Search This Blog

সফল হতে হলে এখনই থামুন! চুল পাকিয়ে লাভ নেই!!!


 সফল হতে হলে এখনই থামুন! চুল পাকিয়ে লাভ নেই!!! 

এই পৃথিবী একটা মরিচীকাময় জায়গা। জীবনের প্রতি মূহুর্তে শুধু পাওয়া আর না-পাওয়ার  হিসাব করতে হয়। আর বুঝ হলেই মানুষ হিসাব করা শুরু করে দেয়। এই হিসাব কষতে কষতে মানুষের জীবনের সময়টুকু যে কিভাবে পার হয় মানুষ বুঝতেই পারেনা। কিশোর, যৌবন পার করে বার্ধক্যে পৌঁছে তাও হিসাব চলে যদিও নিজের অজান্তেই চুল পেঁকে যায়। 

পরীক্ষার জায়গায়ঃ

আমাদের জীবন সুখ-দুঃখ নিয়েই এটা না জানার কারণে।  আমরা ধৈর্য হারা হয়ে যাই। মানুষের জীবনে উত্থান-পতন থাকেই। কারণ মানুষ উন্নত হতে হতে ফেরেশতার মতো হতে পারবেনা। আর আল্লাহরও চান মানুষ মানুষের মতই আচরণ করুক এবং এতেই মানুষের কল্যাণ নিহিত রয়েছে।  যেমন-



Al-Baqarah 2:155

وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَىْءٍ مِّنَ ٱلْخَوْفِ وَٱلْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ ٱلْأَمْوَٰلِ وَٱلْأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ 

এবং নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, ধন, প্রাণ এবং ফল-ফসলের দ্বারা পরীক্ষা করব; এবং ঐ সব ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান কর।


দুনিয়া/ পৃথিবী আসল ঠিকানা না নয়ঃ

Al-'Ankabut 29:64

وَمَا هَٰذِهِ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَآ إِلَّا لَهْوٌ وَلَعِبٌۚ وَإِنَّ ٱلدَّارَ ٱلْءَاخِرَةَ لَهِىَ ٱلْحَيَوَانُۚ لَوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ 

আর এ দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং নিশ্চয় আখিরাতের নিবাসই হলো প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত।


মুসাফিরের মত বাঁচি হাদিস- 

ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) আমার দুই কাঁধ ধরে বললেন, তুমি এ দুনিয়াতে একজন মুসাফির অথবা পথচারীর মত থাক।’’ আর ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে আর ভোরের অপেক্ষা করো না এবং ভোরে উপনীত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না। তোমার সুস্থতার অবস্থায় তোমার পীড়িত অবস্থার জন্য কিছু সঞ্চয় কর এবং জীবিত অবস্থায় তোমার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ কর। নোট : এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেন, দুনিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ো না এবং তাকে নিজের আসল ঠিকানা বানিয়ে নিও না। মনে মনে এ ধারণা করো না যে, তুমি তাতে দীর্ঘজীবী হবে। তুমি তার প্রতি যত্নবান হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করো না। তার সাথে তোমার সম্পর্ক হবে ততটুক, যতটুক একজন প্রবাসী তার প্রবাসের সাথে রেখে থাকে। তাতে সেই বিষয়-বস্তু নিয়ে বিভোল হয়ে যেও না, যে বিষয়-বস্তু নিয়ে সেই প্রবাসী ব্যক্তি হয় না, যে স্বদেশে নিজের পরিবারের নিকট ফিরে যেতে চায়। আর আল্লাহই তওফীক দাতা। [বুখারি ৬৪১৬, তিরমিযি ২৩৩৩, ইবন মাজাহ ৪১১৪, আহমদ ৪৭৫০, ৪৯৮২, ৬১২১]


মানুষ ফেরেশতা হতে ভিন্নঃ

মানুষ গুনাহ না করলে আল্লাহ ধ্বংস করে দিতেন হাদিস -

আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন আছে! যদি তোমরা পাপ না কর, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে [তোমাদের পরিবর্তে] এমন এক জাতি আনয়ন করবেন, যারা পাপ করবে এবং আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করবে। আর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।’’ (মুসলিম)[1]

