পিতা-মাতার সন্তানদের প্রতি হক, দায়িত্ব ও কর্তব্য!!!
আল্লাহ আমাদের দুনিয়ায় অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়ে পাঠিয়েছেন। তেমনি সন্তানকেও পৃথিবীতে সুন্দরভাবে লালন-পালন করা পিতা-মাতার আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব ও কর্তব্যেরই অংশ। তারা এটি করবেন শুধু আল্লাহর খুশীর জন্য তাদের হতে কোন বিনিময়ের উদ্দেশ্যে নয়। তেমনি সন্তানও আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করে নিয়ে পিতা-মাতার প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। আর অন্য কিছু নয়।
পিতা-মাতার অনেক চিন্তা থাকে সন্তানদের মানুষ করার জন্য। কিন্তু এই চিন্তা দূর হয়ে যাবে যদি আমরা তাদের হক যথাযথ ভাবে আদায় করতে পারি। হক আদায় করতে হলে আগে তা সম্পর্কে জানা জরুরী।
১/ লালন-পালন গত দিকঃ
২/ বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান দানঃ
৩/ চলনগত দিকঃ
লালনপালন গত দিকঃ
১/ জন্মের পরপরই কানে আযান দেয়া: সন্তান দুনিয়াতে আসার পর ( শারীরিক কোন সমস্যা না থাকলে গোসল দিয়ে পরিষ্কার করে) তার ডান কানে আযান দেয়া, তা ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। এটি পিতা-মাতার উপর এজন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, শিশুর কানে সর্বপ্রথম আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের আওয়াজ পৌঁছে দেয়া এবং ওত পেতে থাকা শয়তান যাতে তার কোন ক্ষতি না করতে পারে। হাদিসে এসেছে,
আবূ রাফে রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসান ইবনে আলীর কানে আযান দিতে দেখেছি।” [সুনান আবূ দাউদ:৫১০৫]
২/ আকীকা দিতে না পারলেঃ
যে সন্তানের আকীকা দেওয়া হবে না, জন্মগ্রহণের দিনেই তার নাম রাখা ও তাহ্নীক করা (কিছু চিবিয়ে তার মুখে দেয়া)
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) ... আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে আমি তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম। তারপর খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিলেন এবং তার জন্য বরকতের দু আ করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। সে ছিল আবূ মূসার বড় সন্তান।
৩/ সার্মথ্য থাকলে আক্বিকা করা : ইসলামী সংস্কৃতির অন্যতম বিষয় হলো সন্তানের আকীকা করা। ছেলের পক্ষ থেকে ২টি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে ১টি ছাগল আল্লাহর নামে যবেহ করা। হাদীসে এসেছে, সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সকল নবজাতক তার আক্বিকার সাথে আবদ্ধ। জন্মের সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে জবেহ করা হবে। ঐ দিন তার নাম রাখা হবে। আর তার মাথার চুল কামানো হবে।” [সুনান আবূ দাউদ: ২৮৩৮]
৪/ অশুচি (চুল ও নখ কাটা) দূর করাঃ ছেলে হোক বা মেয়ে হোক সপ্তম দিবসে চুল কাটা এবং চুল পরিমাণ রৌপ্য সদকাহ করা সুন্নাত। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান রা. এর পক্ষ থেকে ১টি বকরী আকীকা দিয়েছেন এবং বলেছেন, হে ফাতেমা ! তার মাথা মুণ্ডন কর এবং চুল পরিমাণ রৌপ্য সদকাহ কর।” [সুনান আত-তিরমিযী: ১৫১৯] এছাড়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “শিশুদেরকে খেজুর দিয়ে তাহনীক এবং বরকতের জন্য দো‘আ করতেন।” [সহীহ বুখারী: ৩৯০৯; মুসলিম: ২১৪৬]
৫/ আদর স্নেহ ও ভালবাসা দেয়া:
