নারীরা চাকুরি করলে মোটাদাগে যে সমস্যাগুলো হয় তা হলঃ
ইসলামই পরিবারকে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। সেই পারিবারিক কাঠামো ও কার কি দায়িত্ব তাও স্পষ্ট বলে দিয়েছে। ধর্ম পুরুষকে দুইটা কারণে নারীকে পুরুষের অধীনে থাকতে বলেছে।
প্রথমে বললো গঠনগত দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দান আর দ্বিতীয় বিষয় হলো উপার্জনের দায়িত্ব। কোন পুরুষ উপার্জন করতে না পারলে তার স্ত্রী রাখার অধিকারই নেই। কোন স্ত্রীকে চাপাচাপি করা যাবেনা আয় করার জন্য। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হল প্রথমত স্বামীর আনুগত্য করা দ্বিতীয়ত স্বামীর সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করা। অর্থাৎ দুইজন মিলেই পরিবারের কল্যাণে কাজ করা। একজন পরিবারের জন্য আয় করে রসদ নিয়ে আসবেন। আর অন্য জন সেই রসদের দায়িত্বে থাকবেন। (সূরা নিসা- আয়াত ৩৪)।
একই আয়াতে আবার বলা হয়েছে যে, যদি নারীদের অবাধ্যতার আশংকা হয় তাহলে তাদেরকে সদুপদেশ প্রদান কর, তাদেরকে শয্যা হতে পৃথক কর এবং তাদেরকে প্রহার (সর্বোচ্চ মিসওয়াক দিয়ে) কর; অনন্তর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তাহলে তাদের জন্য অন্য পন্থা অবলম্বন করনা; নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহা মহীয়ান।
নারীরা চাকুরি করলে মোটাদাগে যে সমস্যাগুলো হয় তা হলঃ
১. নারী হতে সন্তান উৎপাদন দারুণভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এতে মানুষের জীবন ধ্বংসের মুখে পড়ছে। জাপানে জনসংখ্যা ২০৬০ সালে ৩৩.৩৩% কমে যাবে এবং উন্নত সকল দেশেও জনসংখ্যা খুব দ্রুত কমছে। এর অন্যতম কারণ হল নারীকে ঘরে যথাযথ সম্মান, অধিকার ও মর্যাদা দিতে না পারা।
২. নারীর চলনে পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছে!!! নারী কর্মস্থলে আসার কারণে পুরুষেরও পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছে!!! (সূরা আহযাব আয়াতঃ ৩৩ঃ৩৩, ৫৩; সূরা নিসা আয়াতঃ ২৪ঃ৩০, ৩১; মুসনাদে আহমাদ: ৪/৪১৮, ৬/৩০; মুসলিম ২/২০৫, হাদীস : ২১২৮)
৩. নারীর বলনে পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছে। (সূরা আহযাব আয়াতঃ ৩৩ঃ৩২; সহীহ বুখারী ৯/২৪২; ২/১০৭১)
৪. নারীর শরীরে পর্দা লঙ্ঘন হচ্ছে। (সূরা নিসা আয়াতঃ ২৪ঃ৩১; সূরা আহযাব আয়াতঃ ৩৩ঃ৫৯; সুনানে আবু দাউদ ৪/৩৬১, হাদীস : ৪১১২; আল-আরাফ 7:26)
৫. এর ফলে সমাজে পরকিয়া, অন্যায়, অশ্লীলতা, নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা হচ্ছে যা শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মে নয় ভিন্ন ধর্মেও কঠিনভাবে নিষেধ।
৬. ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবন বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। একজন সন্তান তার মায়ের নিকট হতে কোয়ালিটি টাইম, আদর, ভালোবাসা পাচ্ছেনা যা কিনা সন্তানের অন্যতম প্রাপ্য অধিকার। সন্তান এমনিতেই মাত্র ২/১টা হচ্ছে, তাও আবার বুয়াদের আদর পেয়ে কাজের বুয়াদের স্বভাব পেয়ে আপনার সন্তান বড় হচ্ছে!!!
৭. সন্তান লালন-পালনে অন্য মানুষের সাহায্য নিতে হচ্ছে যা সন্তানের জন্য অত্যন্ত কষ্টের ও লজ্জার ব্যাপার। অথচ মায়ের দুধের যেমন বিকল্প নেই তেমনি মায়ের আদরেরও কোন বিকল্প নেই।
৮. আরো বড়ো কথা হল সম্পদ আয়-ব্যয় নারীর কাজ নয়! আল্লাহ পুরুষকে অভিভাবক করে এই দায়িত্ব তাকেই দিয়েছেন। আর নারীকে দায়িত্ব দিয়েছেন স্বামীর আনুগত্য ও সম্পদের রক্ষার। আর নারীকে এতেই ধৈর্য্যশীল থাকতে মানে অবাধ্য হতে নিষেধ করা হয়েছে। (সূরা নিসা আয়াত ৩৪)
৯. এক কথায় বলতে হয়, চাকুরি হতে অনেক অনেক বড় হল পরিবার নারীর জন্য। একজন নারীকে পরিবার শক্ত হাতে ধরে রাখতে হয়। আর একজন পুরুষকে নারীর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব উপলব্ধি করে তার যথাযথ স্বীকৃতি, সাপোর্ট ও মূল্যায়ন করতে হয়।
১০. তা না হলে মানুষের ধ্বংস অনিবার্য এবং মানুষ নিজেই তার ধ্বংসের জন্য দায়ী থাকবে। আমাদের বুঝতে হবে নারী স্বাধীনতা ঘরে বাহিরে নয়!!!
***তাই ইসলাম শুধু পরকালের জীবনের জন্য নয়, ইসলাম দুনিয়ার জীবনের জন্যও। অতএব আপনার সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা দিন!!!***
***মুসলিম সময় পেলে ইবাদত করে দুনিয়ার জীবন হতে চিরস্থায়ী পরকালের জীবন সাজানোর কাজে বেশি ব্যস্ত সময় পার করবেন অর্থাৎ ইবাদতে মশগুল থাকবেন!!!***
0 Comments