* [এ হাদিস দ্বারা মানুষের মানবীয় দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। মানুষ যে ফেরেশতা হতে ভিন্ন তা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।  মানুষের দ্বারা পাপ হয়ে যায়, কেননা মানুষ মাত্রই ভুলে জড়ায়। তাই ভুলে জড়িত হয়ে পড়লে হতাশ হওয়া যাবেনা বরং আবশ্যিক-রূপে ক্ষমা চাওয়া কর্তব্য ও বুদ্ধিমানের কাজ।]

[1] মুসলিম ২৭৪৯, তিরমিযী ২৫২৬, আহমাদ ৭৯৮৩, ৮০২১ হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


মানুষ ফেরেশতা হতে উন্নত হয়, আর শয়তান হতে নিকৃষ্ট হয়ঃ

সর্বদা আল্লাহর যিকর ও পরকালের বিষয়ে চিন্তা ও মুরাকাবা করা এবং কখনো কখনো তা থেকে বিরত থাকা ও পার্থিব কাজে মশগুল হওয়া প্রসঙ্গ

 ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ... হানযালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছিলাম। তিনি আমাদের ওয়ায-নসীহত করলেন এবং জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, তারপর আমি বাড়ীতে আসলাম এবং ছেলে-মেয়েদের সাথে হাসি-তামাশা করলাম এবং স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করলাম। এরপর আমি বাড়ি থেকে বের হলাম। তখন আবূ বাকর (রাঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হল। আমি তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, আমিও তো এরূপ করেছি, যেমন তুমি বললে।

তারপর আমরা উভয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গিয়েছে। তিনি বললেনঃ তা কী? তখন আমি আমার পুরা অবস্থা বর্ণনা করলাম। এরপর আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমিও তো এরূপ করেছি যেমন হানযালা করেছে। তিনি বললেন, হে হানযাহল! ক্রমান্বয়ে ধীরে ধীরে ওয়ায-নসীহতের সময় তোমাদের হৃদয় যেমন থাকে, সর্বদাই যদি তা এ অবস্থায় থাকতো তবে ফিরিশতাগণ অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে মুসাফাহা করতো। এমনকি পথে ঘাটে তারা তোমাদের সালাম করতো।



জীবনের উদ্দেশ্য একটাইঃ 

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সকল কাজ করতে হয়।  মানুষকে ভালোবাসা, সম্পদ অর্জন, ভ্রমণ, খাওয়া-দাওয়া, বিবাহ, সন্তান লালন-পালন, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, বাড়ি করা, পড়াশোনা করা, ইত্যাদি সকল কিছুই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আর জান্নাত হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির পুরুষ্কার। 


ডাক্তার, ইন্জিনির, পাইলট ইত্যাদি জীবনের পেশা মাত্র, জীবনের উদ্দেশ্য নয়ঃ

শুধু আয়ের জন্যই পেশা, আমাদের আয় দ্বারা আমরা শুধু শরীরের ক্ষুধা মিটাই। আমাদের শরীরের মত মনেরও ক্ষুধা আছে। তা হল ইবাদত যা দিয়ে অন্তরসমূহ শান্তি পায়। কিন্তু আমরা মনের ক্ষুধা না বুঝার কারণে, আমাদের সব আছে তারপরও মনে শান্তি নাই, মন বুঝতে চায়না যে আমার সবই আছে। মানুষ শুধু তার শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ, আলো, বাতাস (অক্সিজেন)  ইত্যাদি ইত্যাদি হাজারো ফ্রী জিনিসের শুকরিয়া সারা জীবন আমল (ইবাদত) করেও আদায় করতে পারবোনা, পারবোনা, পারবোনা।  

 আমাদের জীবনের সময় নির্দিষ্ট। এই সময়টাই পরিবার, আত্মীয়, ইসলামি দওয়াত, বন্ধু, প্রতিবেশী, ইবাদত, আয় করা সকল কাজে একসাথে সময়ের সুসম বন্টন করে দিতে হবে। তাহলেই আমরা সুখী মানুষ তথা সুখী জীবন যাপন করতে পারবো। তা না হলে আমরা শুধুই আয়ের পিছনে ছুটলে দেখবো জীবনের অন্য দিকগুলোতে অপূর্ণতা রয়ে গেছে। এমনকি মারা গেলে সুন্দর একটা জানাযাও পাবোনা। 

আর যেহেতু জীবনের আসল উদ্দেশ্য হল জান্নাত। আর জান্নাত পাওয়া যায় একমাত্র আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ইবাদতের মাধ্যমে। আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজ ইবাদতের উদ্দেশ্যে হওয়াই কাম্য। 