সন্তানদেরকে স্নেহ করা এবং তাদেরকে আন্তরিকভাবে ভালবাসতে হবে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: “তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে চুম্বন দিলেন এবং আদর করলেন। সে সময় আকরা ইবনে হাবিস রাদিয়াল্লাহু আনহুও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলতে লাগলেন, আমারতো দশটি সন্তান কিন্তু আমিতো কখনো আমার সন্তানদেরকে আদর স্নেহ করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং বললেন, যে অন্যের প্রতি রহম করে না আল্লাহও তার প্রতি রহম করেন না।” [সহীহ বুখারী: ৫৯৯৭]
৬/ খাতনা করা: ছেলেদের খাতনা করানো একটি অন্যতম সুন্নাত। হাদীসে এসেছে: “জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান এবং হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমার সপ্তম দিবসে আকীকা এবং খাতনা করিয়েছেন।” [আল-মু‘জামুল আওসাত: ৬৭০৮]
৭/ তাওহীদ শিক্ষা দেয়া: শিশু যখন কথা বলা আরম্ভ করবে তখন থেকেই আল্লাহর তাওহীদ শিক্ষা দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে বলেন: “হে বৎস! আমি তোমাকে কয়েকটি বাক্য শিখাতে চাই। তুমি আল্লাহর অধিকারের হেফাযত করবে, আল্লাহও তোমার হেফাযত করবেন। তুমি আল্লাহর অধিকারের হেফাযত করবে, তুমি তাঁকে সর্বদা সামনে পাবে। যখন কোন কিছু চাইবে তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে। আর যখন সহযোগিতা চাইবে তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে। আর জেনে রাখ! যদি পুরো জাতি যদি তোমার কোন উপকার করার জন্য একতাবদ্ধ হয়, তবে তোমার কোন উপকার করতে সমর্থ হবে না, শুধু ততটুকুই করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর যদি পুরো জাতি যদি তোমার কোন ক্ষতি করার জন্য একতাবদ্ধ হয়, তবে তোমার কোন ক্ষতি করতে সমর্থ হবে না, শুধু ততটুকুই করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। কলমের লিখা শেষ হয়েছে এবং কাগজসমূহ শুকিয়ে গেছে।” [তিরমিযী: ২৫১৬]
৮/ দ্বীনি শিক্ষা (কুরআন, হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য শিক্ষা) দানঃ ছোট বেলা থেকেই সন্তানকে কুরআন শিক্ষা দিতে হবে। কেননা কুরআন শিক্ষা করা ফরয। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “তোমরা তোমাদের সন্তানদের তিনটি বিষয় শিক্ষা দাও। তন্মধ্যে রয়েছে তাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা ও কুরআনের জ্ঞান দাও।” [জামিউল কাবীর]
কুরআন শিক্ষা দেয়ার চেয়ে উত্তম কাজ আর নেই। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে ও অপরকে শিক্ষা দেয়।’’ [সহীহ বুখারী:৫০২৭]
হাদীসে এসেছে: “আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক মুসলিমের উপর জ্ঞানার্জন করা ফরয।” [সুনান ইবন মাজাহ: ২২৪]
৯/ নামাজ, রোজাসহ ইসলামী মৌলিক ইবাদত ও নফল ইবাদত করে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে অভ্যস্ত করা, বিছানা আলাদা করে দেয়াঃ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার যে পিতা-মাতা তার সন্তানকে সলাত, রোজা শিক্ষা দিবেন এবং আদায়ে অভ্যস্ত করাবেন। হাদীসে এসেছে: “আমর ইবনে শূয়াইব রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বাবা তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সলাতের নির্দেশ দাও সাত বছর বয়সে। আর দশ বছর বয়সে সলাতের জন্য মৃদু প্রহার কর এবং বিছানা আলাদা করে দাও।” [সুনান আবূ দাউদ: ৪৯৫]
