Search This Blog

নারীর উপর চাকুরী কেন ও কিভাবে এবং বাঁচার উপায় কি!

 নারীর উপর চাকুরী কেন ও কিভাবে এবং বাঁচার উপায় কি!



ইসলাম কখনো কোন বিষয়ে অতিরিক্ত ভালোবাসা দেখানো একদমই পছন্দ করে না কিন্তু আল্লাহর ভালোবাসায় জীবনকে কোরবানি(উৎসর্গ) করে দেওয়া ছাড়া। আমাদের জীবন চলার পথে বিভিন্ন জিনিসের প্রয়োজন তেমনি অর্থ উপার্জন তার একটি। এই বিভিন্ন জিনিসগুলো আল্লাহ আমাদের এমনভাবে নিতে বলেছেন যাতে আমরা কোনটার মোহে আকৃষ্ট হয়ে পরকালের চিরস্থায়ী সুখকে খাটো করে না দেখি তথা পরকাল নষ্ট, ধ্বংস করে না ফেলি। যদি দুনিয়াকে বড় করে দেখি তাহলে আমরা পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো। আর পরকালের ক্ষতিকেই আল্লাহ সুস্পষ্ট ক্ষতি বলেছেন। 

মানুষ আল্লাহর অনেক ভালোবাসার সৃষ্টি। কারণ, এই পৃথিবী ও পৃথিবীর সকলকিছুই আল্লাহ মানুষের কল্যাণের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। মানুষের শরীরের নেয়ামতপূর্ণ অঙ্গ-প্রতঙ্গ, গাছ-গাছালী, পাখ-পাখালি, নদী-নালা, পানি, পাহাড়-পর্বত, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা, নক্ষত্র ইত্যাদি ইত্যাদি সবই নেয়ামত। আল্লাহ আমাদের এতো এতো নেয়ামত দিয়েছেন আর বলেছেন শুধু নেয়ামতের শুকরিয়া তথা শুধু তার ইবাদত করতে। এইখানেই তিনি থেমে যাননি বলেছেন যদি নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করি তাহলে নেয়ামত বাড়িয়ে দিবেন আর যদি নাশুকরি করি তাহলে উল্টোটা অর্থাৎ নেয়ামত ছিনিয়ে নিবেন! 

আল্লাহ শুধু আদম আঃ কে তৈরি করে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে দাখিল করলেন। পরে তিনি জান্নাতের সকল নেয়ামত পেয়েও একাকীত্ব অনুভব করলেন! আল্লাহ তার একাকিত্ব দূর করার জন্য মা হাওয়া আঃ-কে আদম আঃ হতে তৈরি করলেন। তাই, আমরা বুঝতে পারি নারী পুরুষ হতে আলাদা নয় বরং নারী পুরুষের পরিপূরক। বাস্তবেও তাই পুরুষ-নারীর মিলনেই পরিবার তথা সংসার বা পরিবার হয়। আর এই পরিবার হতেই পৃথিবীতে মানুষের প্রজন্মের পর প্রজন্ম জন্ম নিচ্ছে। আর এইভাবেই মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা হচ্ছে দুনিয়ায়। 

তাহলে আমরা দেখছি, পুরুষ আর নারী মিলিয়েই মানুষ। পুরুষ কিংবা নারী কেউ কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আর পুরুষ নারী যদি আলাদা হয় তাহলে স্বামী-স্ত্রীর মত পবিত্র বন্ধনের অভাবে মানুষ নিজেই তার ধ্বংসের জন্য দায়ী থাকবে। স্বামী আর স্ত্রী একে অপরকে উপভোগ করে, এই উপভোগ হতে মনের প্রশান্তি যেমন আসে তেমনি আসে সন্তান-সন্ততি। মনের প্রশান্তি মানুষকে বেঁচে থাকার শক্তি দেয় আর সন্তান-সন্ততি পৃথিবীর সৌন্দর্য। দুই মিলে মানুষ পৃথিবীতে একটা অর্থবহ জীবন পরিচালনা করে।

আবার এই অর্থবহ জীবন পরিচালনা করার জন্য, মানুষের প্রয়োজন অর্থ ও সন্তান-সন্ততি। ইসলাম অর্থ ব্যয়ের দায়িত্ব পুরুষকে দিয়েছে কিন্তু নারীকে নয়। আর সন্তান উৎপাদনের দায়িত্ব নারীকে দিয়েছে কিন্তু পুরুষকে নয়। নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষা করলে সবার জীবন সুন্দর হয় আর না করলে সবার জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। 



তাই, নারীর অর্থ উপার্জনের লোভ যেমন পরিবারের জন্য ধ্বংসকর তেমনি পুরুষের এর হতে বিমুখ হওয়াও পরিবারের জন্য ধ্বংসকর। কারণ নারী অর্থ উপার্জন করবে স্বাবলম্বী হওয়ার চিন্তা হতে। কিন্তু নারী স্বাবলম্বী হয়ে ঐ  নারী পুরুষকে কি দেখাতে চায় বা কি বার্তা দিতে চায়? নারী স্বাবলম্বী হওয়া মানে পুরুষকে কিছু সতর্ক বার্তা দেওয়া। নারী যদি পুরুষকে এইরূপ সতর্ক বার্তা দিতে হয়, তাহলে যে পুরুষ বা নারী এই চিন্তা করছেন তারা পরিবার কাঠামো বুঝছেননা অথবা তারা পরিবার কাঠামো অস্বীকার করছেন অথবা পরিবার কাঠামোকে ধ্বংস করতে চাচ্ছেন। যে সমাজের পুরুষ ও নারীরা পরিবারের গুরুত্ব বুঝেননা তারাই শুধু এমন চিন্তা করতে পারে। 

