আমাদের সমাজ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন পথ অবলম্বন করলেও বাস্তবে সমস্যা কমছে না। বরণ বিভিন্ন অভিযানের কারণে সমস্যা যারা করে তারা বাধা প্রাপ্ত হলেও থেমে নেই। বরণ নতুন নতুন সদস্য এসে সমস্যা আরও বৃদ্ধি করছে। তাহলে মনে প্রশ্ন আসে এর সমাধান কি নেই আর থাকলে তা কি?
তা জানার আগে চলুন দেখে নেয়া যাক সমাজের বড় সমস্যাগুলো কি কিঃ
১/ যিনা (ইভটিজিং) সমস্যাঃ
মানুষ আজ প্রতিবেশীর হকের কথা বেমালুম ভুলে গেছে। অথচ নবী সঃ বলেছেন, 'সেই ব্যক্তি মুমিন নয় যে তার প্রতিবেশীদের কষ্ট দেয়!!!' প্রতিবেশী আমাদের নিকট নিরাপদ হবে এটাই স্বাভাবিক। তাহলে আমরাও তাদের নিকট নিরাপদ থাকবো। অর্থাৎ সমাজে কোন মারামারি কাটাকাটি কিংবা হানাহানি থাকবেনা, মানে সমাজটা হবে একে অন্যের কল্যাণ কামনায় মুখরিত। সবাই সবাইকে যে সমাজে ভালোবাসে সেই সমাজ হয় সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের উপর। নারীর সম্মান ও দায়িত্ব ঘরে আর পুরুষ সম্মান ও দায়িত্ব বাহিরে। পুরুষ নারীর অভিভাবক। এই সব জেনে, বুঝে আর মেনে নিলেই কল্যাণ। মানুষ পৃথিবীতে মঙ্গল গ্রহ জয় করার জন্য আসে নাই, বরং এসেছে জান্নাত জয় করতে।
২/ মাদক সমস্যাঃ
কিছু বিষয় আছে যা দ্বারা শয়তান মানুষের মনুষ্যত্ব নষ্ট করে দেয় অর্থাৎ মানুষ শয়তানের মত আচরণ শুরু করে দেয়। তা হল মদ, জুয়া, ভাগ্য নির্ধারক তীর, নেশা করার পণ্য। তাই আমাদের মনুষ্যত্ব নষ্টকারী সকল বস্তু হতে দূরে থাকতে হবে।
৩/ অধিকাংশ মানুষ আজ হতাশঃ
আল্লাহর রহমত আমাদের ঢেকে রেখেছে। আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন দুই চোখ, দুই হাত, দুই কান, দুই পা, নাক, মুখ, মাথা, অন্তঃকরণ, দুই কিডনি, ফুসফুস, হার্ট, কলিজা, হজম শক্তি, রক্ত, হাড়, গোসত, যৌন ক্ষমতা ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছু।
তিনি আমাদের আরো দিয়েছেন , পিতা, মাতা, ভাই, বোন, আরও অনেক আত্মীয় স্বজন, গাছগাছালি, পানি, বাতাস, মাটি, বৃষ্টি, আকাশ, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অনেক অনেক নেয়ামত যা হতে আমাদের রিযিক আসে।
আমরা এই সকল নেয়ামতের কথা ভুলে গেছি, নিজেদের আল্লাহ স্মরণ হতে দূরে রেখে তার নাফারমারীতে ডুবে আছি। ফলে শয়তান আমাদের গ্রাস করে দুনিয়ার টেনশনে ব্যাস্ত রেখেছে। অথচ আমরা তার শুকরিয়া আদায় ব্যস্ত সময় পার করলে তিনি আমাদের নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দিতেন। দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করতেন।
৪/ মানুষের জীবন থেকে তৃপ্তি উঠে গেছেঃ
আল্লাহর নিয়ম হল যারা শুকরিয়া আদায় করবে তাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দিবেন, জীবনের সকল ক্ষেত্রে বরকত বাড়িয়ে দিবেন। কম সম্পদে প্রয়োজন পূরে আরও সম্পদ থেকে যাবে। এক সাহাবী যখন নবী সঃ কে বলেছিলেন আমি ধনী হতে চাই, তখন নবী সঃ বলেছিলেন হে আমার সাহাবী তুমি অল্পে খুশী থাক আল্লাহ তোমাকে ধনী করে দিবেন। আমাদের অধিক পাওয়ার প্রতিযোগিতা আজ আমাদের সকল সুখ কেড়ে নিয়েছে!!! তাই চলুন বেশি বেশি ইবাদত করে নিজেদের পাপ মোচনের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠি। তাহলে আমাদের জীবনে ফিরে আসবে তৃপ্তি ও স্বস্তি। আর উপভোগ করবো সুখময় জীবন।