আবার ১০বছর পরে, পিতা মাতার রুমে প্রবেশ করতে আগে অনুমতি নিতে হবে।
১০/ দাওয়াতী কাজ শিখানোঃ পিতা-মাতার অন্যতম দায়িত্ব হলো সন্তানদেরকে দ্বীনের পথে, কুরআন-সুন্নাহর পথে পরিচালনা করা, দ্বীনের বিধান পালনের ক্ষেত্রে অভ্যস্ত করে তোলা। কুরআনে এসেছে: “বল, ‘এটা আমার পথ। আমি জেনে-বুঝে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও। আর আল্লাহ পবিত্র মহান এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত নই’।” [সূরা ইউসুফ : ১০৮]
সন্তানকে দ্বীনের পথে পরিচালনার মাধ্যমে সওয়াব অর্জন করার এক বিরাট সুযোগ রয়েছে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: “তোমার মাধ্যমে একজনও যদি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়, তবে তা হবে তোমার জন্য লালবর্ণের অতি মূল্যবান উট থেকেও উত্তম।” [সহীহ বুখারী]
১১/ গুনাহতে মূর্খতা নয়ঃ
মানুষের মধ্যে কেউ মদ, জেনা, জুয়া, ব্যবিচার, খারাপ যে সকল পাপই করে না কেন সাথে সাথেই বেশি বেশি ইবাদত করতে হবে। কারণ হাদীসে এসেছে মানুষের দ্বারা যদি গুনাহ না হত, তাহলে আল্লাহ মানুষকে ধ্বংস করে দিয়ে এমন জাতি তৈরি করতেন যারা গুনাহ করে আবার ক্ষমাও চায়। আর এইজন্যই মানুষ ফেরেশতা হতে ভিন্ন যাদের গুনাহ করার বিন্দুমাত্র সামর্থ্য নেই। তাই গুনাহ হয়ে গেলে তওবা করাই নিয়ম যদিও শয়তান বলে, 'গুনাহ করেছিস আবার তওবা করবি কিভাবে?!!!'
১২/ সক্ষম করে তোলা: সন্তানদেরকে এমনভাবে সক্ষম করে গড়ে তোলা,তারা যেন উপার্জন করার মত যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। সা‘দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এভাবে বলেছেন: “তোমাদের সন্তান সন্ততিদেরকে সক্ষম ও সাবলম্বি রেখে যাওয়া, তাদেরকে অভাবী ও মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।” [সহীহ বুখারী:১২৯৫]
১৩/ প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করা: সন্তানদেরকে প্রাপ্ত বয়স্ক পর্যন্ত লালন-পালন করতে হবে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ করতে হবে। “উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম আবূ সালামার সন্তানদের জন্য আমি যদি খরচ করি এতে কি আমার জন্য প্রতিদান রয়েছে? নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ যতদিন তুমি খরচ করবে ততদিন তোমার জন্য প্রতিদান থাকবে।” [সহীহ বুখারী: ৫৩৬৯]
১৪/ পিতার দায়িত্বে দ্রুত বিবাহ দেয়া: সুন্নাহ পদ্ধতিতে বিবাহ দেয়া এবং বিবাহর যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা এবং উপযুক্ত সময়ে বিবাহর ব্যবস্থা করা। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে: “নিশ্চয়ই পিতার উপর সন্তানের হকের মধ্যে রয়েছে, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাকে বিবাহ দেবে।” [জামিউল কাবীর]
১৫/ সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করা: সন্তানগণ পিতামাতার কাছ থেকে ইনসাফ আশা করে এবং তাদের মাঝে ইনসাফ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেছেন: “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তাদের মাঝে ইনসাফ করো।” [সহীহ বুখারী: ২৫৮৭]
১৬/ সৎ কাজে আদেশ দান ও অসৎ কাজে বাধা দান শিখানোঃ
সন্তান পিতা-মাতার অনুকরণ করে। তাই পরিবারের বড়দের সৎ কাজ কিভাবে করতে হয় আর অসৎ কাজে কিভাবে বাধা দিতে হয় তা নিজেরাই প্রতি মূহুর্তে করেই শিখিয়ে দিতে হবে।
