Search This Blog

দেন মোহরের এতো চাপ কেন বাংলাদেশে!!!

দেন মোহরের এতো চাপ কেন বাংলাদেশে!!!

 


 

 বিবাহ হল আল্লাহর নির্ধারিত আইন যার ফলে নারী পুরুষ একে অপরকে ভালোবাসার বৈধতা পায়। কিন্তু এই বিবাহ এখন তার উদ্দেশ্য হতে দূরে সরে কিছু ঝামেলাপূর্ণ সামাজিক রীতিতে পরিণত হচ্ছে। 

বিবাহের ক্ষেত্রে ইসলাম শুধু পাত্রপক্ষের খরচ অনুমোদন করে পাত্রীর নয়। আমি আবার বলছি, পাত্রপক্ষই অলিমা করবে আর তা পাত্রের বাড়িতে পাত্রীর বাড়িতে নয়। পাত্র মসজিদে বিয়ে করে, পাত্রীকে পাত্রের বাড়ীতে নিয়ে অলিমা অর্থাৎ বিয়ের অনুষ্ঠান করবে। এতে পাত্র তার নিকট আত্নীয়দের প্রয়োজন অনুযায়ী কনের বাড়ির কাছে মসজিদে নিয়ে যাবেন যারা সাক্ষী ও অন্যান্য প্রয়োজন যদি থাকে তা সারবে। এই পরিমাণ ৫জনের আশেপাশে থাকাই ভালো। পাত্র কোন ভাবেই তার বন্ধু বান্ধব বা আত্নীয় স্বজনকে পাত্রীর বাড়ীতে খাওয়ানোর জন্য মেহমান হিসেবে নিয়ে যাবেনা। এক দিকে মসজিদে বিয়ের কাজ চলবে অন্য দিকে পাত্রীকে পাত্র পক্ষ হতে যে সাজানি দেওয়া হবে তা দিয়ে সাজাতে থাকবে। একই সাথে পাত্রের নিজের বাড়িতে রান্না-বান্নার কাজ চলবে। অর্থাৎ সকালে পাত্র আসবেন সাজানি নিয়ে পাত্রের বাড়িতে এবং পাত্রীকে সাজিয়ে ও বিয়ে করে দুপুরে নিজের বাড়িতে বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন ও কনে পক্ষের কিছু মেহমানকে নিয়ে অলিমা করবেন। এটা করতে হবে পাত্রের সামর্থ্য অনুযায়ী কোন ভাবেই সীমা লঙ্ঘন করা যাবেনা।

অনেকে সার্মথ্য আছে এবং চান পাত্র পক্ষের কিছু লোককেও মেহমানদারী করাতে। এইটা আপনারা বিয়ের সময় না করে বিয়ের পরে করতে পারেন যাতে বিয়েতে খারাপ কালচার না আসে। এই খারাপ কালচার যাদের সামর্থ্য নেই তাদের উপরে চাপ তৈরি করছে। বিয়ের খরচে মেয়ে পক্ষের খরচ শেয়ার করতে অফার দেওয়াও বোকামি। সব সময় মনে রাখুন, আপনি অন্যের লালিত-পালিত মেয়েকে নিজের ঘরে নিয়ে আসছেন। তাই স্ত্রীকে তার যথাযথ হক দিন ও তার পরিবারের প্রতি যতটুকু পারেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। পাত্রীর মোহরানা সামর্থ্য অনুযায়ী ধরুন ও তা পরিশোধ করুন। পাত্রী পক্ষকে বুঝান বিয়ের সব খরচ আপনার দায়িত্বে, সুতরাং তারা আপনাকে মোহরানা সামর্থ্য অনুযায়ী ধরার সুযোগ তৈরি করার দায়িত্ব নিতে হবে। 

হে ইসলামে মেহমানদারীর একটা রেওয়াজ প্রচলিত আছে যা ইসলাম খুবই উৎসাহিত করে। এমনকি বলা হয়েছে আত্নীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবেনা। তবে এটা যেহেতু একটা নতুন সম্পর্ক এবং বলা হয়েছে বিবাহ সহজ করতে। এবং ঐ বিবাহ সবচেয়ে বরকতময় যে বিবাহে খরচ কম হয়। সুতরাং, অনেকে চায় আত্মীয়-স্বজনদের মেয়ের বাড়িতে দাওয়াত খাইয়ে দিয়ে দায় সারতে চায়। আবার অনেকের মনে ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে তার বিয়েতে বন্ধু-বান্ধবকে, আত্নীয়-স্বজনকে পেট ভরে খাওয়াবে বউয়ের বাড়িতে! কিন্তু নিয়ম হল নিজের বাড়িতে খাওয়াবেন। মনে রাখুন আপনি বিয়ে করবেন এবং আপনার আনন্দ-পূর্তি করার পূর্ণ অধিকার আছে। কিন্তু তা আপনার নিজের খরচে, কোনভাবেই পাত্রী পক্ষের খরচে নয়।

কিন্তু আমরা পাত্রীপক্ষকে বিভিন্নভাবে খরচের জন্য চাপ দেই। এবং এই খারাপ কালচারের কারণে, মেয়ের অভিভাবক টাকা জমানো ছাড়া মেয়ে বিয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করতেও তাদের কষ্ট হয়। আর পাত্রীর অভিভাবক পাত্রপক্ষের চাহিদা মিটানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে নিয়ে অনেক সময় মেয়ের বয়স যায় বেড়ে। আর প্রস্তুতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারাও মেয়ে বিবাহ দেওয়ার সাহস করেনা। অন্য দিকে পাত্রীর অভিভাবক যৌতুক দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় এরপর যোগ্য পাত্র খোঁজা শুরু করে!!! যা সবার জন্যই অপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত বিবাহের পথে কঠিন বাধা।

 


 

বিবাহ ইসলামি নিয়ম অনুসারে না করলে আপনি যে সকল সমস্যায় পড়বেনঃ

১/ উচ্চ দেন-মোহর গুনতে হবে 
২/ পাত্রী পক্ষের উচ্চ চাহিদা থাকে 
৩/ আপনি পরিবারের অভিভাবকত্ব হারাবেন।
৪/ আপনার বিয়েতে দেরী হয়ে যাবে।
৫/ ছেলের অভিভাবক বিয়ের খরচ বহনে অজুহাত দেখাবে
৬/ বিবাহের বরকত উঠে যাবে।
৭/ বিয়েতে নানাপ্রকার জটিলতায় পড়তে হবে 
৮/ সমাজে বিয়ে কঠিন হয়ে, জেনা-ব্যবিচার বেড়ে যাবে।
৯/ সর্বোপরি, আমরাই আমাদের বিয়ের সহজের বদলে কঠিন করে ফেলছি যা কখনও কাম্য নয়।



Post a Comment

0 Comments