সেই সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয় বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখেনা, তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে – (An-Nur 24:37)

যাতে তারা যে কাজ করে তজ্জন্য আল্লাহ তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদের প্রাপ্যের অধিক দেন; আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করে। (An-Nur 24:38)

যারা কুফরী করে, তাদের আমলসমূহ মরুভূমির মরীচিকা সদৃশ। পিপাসার্ত যাকে পানি মনে করে থাকে, কিন্তু সে ওর নিকট উপস্থিত হলে দেখবে ওটা কিছু নয়, কিন্তু সে পাবে সেখানে আল্লাহকে। অতঃপর তিনি তার কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দিবেন; আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর। (An-Nur 24:39)

অথবা (কাফিরদের কাজ) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে রয়েছে ঘন কালো মেঘ, একের উপর এক অন্ধকার। তার হাতকে বের করলে সে তা আদৌ দেখতে পায়না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দান করেননা তার জন্য কোন জ্যোতি নেই।(An-Nur 24:40)


আখিরাতই আসল ঠিকানাঃ

তোমরা অগ্রে দাবিত হও জান্নাতের দিকে।

Aal-e-Imran 3:133

وَسَارِعُوٓا۟ إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا ٱلسَّمَٰوَٰتُ وَٱلْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ 

তোমরা স্বীয় রবের ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে ধাবিত হও, যার প্রসারতা (বিশালতা)  নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সদৃশ, ওটা ধর্মভীরুদের জন্য নির্মিত হয়েছে।

Aal-e-Imran 3:134

ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ فِى ٱلسَّرَّآءِ وَٱلضَّرَّآءِ وَٱلْكَٰظِمِينَ ٱلْغَيْظَ وَٱلْعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِۗ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلْمُحْسِنِينَ 

যারা স্বচ্ছলতা ও অভাবের মধ্যে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সংবরণ করে ও মানবদেরকে ক্ষমা করে; এবং আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।


চিরস্থায়ী জান্নাত - 

‘তাদের জন্যই রয়েছে নির্ধারিত রুযী ফল-মূল এবং তারা সম্মানিত। তাদের জন্য রয়েছে নেয়ামতের বাগান সমূহ। তারা মুখোমুখি হয়ে আসনে আসীন থাকবে। তাদেরকে ঘুরে ফিরে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ পানপাত্র। তা হবে উজ্জ্বল পানীয় পানকারীদের জন্য সুপেয় সুস্বাদু। তার দরুন তাদের দেহে কোন ক্ষতি হবে না এবং তাদের জ্ঞান বুদ্ধিও নষ্ট হবে না। তাদের নিকট দৃষ্টি সংরক্ষণকারী সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট নারীগণ থাকবে। তারা এমন স্বচ্ছ যেমন ডিমের খোসার নীচে লুকানো ঝিল্লি’ (ছাফফাত ৪১-৪৯)


আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল(সা.) বলেছেন, জান্নাতে এমন একটি বড় গাছ আছে, যদি কোন সওয়ারী তার ছায়ায় একশত বছর ভ্রমণ করে তবুও তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। জান্নাতে তোমাদের কারো একটি ধনুকের সমপরিমাণ জায়গাটাও সূর্য যার উপর উঠে ও ডুবে তার চেয়ে উত্তম (বুখারী, মুসলিম, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৩৭৪)। হাদীছে বুঝা গেল জান্নাতের ধনুকের সমপরিমাণ জায়গা গোটা পৃথিবীর চেয়ে উত্তম।