ইসলাম অনুমোদন করে না এমন কাজ থেকে তাদেরকে বিরত না রাখলে এই সন্তানগনই কিয়ামাতে পিতামাতার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। কুরআনে এসেছে: “হে ইমানদারগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।” [সূরা আত-তাহরীম-৬]
“আর কাফিররা বলবে, ‘হে আমাদের রব, জ্বিন ও মানুষের মধ্যে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দিন। আমরা তাদের উভয়কে আমাদের পায়ের নীচে রাখব, যাতে তারা নিকৃষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়।” [সূরা হা-মীম আসসিজদাহ-২৯]
১৭/ পাপকাজ, অশ্লিলতা, বেহায়াপনা, অপসংস্কৃতি থেকে কিভাবে বিরত থাকতে তা শিক্ষা দেয়াঃ
তোমরা মন্দকে প্রতিহত করো ভালো দ্বারা। তাই আমাদের ইসলামীক রীতি নীতি চালু করতে হবে। অনৈসলামিক গানের বদলে ইসলামী গান, কোরআন, হাদীস, সাহিত্য ইত্যাদি বেশি বেশি চর্চা করতে হবে।
সন্তান দুনিয়ার আসার সাথে সাথে শয়তান তার পেছনে লেগে যায় এবং বিভিন্নভাবে, ভিন্ন ভিন্ন রুপে,পোশাক-পরিচ্ছেদের মাধ্যমে, বিভিন্ন ফ্যাশনে, বিভিন্ন ডিজাইনে, বিভিন্ন শিক্ষার নামে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করে। তাই পিতা-মাতাকে অবশ্যই এ বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। আল্লাহ বলেন: “হে মুমিনগণ, তোমাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের কেউ কেউ তোমাদের দুশমন। অতএব তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। আর যদি তোমরা মার্জনা কর, এড়িয়ে যাও এবং মাফ করে দাও তবে নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু।” [সূরা তাগাবুন-১৪]
হাদীসে এসেছে, ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: “রাসূলে করীম রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষের বেশ ধারণকারী নারী ও নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন।” [সহীহ বুখারী:৫৮৮৫]
আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সা-দৃশ্যতা রাখবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।” [সুনান আবূ দাউদ:৪০৩১]
১৮/ দো‘আ করা: আমাদের সন্তানদের জন্য দো‘আ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দো‘আ শিক্ষা দিয়েছেন এভাবে,
আল্লাহর নেক বান্দা তারাই যারা বলে: “হে আমাদের রব, আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন।” [সূরা আলফুরকান-৭৪]
যাকারিয়্যা আলাইহিস সালাম আল্লাহর নিকট দো‘আ করেছিলেন: “হে আমার রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।” [সূরা আলে ইমরান ৩৮]
সম্মানিত পিতামাতাবৃন্দ, আমরা কি সন্তানের হকগুলো পালন করতে পেরেছি বা পারছি ? আসুন, আমরা আমাদের সন্তানদেরকে নেকসন্তান হিসাবে গড়ে তুলি। যে সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে ৩ টি আমল বন্ধ হয় না-
১. সদকায়ে জারিয়া
২. এমন জ্ঞান-যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়
৩. এমন নেক সন্তান- যে তার জন্য দো‘আ করে” [সহিহ মুসলিম:১৬৩১]
বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান দানঃ
যে সন্তান জীবনের পথচলা শুরু করলো। সেই পথ চলায় কি কি প্রয়োজন, বাধা, অর্জন ইত্যাদি আছে সেই সম্বন্ধে তাকে একটা স্বচ্ছ জ্ঞান দান করলে তার পথ চলা হবে সবার চেয়ে মসৃণ ও নিখুঁত। সেই বাধা আসলে ঘাবড়ে যাবেনা কিংবা খুশিতে আত্মাহারা কিংবা আত্মা কেন্দ্রীক হবেনা। সেই হবে নিজ, মানুষ, সমাজ, রাষ্ট্র তথা আন্তর্জাতিক সকল পর্যায়ে মানুষের জন্য কল্যাণকামী। চলুন দেখি-
