Search This Blog

আল্লাহ করেনি, ইবলিশ নিজেই শয়তান হওয়া পছন্দ করলো!!!

 আল্লাহ করেনি, ইবলিশ নিজেই শয়তান হওয়া পছন্দ করলো!!!  

ফেরেশতা, শয়তান বনাম মানুষঃ



আল্লাহ ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন। এই ফেরেশতার যোগ্যতা হল সেই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহর ইবাদত করে। সেই সব সময় আল্লাহর বাধ্য থাকে অর্থাৎ তার অবাধ্য হওয়ার কোন যোগ্যতাই বা স্বাধীনতা আল্লাহ দেন নাই। 


অপর দিকে জ্বীন ও মানুষ হল ফেরেশতা হতে ভিন্ন। আল্লাহ জ্বীন ও মানুষকে ক্ষমতা দিয়েছেন চাইলে তারা বাধ্য, অনুগত বা ইবাদত করবে অথবা চাইলে অবাধ্যও হতে পারে। অর্থাৎ, আল্লাহ জ্বীন ও মানুষকে দুইটা স্বাধীন ইচ্ছা দিয়ে তৈরি করেছেন তা হল ইবাদত করা কিংবা অবাধ্য হওয়া। 


আর শয়তান হল সেই, যেই ইচ্ছা করে আল্লাহর অবাধ্য হওয়া বেছে নিয়েছে। শয়তান শব্দের অর্থ হলো অবাধ্য। আরেকটু জানি, ইবলিশ ছিল জ্বীন জাতিদের একজন অর্থাৎ ইবলিশ হল মূলত জ্বীন জাতিদের একজনের নাম। সেই যমিনে ও আসমানের সব জায়গায় আল্লাহকে সিজদার মাধ্যমে ইবাদত করেছিল। তাই, আল্লাহ তাহার আনুগত্যে খুশি হয়ে তাকে ফেরেশতাদের সর্দার করার মাধ্যমে সম্মানিত করেছিলেন। 


অপরদিকে, আল্লাহ মানুষ (আদম,আঃ)-কে তৈরি করে তাকে জ্ঞান শিক্ষা অর্থাৎ সবকিছুর নাম শিখিয়ে দিয়ে সম্মানিত করেছেন। জ্ঞানের ভান্ডার তাকে শিক্ষা দিলেন। ফলে, আল্লাহ আদম-আঃ ও ফেরেশতাদের জান্নাতে একসাথ করলেন, আর বিভিন্ন জিনিসের নাম (মানুষ, জীবজন্তু, আকাশ, জমিন, পৃথিবী, ঘোড়া, গাধা ইত্যাদি)  জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু আদম আঃ সবকিছুর নাম বলতে পারলেও কোন ফেরেশতা তা বলতে পারেনি।  তাই, আল্লাহ নির্দেশ দিলেন সকল ফেরেশতারা যেন  আদম (আঃ)-কে সেজদাহ করার মাধ্যমে তার জ্ঞানের প্রতি সম্মান দেখায়। আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী সকল ফেরেশতা আনুগত্য অর্থাৎ সেজদাহ করেছেন কিন্তু ইবলিশ ছাড়া! 

এইভাবেই ইবলিশ আল্লাহর অবাধ্য মানে শয়তান হওয়া পছন্দ করলো, নাউজুবিল্লাহ (মহান আল্লাহর কাছে এথেকে আশ্রয় চাই)। আল্লাহ জ্বীন তৈরি করে তাকে সম্মানিত করলো কিন্তু সেই হয়ে গেল শয়তান মানে অবাধ্য। তাই, আল্লাহ শয়তান তৈরি করেছেন কথাটি সঠিক নয় অর্থাৎ  শয়তান বা অবাধ্য হওয়া সেই নিজেই বেছে নিয়েছে!!! (সূরা বাকারা আয়াত নাম্বার ৩০-৩৭);

আরেকটা বিষয় হল, মানুষ যেহেতু স্বাধীন তাই মানুষের জান্নাত বা জাহান্নাম সেই নিজেই বেছে নেওয়ার ক্ষমতা আছে বা দেওয়া হয়েছে। মানুষ ভালো কাজ করাবে নাকি খারাপ কাজ করবে, এইটা সম্পূর্ণভাবে তার স্বাধীন ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে। সেই চাইলে ভালো কাজটা করে জান্নাতের পথ বেছে নিতে পারে কিংবা খারাপ কাজটা করে জাহান্নামের পথ বেছে নিতে পারে।  অর্থাৎ সেই তার নিজের ইচ্ছায় আল্লাহর গোলামী মানে ইবাদত করছে অথবা নিজ ইচ্ছায় আল্লাহর নাফরমানী বা অবাধ্য হচ্ছে। 

আমরা আল্লাহর সাহায্য কামনা করছি যেন তিনি আমাদের তার অনুগত হওয়ার পথ সহজ করে দেন। সারা জীবন যেন দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের উপর থাকতে পারি আর জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচতে পারি, আমিন।  


*** সমাপ্ত ***

Post a Comment

0 Comments