চাবুক থাকবে, যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে। (দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে) ঐ সকল নারী, যারা হবে পোশাক পরিহিতা, নগ্ন, আকৃষ্ট ও আকৃষ্টকারী; তাদের মাথা হবে উটের হেলানো কুঁজের ন্যায়। এরা জান্নাতে যাবে না এবং জান্নাতের খুশবুও পাবে না অথচ জান্নাতের খুশবু তো এত এত দূর থেকে পাওয়া যাবে।-মুসলিম ২/২০৫, হাদীস : ২১২৮
হযরত আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, নারী পর্দাবৃত থাকার বস্তু। যখন সে পর্দাহীন হয়ে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়। (তিরমিযী: ১১৭৩)
হযরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, একদা তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাহাবীদের উদ্দেশ্যে) বললেন, মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয় কোনটি? তারা চুপ হয়ে গেলেন। (কেউ বলতে পারলেন না)
অতপর
আমি ফিরে এসে ফাতেমা (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম
বিষয় কোনটি ? তিনি বললেন, কোনো পরপুরুষ তাকে দেখবে না (অর্থাৎ নারী
পর্দাবৃত থাকবে)। তারপর আমি ঐ বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, নিশ্চয় ফাতেমা আমার অংশ, সে সত্য
বলেছে)। (মুসনাদুল বাযযার: ৫২৬)
৩/ শরীরে নারীর পর্দাঃ
নারী শরীরও খুব আকর্ষণীয় পুরুষের নিকট। পুরুষের শরীরের গঠন ততটা আকর্ষণীয় নয় যতটা একজন নারীর শরীরের গঠন। তাই নারীর সৌন্দর্য উপভোগ পুরুষের কামনা বাসনার বিষয়। চলুন দেখি আল্লাহ কিভাবে শরীর ঢাকা পছন্দ করেন।
কোরআনের আয়াতেঃ
"......,তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নীপুত্র, আপন নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন কামনা রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কারও নিকট তাদের আভরণ প্রকাশ না করে।......"(An-Nur 24:31)"
হে নাবী! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মু’মিনা নারীদেরকে বলঃ তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবেনা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (Al-Ahzab 33:59)
হাদীসের বাণীঃ
উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দিহয়া কালবী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে কাপড় হাদিয়া দিয়েছেন সেগুলোর মধ্য থেকে একটি মোটা কুবতী কাপড় (যা খুব নরম হয়ে থাকে) তিনি আমাকে পরিধান করার জন্য দেন। আমি কাপড়টি আমার স্ত্রীকে পরতে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, কী ব্যাপার, তুমি কুবতী কাপড়টি পরিধান করনি কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা আমার স্ত্রীকে পরতে দিয়েছি। তখন তিনি আমাকে বললেন, তুমি তাকে নির্দেশ দাও সে যেন এর নিচে আরেকটা কাপড় পরে নেয়। কারণ, আমার ভয় হচ্ছে যে, ঐ কাপড়টি তার হাড়ের আকৃতি বর্ণনা করবে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১৭৮৬
উল্লেখিত বর্ণনা থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, এমন পোশাক পরা যাবে না যার দ্বারা সতর যথাযথভাবে আবৃত হয় না বা যা পরার পরও সতরের আকৃতি বুঝা যায়।
অতএব আঁটসাঁট পায়জামা পরলে সতরের আকৃতি বাহির থেকে ফুটে উঠে। তাই এটিও হাদীসের নিষিদ্ধ পোশাকেরই অন্তর্ভুক্ত। অতএব এ ধরনের পায়জামার উপর কিছু না পরে তা পরা যাবে না।
পুরুষ-নারীর চোখের পর্দাঃ
নারীর চোখের পর্দাও করতে হয়। কোন কোন নারী পুরো শরীর বোরকায় ঢাকে কিন্তু নিজে পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পর পুরুষদের শারীরিক সৌন্দর্য উপভোগ করে। আবার কোন কোন নারী চোখে কালো চশমা পরে নিজের চোখ ঢাকলেও, রাস্তায় হাঁটার সময় সব পুরুষকে কালো চশমার ফাঁক দিয়ে দেখে অর্থাৎ চশমা এমনভাবে পরে তার চোখ অন্যরা না দেখলেও সেই সবাইকে দেখে!