ক. জীবনের উদ্দেশ্য ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, ফাইলট ইত্যাদি নয় জান্নাতঃ আমাদের সন্তানকে জীবনের উদ্দেশ্য যে জান্নাত তা প্রথমে জানিয়ে দিতে হবে। জীবনের অনেক কাজের উপার্জন একটি মাত্র যা কখনো জীবনের উদ্দেশ্য হতে পারে না। ব্যবসা বা যে কোন হালাল উপায়ে রিজিক অন্বেষণ করা বৈধ। যারা শারীরিক শ্রম করে তাদের আয় কম আর সুখ বেশি। তাদের জান্নাতে যাওয়া খুবই সহজ। হাদিসে বলা হয়েছে যে গরীবরা ৫০০ বছর আগে জান্নাতে যাবে ধনীদের হতে। তাই যে আল্লাহ আমাদের দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন, আমাদের উচিৎ তার নির্দেশ মেনে দুনিয়ায় মুসাফিরের মত জীবন-যাপন সেই আল্লাহকে খুশী করা।
খ. পৃথিবীতে ভালো মানুষের সংখ্যা কমঃ আপনি যখন কোরআনের আয়াত গুলো পড়বেন তাতে দেখবেন। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাদের বেশির ভাগই খারাপ তথা অকৃতজ্ঞ, ওয়াদা ভঙ্গকারী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, ইবাদত করেনা ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাদের খুব অল্পই ভালো তথা ইবাদাতকারী, শুকরিয়া আদায়কারী, তাহাজ্জুদ আদায়কারী ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষ খারাপ এইটা যখন আপনার সন্তান আপনার থেকে জানতে পারবে সেই সর্তক হয়ে যাবে। কারণ সেই মানুষের ক্ষতি না করলেও মানুষ যে তার ক্ষতি করার জন্য ওতপেতে আছে তাই ঠিক। তবে সবারই উচিৎ হবে মন্দের জবাব ভালো দিয়ে দেওয়া যা নবীরা করেছেন। আল্লাহও তাই পছন্দ করে কারণ কোরআনের আয়াত হল মন্দের জবাব ভালো দিয়ে দেওয়া।
গ. মানুষ ত্বরা প্রবণ ধৈর্য্য ধরার উপদেশঃ
আল্লাহ আমাদের শুধু সৃষ্টিই করেন নাই। আমাদের কল্যাণ আর অকল্যাণের পথ দুইটাই দেখিয়ে দিয়েছেন। আবার আল্লাহ আমাদের কল্যাণ আর অকল্যাণ তথা সবকিছুই সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর এই সবের নিয়ন্ত্রণে তাকে ক্লান্তিও স্পর্শ করেনা। কোরআনে আল্লাহ বলেন, আমিই দান করি পরিমিত রিযিক তোমাদের জন্য এবং অধিক পরিমাণে কম-বেশি রিযিক দিলে মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের রিযিকের সংকোচ ও প্রসারণ দ্বারা পরীক্ষা করেন। তাই দুনিয়ার জীবনকে পরীক্ষা বলা হয়। আর এই সংকোচন ও প্রসারণ মেনে নিতে হয় ধৈর্যের মাধ্যমে। তাই কোরআনে ৯০বার ধৈর্য ধারণের আল্লাহ উপদেশ দিয়েছেন।
ঘ. দুনিয়া ও আখিরাতের সচ্ছ জ্ঞান দানঃ
দুনিয়ার জীবনের ভোগের উপকরণ হল অতি সামান্য। দুনিয়ায় মানুষের অনেক বালা-মুসিবত থাকে। দুনিয়ার কাজের উপরই আখিরাতে বিচার ফয়সালা হবে। যাদের দুনিয়ায় আমল ভালো হবে তারাই জান্নাতের উত্তরাধিকার লাভ করবে। জেনে রাখা ভালো, যারা কাফের বা মুশরিক আছে তাদের বিনা হিসেবে জাহান্নাম পাবে। আর যারা আল্লাহ ও তার নবী সঃ কে বিশ্বাস ও সেই অনুযায়ী আমল করছে শুধু তাদেরই পরকালে বিচার হবে।
ঙ. জীবনের বিভিন্ন ধাপে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময় নেওয়া ও আগেই সিদ্ধান্তের সঠিক যাচাইঃ এইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমরা কাজ করার পর যদি দেখি সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। তাহলে আমরা হতাশই হব। ভালো সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করে তার পরেই আল্লাহর উপর নির্ভর করতে হয় এবং তাকদীরের ভালো বা মন্দ মেনে নিতে হয়। কোনভাবেই ধৈর্য হারা বা বাঁধ বাধা আনন্দে মেতে উঠা যাবেনা।
