বিয়ে করলে স্ত্রী, পিতা, মাতা, ভাই, বোন, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, শ্যালক, শালিকা ইত্যাদি সবার সাথে যেভাবে মানিয়ে নিবেন!!!
আপনি বিয়ে করলে দেখবেন যে, বিয়ের আগে পরিবারে আপনার এক অবস্থান আর বিয়ের পর আরেক অবস্থান। বিয়ের আগে সবাই দেখবেন আপনার, ফলে আপনি চিন্তাও করেন আপনার মতো করেই। কিন্তু বিয়ে করলে দেখবেন সবাই তার নিজের মত করে আপনাকে চিন্তা/বিচার করছে। সবাই ভাবা করা শুরু করে যে, আপনি বিয়ের পর আগের অবস্থানে আর নেই! আবার অনেকে অধিক ও সম্পদ নিয়েও ভাগাভাগি শুরু করে দেয়। তাই বিবাহের সাথে সাথে এই বিষয়গুলো কিভাবে খাপ খাইয়ে নিবেন তা জানা খুবই জরুরী।
১/ মনে রাখুন আপনি শুধু আপনার স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। আর সন্তান হলে তাদেরও।
২/ আপনার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি আপনার বউকে লালন-পালন করেছেন। তাই তাদের সাথে মা-বাবার মতই আচরণ করুন। সাধ্য অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব নিবেন যদি তারা অসহায় হয়।
৩/ আপনি শালীদের সাথে পর্দা করুন। শালাদের সাথে ছোট ভাইয়ের মত আচরণ করুন। মাঝে মধ্যে তাদের সাধ্য অনুযায়ী গিফট দিবেন কিন্তু তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আপনার নয়।
৪/ স্ত্রীর বন্ধবীর সাথেও পর্দা করুন। নবী সঃ তার স্ত্রীর বান্ধবীদেরও ছোট খাটো গিফট দিতেন।
৫/ স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই ১৪জন ব্যতিত সবার সাথে পর্দা করবেন। এতে দুনিয়ায়বী সম্পদের প্রতিযোগিতা হতে দূরে থেকে ইবাদতে বেশি সময় দিতে পারবেন। পেরেশানি অনেকাংশে থাকবেনা।
৬/ ইসলাম শুধু ছেলের খরচের অনুমোদন দেয়। তাই মেয়ের বাড়ী হতে দুধ, কলা, বিভিন্ন উৎসবে নানা রকম খাবার বা জিনিসপত্র কিংবা ছাগল, গরু ইত্যাদি উপহার একদমই নিবেননা। বরং সাধ্য অনুযায়ী পারলে দিবেন। আপনার স্ত্রী বাবার বাড়ী হতে যে সম্পদের হকদার হয়েছে তা আনতে উৎসাহিত করুন স্ত্রীকে।
৭/ মনে রাখবেন বিয়ে আল্লাহর বিধান। তাই এই বিধানে অনৈসলামিক বা কোন সামাজিক প্রথাকে প্রাধান্য দিবেননা। এই সব বিয়েকে যেমন কঠিন করে তেমনি আপনাদের নানা রকম জটিলতায় ফেলে দিচ্ছে সহজেই। বিবাহ যত সহজ হয়, যিনা ততই কঠিন হয়।
৮/ মনে রাখবেন ইসলামে বিয়ে সহজ। আর অধিকাংশ মানুষ খারাপ তাই বিয়ের পাত্রী দেখা হতে শুরু করে সবকিছু ভালো আলেম, বাবাসহ দুই বা একজন অভিভাবকের সাথে পরামর্শ করবেন। পাত্রী শুধু আপনি দেখতে পারবেন, সাথে একজন নারীও নিয়ে যাবেন। নারী একজনের বেশি না নেওয়াই ভালো কারণ নারীরা নারীদের দোষ খুঁজে বেশি! আর ভালো আলেম দুই বা একজনের সাথে পরামর্শ করেই বিবাহের সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিবেন। তাহলেই বিয়ে সহজ হবে। আত্নীয় স্বজনদের বিয়ের সিদ্ধান্ত ফাইনাল হলে পরেই জানাবেন। আগে জানালে ক্ষতি ছাড়া লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
৯/ আপনার আপন পিতা-মাতা ইসলামী বিয়েতে আপনার বাঁধা হয়ে দাড়ানোর সম্ভবনা বেশি। বিয়ের খরচ শুধুই ছেলের, কিন্তু তারা মেয়ে পক্ষের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করবে। তারা কিছু অন্যায় আবদার করবে, ছেলে মানুষ করার অযুহাতে যৌতুক দাবি করাও তাদের জন্য অস্বাভাবিক কিছু না।
১০/ আপনি যেহেতু নতুন বিয়ে করেছেন, আপনার পিতা মাতা আপনাকে চাপে রেখে মেয়েপক্ষ হতে অন্যায় আবদার করবে। আপনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় দৃঢ় থাকবেন। অন্যথায় তারা অবশ্যই গন্ডগোল লাগিয়ে দিবে। হ্যাঁ, আমি আবার বলছি তারা গন্ডগোল লাগাবেই অবশ্যই।
0 Comments