অথচ নবী সঃ এর দুই স্ত্রী তার সাথে থাকা অবস্থায়, তখন তার সামনে এক অন্ধ পুরুষ সাহাবী এসেছিল। তখন নবী সঃ বললেন তোমরা অন্ধ পুরুষ সাহাবী হতে পর্দা কর। তার স্ত্রীগণ বললেন মানুষটিতো অন্ধ। সাথে সাথে নবী সঃ তাদের স্বরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, তোমরা তো অন্ধ না। তোমাদের চোখ দিয়ে তাকে দেখে তোমাদের ভিতর তার ব্যাপারে অনুভূতি জাগ্রত হতে পারে। (সুনানে আবু দাউদ ৪/৩৬১, হাদীস : ৪১১২; জামে তিরমিযী ৫/১০২, হাদীস : ২৭৭৯; মুসনাদে আহমাদ ৬/২৯৬; শরহুল মুসলিম, নববী ১০/৯৭; ফাতহুল বারী ৯/২৪৮)
ইসলাম যে বিষয়/ কাজ করলে আপনার ইসলামি আদেশ-নিষেধ মানতে অসুবিধা হবে তাই করতে নিষেধ করে। অর্থাৎ আপনি দেরিতে ঘুমালে যদি আপনার ফরজ নামাজ কাযা হয়, তাহলে আপনার তাড়াতাড়ি ঘুমানো ফরজ। আবার যেহেতু পুরুষকেই রিযিক অন্বেষণের দায়িত্ব দিয়েছে ইসলাম। তাই কোন নারী চাকুরী করতে গেলে যদি পরপুরুষ থাকে, তাহলে ঐ নারীর সেথায় চাকুরি করা হারাম। মোবাইলে নাটক দেখে যদি নারীদের প্রতি আসক্তি আসার সম্ভাবনা আছে, তাই সেই নাটক বা ছবি দেখা হারাম। হারাম শব্দের অর্থ হলো নিষেধ!
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে সতর দেখবে এবং যে দেখাবে, তাদের ওপর আল্লাহ লা‘নত করেন।’ (বাইহাকী)
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন, ‘স্ত্রী জাতি পর্দায় গুপ্ত থাকার সত্তা। কিন্তু যখনই তারা পর্দার বাহিরে আসে, তখন শয়তান তাদের দিকে ঝুঁকে।’ (তিরমিযী)
নবীজী (সা.) আরো ইরশাদ করেন, ‘মেয়েরা যখন বালিগা হয়ে যায়, তখন তাদের শরীরের কোনো অংশ দেখা বা দেখানো জায়েজ নয়। অনেক কাপড় পরিধানকারিণী (পাতলা কাপড়ের কারণে) কিয়ামতের দিন উলংগ সাব্যস্ত হবে।’(মুসলিম)
আল্লাহর ভয় মনে থাকাঃ
হে দুনিয়ার মানুষ তোমরা মানুষকে নয় বরং আল্লাহকে লজ্জা করে চলো। আল্লাহই আমাদের সকল প্রকার নেয়ামত দিয়েছেন। তিনি আমাদের কল্যাণে এই পৃথিবী ও অন্যান্য জগত সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করছেন; আর আমরা যাতে তার সৃষ্টি থেকে, তার কিতাব থেকে এবং পৃথিবীতে বহু নিদর্শন থেকে তাকে বিশ্বাস করি ও তার আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি তাই তিনি চান। যদি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তিনি আমাদের পরকালে দিবেন সীমাহীন সুখ জান্নাতে আর অকৃতজ্ঞ হলে সীমাহীন দুঃখ জাহান্নামে।
হে বানী আদম! আমি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার ও বেশভূষার জন্য তোমাদের পোশাক পরিচ্ছদের উপকরণ অবতীর্ণ করেছি। (বেশ-ভূষার তুলনায়) আল্লাহভীতির পরিচ্ছদই হচ্ছে সর্বোত্তম পরিচ্ছদ। এটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম নিদর্শন, সম্ভবতঃ মানুষ এটা হতে উপদেশ গ্রহণ করবে। (Al-A'raf 7:26)
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তারাই যারা পর্দাহীনভাবে চলাফেরা করে। (বায়হাকী: ১৩২৫৬)
আল্লাহ তায়ালা পর্দানশীনদের ভালোবাসেন। আর কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন ও সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন।’ (সূরা হুজুরাত: ১৩)
প্রকৃত অর্থে তাকওয়া সম্পন্ন বা মুত্তাকী হলো ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর নির্দেশসমূহ মেনে চলে। আর সর্বসম্মতিক্রমে পর্দা আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশ।