৫/ মানুষ আজ হানাহানিতে লিপ্তঃ
আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানব জাতির কল্যাণের জন্যই। আমাদের আদেশ করা হয়েছে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার জন্যই। অথচ আজ আমরা জ্ঞান হারা হয়ে হতাশ এবং শুধু নিজেদের চিন্তায় মশগুল। তাই সহজেই নিজে ভালো থাকার জন্য অন্যের হক নষ্ট করছি। অন্যের সম্পদ কেড়ে নিচ্ছি আর অতিরিক্ত খেয়ে নিজেরা নানা রকম মরণ ব্যাধিতে আক্রন্ত হচ্ছি যেমন- ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, রক্ত চাপ, ইত্যাদি ইত্যাদি। সহজেই অন্যকে বিপদে ফেলে দিচ্ছি, আঘাত করছি এমনকি মেরেও ফেলছি। অথচ যারা এইসব খারাপ কাজে লিপ্ত তাদের দুনিয়ার জীবন ধ্বংস ও আখিরাতের জীবনে রয়েছে জাহান্নামের আগুন।
মানুষ কি ও কেনঃ
চলুন দেখি মানুষ কি, আল্লাহ বলেন তোমরা মানুষই জমিনে শ্রেষ্ঠ। অন্য সকল প্রাণীকে, গাছগাছালি, বিভিন্ন বস্তুকে অর্থাৎ সকল কিছুই মানুষের কল্যাণেই সৃষ্ট। তেমনি মানুষ নিজেও মানুষ ও পৃথিবীর অন্য সকল বিষয়ে প্রতি হবে কল্যাণকামী। সেই তার বাসস্থান, খাবার, পোশাক ইত্যাদি সুযোগ- সুবিধা নিতে গিয়ে সে দুনিয়াতে অন্যায় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না। সেই সকল কিছুর প্রতি হবে কল্যাণকামী। তাহলে পৃথিবীতে আর ধ্বংসকর পরিবেশ তৈরি হবেনা।
আল্লাহ বলেন তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত মানব জাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। তোমরা আদেশ করবে সৎ কাজের আর নিষেধ করবে মন্দ কাজের।
আল্লাহ কল্যাণকর বস্তু খেতে বলেঃ
এই পৃথিবী কল্যাণ ও অকল্যাণের সমন্বয়েই সৃষ্ট। তবে পৃথিবীতে ভালো খাবারই বেশি আর খারাপ খাবারের সংখ্যা কম। আল্লাহ বলেন হে মানুষ পৃথিবীর ভালো খাবার খাও আর খারাপ খাবার খেয়ো না। পৃথিবীতে শয়তান মানুষকে অভাবের ভয় দেখায় আর অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়। আর আল্লাহ ওয়াদা দিয়েছেন সম্পদ ও সৎ কাজের। তাই অশ্লীলতার সাথেই অভাব আর সৎ কাজের সাথেই সচ্চলতা জড়িত।
পৃথিবীতে সব কিছুই আল্লাহর সৃষ্টি। যে যা তৈরি করে তিনি কিভাবে তা পরিচালনা করতে হয় তার একটা গাইড বই দেন। তেমনি মানুষ স্বীকার করুক আর নাইবা করুক, মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষের কিসে কল্যাণ আর কিসে অকল্যাণ তা আল্লাহ আসমানী কিতাব তথা কোরআনে বারবার বলে দিয়েছেন। তাই পরকালে যাতে আমাদের নেকীর পাল্লা ভারী হয় আর গুনার পাল্লা হালকা হয়। এই চেষ্টা চালিয়ে যদি আমরা সফল হতে পারি তাহলেই আমরা পৃথিবীর সকল সমস্যা সমাধান করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
0 Comments