চলুন পরিবার কি তা বুঝি। পরিবার হল তা যেখানে পুরুষ নারীর অভিভাবক ও অর্থ ব্যয়ও পুরুষ করবে আর নারী পুরুষের আনুগত্য করবেন ও সম্পদ-সতীত্বের হেফাজত করবেন। এই হল আদর্শ পরিবারের বৈশিষ্ট্য যা আপনি সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে পাবেন। আর পরিবারের কাজ হল সন্তান উৎপাদন করে পৃথিবীতে মানুষের বংশ রক্ষা করা। পরিবার হতেই মানুষের জন্ম হয় আর মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে পৃথিবী আবাদ করে।  অর্থাৎ পুরুষ আয় করে ক্লান্ত হয়ে নারীর মাঝে প্রশান্তি খোঁজবে আর উভয়ের সেই প্রশান্তি হতে নারী সন্তান-ধারণ করবে, তা জন্ম দিবে ও লালন-পালনে ক্লান্ত থাকবে। এইভাবেই সংসারে মানে পরিবারে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ে ব্যাস্ত থাকবে।  আর যদি কেউ নারীকে স্বাবলম্বী করার চিন্তায় করে বা নারী নিজেই নারীকে স্বাবলম্বী করার চিন্তা থাকে তাহলে সেই পরিবার সাজানোর চিন্তা কবে করবে? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, একজন নারীর সন্তান উৎপাদনের উপযুক্ত সময় হল ১৫বছর হতে ২৫বছর। ২৫বছরের পর হতে নারীর গর্ভকালীন জটিলতা শুরু হয়ে যায়!  একইভাবে পুরুষের যৌবন থাকে ২০বছর হতে ৪০বছর পর্যন্ত। ৪০বছরের পর হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়ে গর্ভকালীন জটিলতা শুরু হয়। 

তাই, আমাদের উচিৎ পুরুষ নারীর উপযুক্ত সময়ে বিয়ে দেওয়া। তেমনি পুরুষের বুঝ হওয়া শুরু হলেই তাকে উপার্জনে যাওয়া। আর এই সবাই পড়াশোনার পাশাপাশি হওয়া প্রয়োজন।  পড়াশোনার উদ্দেশ্য হল ক্যারিয়ার গড়া কিন্তু পড়াশোনা যাতে ক্যারিয়ারে বাঁধা না হয়। হ্যাঁ, ক্যারিয়ার কেন্দ্রিক পড়াশোনা হতে হবে, পড়াশোনা কেন্দ্রীক ক্যারিয়ার নয়। তাই, ক্যারিয়ারের নাম দিয়ে জীবনের উপযুক্ত সময়গুলো শুধুই পড়াশোনায় শেষ করার চেয়ে বড় কোন বোকামি আর হতে পারে না। 

উন্নত দেশগুলো তাদের তরুণদের উপার্জনের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি করার মত  নীতিমালা তৈরি করে। তাই তারা বাস্তব কাজ যেমন বুঝে তেমনি তারা ঐ রিলেটেড জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ পাচ্ছে। ওরা কাজ ও পড়াশোনা দুইটাকে সমান গুরুত্ব দেয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে ওরা কাজের গুরুত্ব বেশি দিচ্ছে শুরু পড়াশোনা করে সময় নষ্ট করছে না। তবে তারা সবচেয়ে বড় ভুলটা করে পুরুষ ও নারীর সমান দায়িত্ব দিয়ে। অর্থাৎ তারা সংসারের গুরুত্ব উপলব্ধি করছেন না।

আবার উন্নত দেশের আরেকটা ভালো দিক হল, ছাত্ররা ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়ার পর এক/ দুই বছর স্টাডি গ্যাপ দেয়। এই সময়টা তারা কোন ভাষা শিক্ষা, পার্টটাইম চাকুরি করে কাটায় যার মাধ্যমে ওরা বুঝতে চেষ্টা করে কি পড়াশোনা করলে একটা সময় ও জ্ঞান উপযোগী ক্যারিয়ার গড়া যাবে। শুধু তাই-না অনেকে আত্মাবিশ্বাসী হয়। পরবর্তীতে তার এই আত্মাবিশ্বাস তাকে অনেক দূর নিয়ে যায়। তাই, হতাশা নয় ভেবে চিন্তে এগোতে হবে। অন্যদিকে নারীকে সংসার কেন্দ্রীক পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এই প্রশিক্ষণ তাকে সংসারে সফল ও আত্মাবিশ্বাসী হতে শক্তি যোগাবে। 

তাই নারীকে চাকুরী দিয়ে ব্যাস্ত রাখলে সেই সন্তান উৎপাদন স্বাভাবিক ভাবে করতে পারবেনা। আর তাকে ঘরে সুন্দর ও মনোরম একটা পরিবেশ দিলে ও যথাযথ সম্মান দিলে পরিবার রক্ষা হবে। পরিবার রক্ষা হলেই মানুষ পৃথিবীতে রক্ষা হবে।  পৃথিবীর সর্বত্র আদম সন্তানের বিচরণ থাকবে। তাই আজই নিয়ে সচেতন হউন অন্যকে সচেতন করুন।


***সমাপ্ত***


Post a Comment

0 Comments