পর-পুরুষের সাথে চাকুরী করলে নারীর নারীর সব দিক দিয়েই পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছেঃ
"ٱلشَّيْطَٰنُ يَعِدُكُمُ ٱلْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُم بِٱلْفَحْشَآءِۖ وَٱللَّهُ يَعِدُكُم مَّغْفِرَةً مِّنْهُ وَفَضْلًاۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ
শয়তান তোমাদেরকে অভাবের ভয় দেখায় এবং তোমাদেরকে অশ্লীলতার (সকল খারাপ) আদেশ করে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিকট হতে ক্ষমা ও দয়ার (রিষিক বৃদ্ধির) অংগীকার করেন। আল্লাহ হচ্ছেন বিপুল দাতা, সর্বজ্ঞ। (Al-Baqarah 2:268)"
কোন নারী পর-পুরুষের সাথে চাকরি করলে তার পর্দা তিন (০৩) ভাবেই লঙ্ঘন হয়। এক. নারী চাকুরী করলে সেই ঘরে থেকে বাহির হতে হয় যা আরব জাহেলি যুগের আচরণ। দুই. সেই চাকরিতে কোমল ভাষায় কথা বলতে হয়, তাই পর-পুরুষের সাথে তার পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছে। তিন. নারী যখন চাকরিতে থাকে তখন সেই পর-পুরুষের সাথে তার শারীরিক ও চোখের পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছে। নারী নিজেও পর্দা করতে পারছে না আর পর-নারী উপস্থিতির কারণে পুরুষ নিজেও পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছে।
তাই আসলে আমরা ইসলামি আইন লঙ্ঘন করে আল্লাহর গজবের অপেক্ষায় আছি বা করছি। তাই চলুন সৎ কাজে আদেশ করি অসৎ কাজে নিষেধ করি। সুতরাং, নারীদের হাতে-পায়ে ধরে বুঝিয়ে বলি, জান্নাত পাওয়ার জন্য নারীরা ধৈর্য ধরে ঘরে থাকুন। আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবেন আর সংসারে বরকত আসবে। স্বামী-স্ত্রী দুইজনই চাকুরী করলে সব মানুষেরই সংসারের খরচ বেড়ে যায়, ফলে যে সংসারে স্বামীর চাকুরী নেই আর স্ত্রী গৃহিণী তাদের সংসার পরিচালনা আরো কঠিন হয়ে পড়ে। আপনি যে দিক হতেই চিন্তা করেননা কেন, নারীর চাকরি মানে প্রতি মুহূর্তে কবিরা গুনাহ ও হাতের, পায়ের, মুখের আর চোখের জেনা হচ্ছে। শরীরে, চলনে, বলনে অর্থাৎ সব ভাবেই পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছে।
সর্বোপরি কথা হল, আমরা জানি গোপন জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ ও কৌতুহল অনেক বেশি। আল্লাহ নিজেও চান পুরুষ ও নারীর পারস্পরিক আকর্ষণ কিয়ামত পর্যন্ত অটুট থাকুক। এই আকর্ষণ অটুট থাকে নারীদের পর্দা বা নারীদের গোপন রাখার মাধ্যমে। তাই নারীর সৌন্দর্য ও আকর্ষণ উপভোগ করার জন্য আল্লাহ শর্ত দিয়েছেন বিয়ে। এই বিয়ের মাধ্যমে এক দিকে পুরুষ ও নারী পারস্পরিক যৌন জীবন উপভোগ করে তেমনি আল্লাহর জমিনে আবাদ করার জন্য রেখে যায় নিজেদের সন্তানদের। যারা পরবর্তীতে সম্পত্তির মানে পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হয়।
Ash-Shura 42:27
وَلَوْ بَسَطَ ٱللَّهُ ٱلرِّزْقَ لِعِبَادِهِۦ لَبَغَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَٰكِن يُنَزِّلُ بِقَدَرٍ مَّا يَشَآءُۚ إِنَّهُۥ بِعِبَادِهِۦ خَبِيرٌۢ بَصِيرٌ
আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে জীবনোপকরণের প্রাচুর্য দিলে তারা পৃথিবীতে অবশ্যই বিপর্যয় সৃষ্টি করত; কিন্তু তিনি তাঁর ইচ্ছা মত সঠিক পরিমানেই দিয়ে থাকেন। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে সম্যক জানেন ও দেখেন।
নারী স্বাধীনতা ঘরে নাকি বাহিরে!!!
0 Comments