বিয়ের পরেই ক্যারিয়ার আগে নয়!!!
ক্যারিয়ার হল মানুষের আয় শুরু করা। কিন্তু এই আয় সাবালক হওয়ার সাথে সাথেই শুরু করতে ইসলাম নির্দেশ দেয়। নিজের হাতের উপার্জিত খাবার ই সবচেয়ে উত্তম!!!
তাই সাবালক হওয়ার আগেই পিতা-মাতার উচিৎ ছেলে সন্তানকে সাবালক হলে যে, আয় শুরু করতে হবে সেই বিষয়ে ধারণা দেওয়া। শুধু ধারণা নয়, তাদের উচিৎ কিভাবে আয় শুরু করে তা করে দেখানো। আর সাবালকত্ব লাভ করলে কিছু কিছু আয়ের চর্চা প্রত্যেক ছেলে সন্তানকেই করতে হয়।
আবার ঈমান অর্থ বিশ্বাস, আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করার মাধ্যমে তার নিকট নিজের আত্মাসমর্পণ করলাম। আমারা যারা মুসলিম, আল্লাহ আমাদের অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কোরআনে। এই প্রতিশ্রুতির একটা হলে বিয়ে করলে রিযিক বৃদ্ধি করবেন আল্লাহ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ এর হাদীসেও তাই পাওয়া যায়।
আমরা তরুণরা আজ এক অজানা সাফল্যের পেছনে ছুটছি। ফলে আমাদের পড়াশুনা, চাকরি বা আরও বয়স হয়ে গেলেও, তারপরও আমাদের মাঝে বিয়ের যোগ্যতা আসেনা। আমরা আজ ভুলেই যাচ্ছি যে, আমদের জীবনের সময় নির্দিষ্ট। এই নির্দিষ্ট সময়ের ভিতর আমাদের সকল কিছু সুন্দরভাবে করে যাওয়ার মধ্যেই জীবনের চুড়ান্ত সফলতা।
আমাদের জীবনের ধাপগুলির দিকে যদি তাকাইঃ
১. শৈশব কালঃ
এই সময়টা আমরা সম্পূর্ণভাবে পিতা-মাতার উপর নির্ভর থাকি। আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তাতো দূরের কথা এই সময় আমরা পুরোপুরী অন্যের উপর নির্ভর থাকি। এবং পৃথিবীতে আমাদের বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম চলে।
২. বাল্য কালঃ
এই সময়টা হল আমরা যখন হতে চলাফেরায় সাবলম্ভী হওয়া হওয়া শুরু করি ও যৌন ক্ষমতা লাভের আগ পর্যন্ত। এই সময়ে আমাদের আমলের কিছুই লিপিবদ্ধ করেন না।
৩. কৈশোর কালঃ
এই সময়ের শুরু হতে আমাদের আমল লিপিবদ্ধ শুরু করেন ফেরেশতা। আমরা পৃথিবীতে প্রভাব তৈরি করা শুরু করে দেই। কৈশোর কালই হল বিবাহের উপযুক্ত সময়। কারো বিবাহ করতে দেরি হয়ে গেলে তাকে অবশ্য যৌবনের একেবারে শুরুর দিকেই বিয়ে করে ফেলতে হবে।
৪. যৌবন কালঃ
যে সময়ে আমরা শারিরীকভাবে সম্পূর্ণ পূর্ণতা পাই তখন হতেই যৌবনকাল শুরু হয়। আমরা এই পূর্ণতা নিয়ে থাকি মাঝ বয়স পর্যন্ত মানে ৪০বছর বয়স পর্যন্ত।
৫. প্রৌঢ়ত্ব কালঃ
বয়স যখন চল্লিশ (৪০) হয়, এই সময়টা হল আমাদের যৌবনের শেষ পর্যায়। এই সময় হতে আমরা যৌবন হারানো শুরু করি। এই সময় আমাদের হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়, শরীরের শক্তি হারানো শুরু করি, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গের ক্ষমতা কমতে শুরু করে।
৬. বার্ধক্য কালঃ
এই সময়টা এসে আমরা আবার শিশু কালের মত আস্তে আস্তে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ি। নিজে নিজে কোন কিছুই ভালো ভাবে করতে পারি না।
আমরা শুধু ক্যারিয়ার নির্ভর বিয়ের কথা ভাবলে অনেকে সারা জীবন বিয়ের স্বপ্ন দেখেই সব শেষ। আর বিয়ে করা লাগবে না।
দ্রুত বিয়ে করার প্রয়োজনীয়তা ও উপকারসমূহঃ
১/ বন্ধন সুদৃঢ় হয়ঃ