চ. বন্ধু ও শত্রুকে চেনাঃ সমাজ কিভাবে চলে আর সমাজের মানুষগুলোর আচরণ কিরূপ সেই সম্পর্কে ধারণা রেখেই আপনার বন্ধু বা শত্রু নির্ধারণ ও চিনে নিতে হবে। আল্লাহর খুশীর জন্য বন্ধুত্ব এবং তার খুশীর জন্য শত্রুতা করতে হবে। এই হিসাব করলে ইব্রাহিম আঃ এর মত পিতাও শত্রু হয় আর নূহ আঃ এর ছেলেও জাহান্নামী হয়। যে ঈমানদার তার সাথে রক্ত বা বৈবাহিক সম্পর্ক না থাকলেও শুধুমাত্রই আল্লাহর ভালোবাসার কারণে সে অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হয়।
মানবীয় গুণাবলী ও দুর্বলতা সম্পর্কে জ্ঞান দানঃ
মানুষের ভিতর সৃষ্টিগতভাবে নির্মল নিষ্পাপ হয়। কিন্তু যখন সে সমাজিক পরিবেশের সঙ্গে মিশতে শুরু করে তখন তার সঙ্গীদের হতে ভালোগুণ কিংবা খারাপগুণ অর্জন শুরু করে দেয়। তাই বলা হয় সৎ সঙ্গে সর্গে বাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। চলুন কিছু মৌলিক মানবীয় সৎ গুণাবলী ও অসৎ গুণাবলী সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ক. শালীনতাঃ
শালীনতা অর্থ মার্জিত, সুন্দর, শোভন, সভ্য ইত্যাদি। কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও চলাফেরায় ভদ্র, সভ্য ও মার্জিত হওয়াকে শালীনতা বলে। শালীনতার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। যা বহু নৈতিক গুণের সমষ্টি।
ভদ্রতা, নম্রতা, সৌন্দর্য, সুরুচি, লজ্জাশীলতা ইত্যাদি গুণাবলীর সমন্বিত রূপের মাধ্যমে শালীনতা প্রকাশ পায়। শালীনতার বিপরীত হলো অশ্লীলতা। গর্ব, অহংকার, ঔদ্ধত্য, কুরুচি, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ইত্যাদি শালীনতাবিরোধী অভ্যাস।
খ. ধৈর্যশীলঃ
আমাদের জীবন ফুল সজ্জা নয়, জীবনে আছে নানা উত্থান-পতন। আমরা উত্থানে আত্মাহারা হয়ে যাই আবার পতন, বিপদ বা কিছু প্রিয় বস্তু হারিয়ে ফেললে হতাশা গ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়ি। কোন অবস্থাতেই ধৈর্য্য ধারণকারী হতে পারিনা। কিন্তু আল্লাহ বিপদগুলো দেন মানুষকে পরীক্ষা হিসেবে। আর যে বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করলো সেই সফলকাম হলো।
হে বৎস! সালাত কায়েম করবে, ভাল কাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ করবে, এটাইতো দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (Luqman 31:17)
আবূ ইয়াহয়া সুহাইব ইবনু সিনান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মুমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক। তার প্রতিটি কাজে তার জন্য মঙ্গল রয়েছে। এটা মু’মিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। সুতরাং তার সুখ এলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। ফলে এটা তার জন্য মঙ্গলময় হয়। আর দুঃখ পৌঁছলে সে ধৈর্য ধারণ করে। ফলে এটাও তার জন্য মঙ্গলময় হয়।’’
উৎস ঃ মুসলিম ২৯৯৯, আহমাদ ১৮৪৫৫, ১৮৪৬০, ২৩৪০৬, ২৩৪১২, দারেমী ২৭৭৭