ওবাদা ইবনে ছমেত (রা.) বলেন, রাসূল(সা.) বলেছেন, জান্নাতের স্তর হবে একশতটি। প্রত্যেক দু’স্তরের মাঝখানের ব্যবধান হবে আসমান ও জমিনের দূরত্বের সমান। জান্নাতুল ফেরদাউসের স্তর হবে সবচেয়ে উপরে। সেখান থেকে প্রবাহিত রয়েছে চারটি ঝরণাধারা এবং তার উপর আল্লাহর আরশ। সুতরাং তোমরা যখনই আল্লাহর কাছে চাইবে তখন ফেরদাউস চাইবে (বুখারী, মুসলিম, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৩৭৬)। অত্র হাদীছে যে চারটি ঝরণার কথা রয়েছে তা পানি, মধু, দুধ ও শরবের ঝরণা হ’তে পারে।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল(সা.) বলেছেন, প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা ১৫ দিনে চন্দ্রের ন্যায় উজ্জ্বল ও সুন্দর রূপ ধারণ করে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারপর যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা হবে আকাশের তারকার ন্যায় ঝকঝকে। জান্নাতীদের সকলের অন্তর এক ব্যক্তির অন্তরের ন্যায় হবে। তাদের মধ্যে কোন মতবিরোধ থাকবে না এবং হিংসা বিদ্বেষও থাকবে না। তাদের প্রত্যেকের জন্য বিশেষ হুরদের মধ্য থেকে দু’জন দু’জন করে স্ত্রী থাকবে। বেশি সুন্দরী হওয়ার দরুন তাদের হাড় ও গোশতের উপর হ’তে নলার ভিতরের মজ্জা দেখা যাবে। তারা সকাল-সন্ধায় আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনায় রত থাকবে। তারা কখনও অসুস্থ হবে না। তাদের পেশাব হবে না। তাদের পায়খানার প্রয়োজন হবে না। তারা থুথু ফেলবে না। তাদের নাক দিয়ে শ্লেষ্যা বের হবে না। তাদের ব্যবহারিক পাত্র সমূহ হবে সোনা-রূপার। তাদের চিরনী হবে স্বর্ণের এবং তাদের সুগন্ধির জ্বালানী হবে আগরের। তাদের গায়ের ঘাম হবে কস্তরীর মত সুগন্ধি। তাদের স্বভাব হবে এক ব্যক্তির ন্যায়। শারীরিক গঠন হবে তাদের পিতা আদম (আঃ)-এর মত, উচ্চতায় ষাট গজ লম্বা হবে (বুখারী, মুসলিম, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৩৭৮)


সফলতা শুরু আল্লাহর সন্তুষ্টিতেইঃ 

'যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। আর যারা ঈমান আনে তাতে, যা তোমার প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যা তোমার আগে নাজিল করা হয়েছে। আর আখিরাতের প্রতি তারা পূর্ণ বিশ্বাস রাখে। তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়েতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩-৫)

'যারা অনুসরণ করে রাসুলের, যে উম্মি নবী; যার গুণাবলি তারা নিজদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যে তাদের সৎকাজের আদেশ দেয় ও বারণ করে অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে, আর অপবিত্র বস্তু হারাম করে। আর তাদের থেকে তাদের ওপর থাকা বোঝা ও শৃঙ্খল অপসারণ করে। সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সঙ্গে যে নূর নাজিল করা হয়েছে তা অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৫৭)

'এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত, সৎকর্মশীলদের জন্য হিদায়েত ও রহমতস্বরূপ, যারা নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত দেয়, আর তারাই আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে; তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়েতের ওপর  এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ২-৫)

'আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।’ (সুরা : আলে-ইমরান, আয়াত : ১০৪)

‘মুমিনদের যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর প্রতি এ মর্মে আহ্বান করা হয় যে তিনি তাদের মধ্যে বিচার মীমাংসা করবেন, তাদের কথা তো এই হয় যে তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৫১)

কিয়ামতের দিন যাদের আমলের পাল্লা ভারী হবে, তারাও সফলকাম। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর সেদিন পরিমাপ হবে যথাযথ। সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১০২)

‘কিন্তু রাসুল ও তাঁর সঙ্গে মুমিনরা তাদের মাল ও জান দিয়ে লড়াই করে, আর সেসব লোকের জন্যই রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৮৮)

‘অতএব আত্মীয়-স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকিন ও মুসাফিরকেও। এটি উত্তম তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় এবং তারাই সফলকাম।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ৩৮)

'তুমি পাবে না আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী এমন কোনো সম্প্রদায়, যারা ভালোবাসে আল্লাহ ও (পাশাপাশি) তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধাচরণকে (ভালোবাসে)—হোক না এই বিরুদ্ধাচরণকারী তাদের পিতা, অথবা পুত্র, অথবা ভাই, অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। এদের অন্তরে আল্লাহ সুদৃঢ় করেছেন ঈমান এবং তাদের শক্তিশালী করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে রুহ দ্বারা। তিনি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেথায় তারা স্থায়ী হবে; আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এরাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।’ (সুরা : মুজাদালা, আয়াত : ২২)