মানুষের বয়সের সাথে তার আবেগ অনুভূতি অঙ্গা অঙ্গি ভাবে জড়িত। কিশোর বয়সে কাউকে যত সহজে আপন করে নেয়া যায়, যৌবনে তা হয়না। বিবেক বুদ্ধি পূর্ণতা পেলে মানুষ অনেক যুক্তি তর্ক খোঁজে। তাই কিশোর বয়সে বিয়ে করলেই আপনি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে আপনার পারিবারিক জীবনটা শুরু করতে পারেন। ছাত্র জীবনই উপযুক্ত সময় বিয়ে করে সন্তান উৎপাদন করার।
২/ পারিবারিক জীবন কঠিন মনে হয় নাঃ
কেউ কম বয়সে বিয়ে করলে তার পিতা মাতার বয়সও তুলনামূলক কম থাকে। তাই তার সন্তানেরা দাদা দাদী, নানা নানীর আদর ভালোবাসা পায়। শুধু তাই নয় বরং তারা বুদ্ধি, টাকা পয়সা দিয়ে তাদের সাধ্য অনুযায়ী সমস্যা হলে সমাধানের চেষ্টাও করে। তাই আপনার পেরেশানি অনেকাংশেই কমে যায়।
৩/ সন্তানেরা সঠিক সময়ে বড় হয়ঃ
যারা দেরিতে বিয়ে করেছেন তারাই শুধু বুঝেন কি ভুল করেছেন তারা। বন্ধু বান্ধবের সন্তানরা দেয় এইচএসসি পরীক্ষা আর তার সন্তান পড়ে মাত্র ক্লাস ফাইব!!! আবার সন্তানদের বুঝ হতেই দেখে বাবা তাদের বিভিন্ন জায়গা ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার বদলে উল্টো বাবাকে নিয়েই তারা হাসপাতালে ছুটোছুটি করছে।
অপর দিকে যারা কিশোর বয়সেই বিয়ে করেন তারা সন্তানদের প্রচুর সময় দিতে পারেন। সন্তানদের সাথে আনন্দ করতে করতেই দেখেন তারা বড় হয়ে গেছে!!! পরিবারের কর্তা হিসেবে তিনি যেমন আনন্দে থাকেন তার সন্তানরাও এরূপ বাবা পেয়ে খুব খুশীতে থাকে।
৪/ গর্ভকালীন জটিলতা কম হয়ঃ
বিভিন্ন মেডিকেল রিপোর্টে প্রকাশ যে, মেয়েরা ১৫ হতে ২৫ বছরে সহজেই বেবি গর্ভধারণ করে ও গর্ভকালীন জটিলতা কম হয়। আর ২৫বছরের পর হতে নানা রকম গর্ভকালীন জটিলতাও দেখা দেয়। ২৫ বছর হতে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে বেবি গর্ভধারণের হারও দ্রুত কমতে থাকে। তাই বেবি জন্ম দানের উপযুক্ত সময়টা মেয়েরা পড়াশোনা অযুহাতে হারিয়ে ফেলে। তাই ছাত্র জীবনেই বিয়ে করলে সব দিক থেকে সুখী হওয়া যায়।
৫/ পিতার উপর সংসারের চাপ কম হয়ঃ
সংসার মানেই পিতা-মাতা, স্ত্রী, সন্তান। যারা দেরিতে বিয়ে করেন, তাদের একদিকে বয়স্ক পিতা-মাতা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন অন্য দিকে স্ত্রী, সন্তানদের সময় দিতে হয়। দেরিতে বিয়ে করার কারণে সন্তানও ছোট থাকেন।
অন্য দিকে তাড়াতাড়ি বিয়ে করলে পিতা-মাতার যৌবন থাকে ভালো। ফলে সন্তান দাদা-দাদী, নানা-নানীর আদর পায়। নিজেও টেনশন মুক্ত ভাবে সন্তানদের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে পারেন সহজে।
৬/ অবৈধ সম্পর্কের সুযোগ থাকে নাঃ
বর্তমান সময়ে ছেলে-মেয়েরা তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে না পেরে তারা বিরহে ভোগেন। ছেলেরা যৌনতা লাভ করেন ৯ হতে ১৪ বছর বয়সে আর মেয়েরা যৌনতা লাভ করে ৮ হতে ১৩ বছর বয়সে। পৃথিবীর যত বড় বড় সফল ব্যক্তি আছে, সবাই কম বয়সে বিয়ে করেছেন। সবাই মানুষ তাই সকল ধর্মের মানুষের কম বয়সে বিয়ে করার মধ্যেই সফলতা। বিয়ে করলে ছেলেদের মাঝে পূর্ণতা আসে, বিয়ের আগে সব কিছুতেই তাদের উদাসীনতা আসে। দায় দায়িত্ব বুঝতে চেষ্টা করেনা কিন্তু বিয়ে করলে দায়িত্ব কি তা সহজেই বুঝে আসে। বিয়ে তরুণদের দায়িত্বশীল করে তোলে।
তাই তাড়াতাড়ি বিয়ে করবো, সুন্দর জীবন গড়বো। ক্যারিয়ার হবে চমৎকার, পাবো আমরা জান্নাত, ইনশাআল্লাহ।
0 Comments