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। সে একটি কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। তিনি বললেন, ‘‘তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্য ধারণ কর।’’ সে বলল, ‘আপনি আমার নিকট হতে দূরে সরে যান। কারণ, আমি যে বিপদে পড়েছি আপনি তাতে পড়েননি।’ সে তাঁকে চিনতে পারেনি (তাই সে চরম শোকে তাঁকে অসঙ্গত কথা বলে ফেলল)। অতঃপর তাকে বলা হল যে, ‘তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন।’ সুতরাং (এ কথা শুনে) সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুয়ারের কাছে এল। সেখানে সে দারোয়ানদেরকে পেল না। অতঃপর সে (সরাসরি প্রবেশ করে) বলল, ‘আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।’ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘আঘাতের শুরুতে সবর করাটাই হল প্রকৃত সবর।’’
মুসলিমের একটি বর্ণনায় আছে, সে (মহিলাটি) তার মৃত শিশুর জন্য কাঁদছিল।
উৎস ঃ সহীহুল বুখারী ১২৫২, ১২৮৩, ১৩০২, ৭১৫৪, মুসলিম ৯২৬, তিরমিযী ৯৮৮, নাসায়ী ১৮৬৯, আবূ দাউদ ৩১২৪, ইবনুূু মাজাহ ১৫৯৬, আহমাদ ১১৯০৮, ১২০৪৯, ১২৮৬০।
গ. জ্ঞানী ও বিচক্ষণঃ
যে আল্লাহকে ভয় করে মূলত সেই প্রকৃত জ্ঞানী। আল্লাহ বলেন আমার বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই আমাকে ভয় করে।
বিচক্ষণতা শব্দের অর্থ হল অভিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান, দূরদর্শী; কর্মকুশল। সুতরাং, বন্ধু বিচক্ষণ জ্ঞানী হলে সেই কল্যাণের পথই দেখাবে।
ঙ. সুন্দর ও মাধুর্যময় চরিত্রঃ
চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ। নবী সঃ বলেছেন যার চরিত্র নেই তার ঈমান নেই। তাই যে সকল প্রকার অশ্লীল, বেহায়াপনা, নির্লজ্জ আচরণ হতে দূরে থাকে আর সত্য ও সুন্দরের সাথে সেই সফলকাম।
চ. নেককার ও পূণ্যবানঃ
ফেরেশতারা শুধু আদেশ মান্য করতে পারে অর্থাৎ অবাধ্য হওয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু আল্লাহ মানুষকে তৈরি করে দুইটা ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছেন। এক হল সেই আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী চলতে পারে অথবা তার আদেশের অবাধ্য হতে পারে। যে সকল মানুষ-জ্বীন আল্লাহর অবাধ্য তারা শয়তান, আর যারা আল্লাহর অনুগত তারাই মুসলিম।
ছ. লোভঃ
লোভ অর্থ অপরের জিনিস পাবার প্রবল বাসনা, লিপ্সা, বিষয়-তৃষ্ণা। আল্লাহ যাকে যা দেন তাই তার প্রাপ্য। যেই ধৈর্য্যশীল সেই তার যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে কিন্তু যে লোভী সেই অন্যের সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট থাকে। সেই আরও বলে অন্যের যা আছে তার তা নেই কেন। ফলে সে মনঃক্ষুণ্ন হয়। বিভিন্ন ভাবে তা পাওয়ার জন্য বৈধ বা অবৈধ পন্থা খোঁজে, যার ফলে তার আশেপাশে কেউ শান্তিতে থাকতে পারেনা। সেই নিজেও সব সময় অস্থির আর অস্থির।
জ. হিংসাঃ
হিংসা শব্দের অর্থ বধ, হনন, অনিষ্ট, ক্ষতি, ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা।
ঝ. অহংকারঃ অহংকার শব্দের অর্থ আত্মাভিমান অহমিকা, গর্ব। যারা অহংকার করে আল্লাহ তাদের পছন্দ করেননা।
ঞ. বিশ্বাসঘাতকঃ
বিশ্বাসঘাতক শব্দের অর্থ জাল, কূট, ভুল, অবাস্তব, মিথ্যা, কৃত্রিম, অসত্য, মিথ্যাবাদী, বিশ্বাসঘাতক, মেকি, মেকী, জাল-করা, অপ্রকৃত, অযথার্থ, অস্তিত্বহীন, ঝুঁট, ঝুটা, অলীক, অতথ্য, প্রতারণাপূর্ণ, অমূল।
ট. নির্মমঃ
নির্মম শব্দের অর্থ মমতাশূন্য, নিষ্ঠুর।
ঠ. মিথ্যাবাদীঃ
মিথ্যাবাদী শব্দের অর্থ যে মিথ্যা কথা বলে এমন।
আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন। তার নিকট সাহায্য আবেদন করছি বেশি বেশি উপকারী জ্ঞান অর্জন করার।
0 Comments