'আর মুহাজিরদের আগমনের আগে যারা মদিনায় নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং ঈমান এনেছিল (তাদের জন্যও এ সম্পদে অংশ রয়েছে), আর যারা তাদের কাছে হিজরত করে এসেছে তাদের ভালোবাসে। আর মুহাজিরদের যা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য এরা তাদের অন্তরে কোনো ঈর্ষা অনুভব করে না। এবং নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ওপর তাদের অগ্রাধিকার দেয়। যাদের মনের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ৯)


তাই সময় পুরানোর আগেই মানুষের উপকার আর আল্লাহর ইবাদত করুনঃ 

 ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজে বাধা দেবে।’ (সুরা-৩ আলে-ইমরান, আয়াত: ১১০)। এ বিষয়ে বিশ্বনবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা জগদ্বাসীর (পৃথিবীবাসীর) প্রতি সদয় হও, তাহলে আসমানের মালিক আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি সদয় হবেন।’ (তিরমিজি: ১৮৪৭)।

রাসুলে কারিম (সা.) বলেছেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। তাই পরোপকারের চেতনায় কোনো শ্রেণিভেদ নেই। বড়-ছোট, ধনী-গরিব, আত্মীয়-অনাত্মীয়, স্বজাতি-বিজাতি, মুসলিম-অমুসলিম এসব ব্যবধানের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামের শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন মিলেমিশে থাকে। তার মধ্যে ভালো কিছু নেই, যে মিলেমিশে থাকতে পারে না। যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।’ (আল-মুজামুল আওসাত: ৫৭৮৭)।

পরোপকারে নিজেরও কল্যাণ সাধিত হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘অবশ্যই দান-সদকা মানুষের হায়াত বৃদ্ধি করে। অপমৃত্যু থেকে বাঁচায় এবং অহমিকা দূর করে।’ (আল-মুজামুল কাবীর: ১৩৫০৮)।

আল–কোরআনে রয়েছে, ‘কে আছে যে আল্লাহকে কর্জে হাসানা উত্তম ঋণ দেবে, তাহলে তিনি তার জন্য একে বর্ধিত করে দেবেন এবং তার জন্য সম্মানজনক প্রতিদানও রয়েছে।’ (সুরা-৫৭ হাদিদ, আয়াত: ১১)।

 কোরআন কারিমে রয়েছে, ‘আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও তাদের সম্পদ খরিদ করে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত আছে, এর বিনিময়ে।’ (সুরা-৯ তাওবা, আয়াত: ১১১)। ‘নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, যে ক্ষেত্রে তারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদের প্রতিদান বর্ধিত করা হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।’ (সুরা-৫৭ হাদিদ, আয়াত: ১৮)।

প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি সমস্যাগুলোর একটি সমাধান করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার আখিরাতের সংকটগুলোর একটি মোচন করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-গুণ গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।’ (মুসলিম: ২৬৯৯)।

Aal-e-Imran 3:102

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ 

হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যেমনভাবে করা উচিৎ এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যু বরণ করনা।



সম্পদ আরোহণের সীমাঃ

অর্থের মোহ মানুষের শত্রু : আল্লাহ তায়ালা সূরা আত তাকাসুরে বলেছেন, ‘পার্থিব অর্থ লাভ করার মোহ তোমাদেরকে উদাসীন ও গাফেল করেছে। আজীবন সম্পদ বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকো। এমনকি মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এ চিন্তায় রত থাকো। হজরত হাসান বসরি রহ: বলেছেন, ‘মানুষকে সম্পদ ও সন্তানের মোহ স্র্রষ্টার আনুগত্য করা থেকে গাফেল রাখে।’ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি একটি পরীক্ষা’ (সূরা আত-তাগাবুন-১৫)। 

মহানবী সা: বলেন, ‘তুমি যে শত্রুকে হত্যা করতে পারার কারণে সফল হলে কিংবা সে তোমাকে হত্যা করলে তুমি জান্নাত লাভ করলে সে তোমার আসল শত্রু নয়। বরং তোমার আসল শত্রু তোমার ঔরসজাত সন্তান এবং তোমার ওই সম্পদ যার তুমি মালিক হয়েছ (তিবরানি)। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের শত্রু’ (সূরা আত তাগাবুন- ১৪)।

 আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন, ‘অতএব তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে। আল্লাহর ইচ্ছা হলো এগুলো দ্বারা দুনিয়ার জীবনে তাদের আজাবে নিপতিত রাখা এবং প্রাণবিয়োগ হওয়া কুফরি অবস্থায়’ (সূরা আত-তাওবা-৫৫)।


নিয়ে সম্পদের হিসাব নেয়া হবে : আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমার আল্লাহর নিয়ামতসমূহ গণনা করতে থাকো, তাহলে সেগুলো গণনা করে শেষ করতে পারবে না’ (সূরা ইবরাহিম-৩৪)। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘অতঃপর অবশ্যই সে দিন তোমাদের এ নিয়ামতগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’ (সূরা আত-তাকাসুর-৮)। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা: বলেন, একদা রাসূলুল্লøাহ সা: আমাদের এখানে আসেন। আমরা তাকে খাওয়ার জন্য তাজা খেজুর এবং পান করার জন্য ঠাণ্ডা পানি দিলাম। তিনি তখন বলেন, এগুলো এমন সব নিয়ামতের অন্তর্ভুক্ত যেগুলো সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’ (মুসনাদ আহমদ, নাসায়ি, ইবনে জারির)। নিয়ামতসমূহের মধ্যে অসংখ্য নিয়ামত এমন যা আল্লাহ তায়ালা সরাসরি মানুষকে দান করেন। আর অসংখ্য নিয়ামত এমন যা মানুষকে দান করা হয় তার নিজের উপার্জনের মাধ্যমে। নিজের উপার্জিত নিয়ামতসমূহ মানুষ কিভাবে উপার্জন করেছে এবং কোন পথে ব্যয় করেছে সে সম্পর্কে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। যেসব সরাসরি লাভ করেছে সেগুলো সে কোন পথে ব্যয় করেছে সে প্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। বিচার দিবসে তিন বস্তুর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না ১. যে বস্তু দিয়ে সতর ডেকেছে; ২. যে খাদ্য খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছে এবং ৩. যে গৃহে আশ্রয় নিয়ে গরম ও ঠাণ্ডা থেকে নিজেকে রক্ষা করেছে। সাহাবায়ে কিরাম মহানবী সা:কে জিজ্ঞেস করেনÑ কোন নিয়ামত প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হবে? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন ১. পেট ভরে আহার করা; ২. ঠাণ্ডা পানি পান করা; ৩. আশ্রয় নেয়া গৃহ; ৪. সুস্বাস্থ্য’ ৫. নিদ্রার প্রশান্তি। অন্য বর্ণনা মতে, নিয়ামত হলোÑ নিরাপত্তা ও সুস্থতা। আলী ইবনে আবু তালহা হজরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণনা করেনÑ তিনি বলেন, উত্তম নিয়ামত হলোÑ ১. শারীরিক সুস্থতা, শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই কর্ণ, চক্ষু, অন্তঃকরণ সব কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। মহানবী সা: বলেন, বিচার দিবসে আল্লাহ তায়ালা বলবেন, ‘আমি তোমাকে ঘোড়া ও উটের ওপর আরোহণ করিয়েছি, নারীর সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করেছি এবং তোমাকে নেতৃত্ব দান করেছি, তুমি এসবের কি শুকরিয়া করেছ’ (ইবনে কাসির)?

মৃত্যুর পর সম্পদ মূল্যহীন : মানুষের মৃত্যুর পর সম্পদ তার জন্য মূল্যহীন হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যখন সে মারা যাবে, তখন সম্পদ তার কোনো কাজে আসবে না’ (সূরা আল-লাইল-১১)। মহানবী সা: বলেছেন, তিন ধরনের মালই তার আসল মালÑ ১. যা সে ভক্ষণ করেছে; ২. যা সে নষ্ট করেছে ও ৩. যা সে দান সদকা করেছে। তাই আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় করো’ (সূরা মুনাফিকুন-১০)।


ইবাদতই আসল ব্যবসাঃ

অর্থাৎ হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার কথা বলব যা তোমাদেরকে পীড়াদায়ক আযাব হতে রক্ষা করবে? তোমরা ঈমান আন আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি এবং জিহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের ধনসম্পদ এবং জীবন দিয়ে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম; যদি তোমরা বুঝ। তিনি তোমাদের গুনাহ-খাতা মাপ করে দিবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত এবং বসবাসের জন্য অতীব উত্তম বাসস্থান দান করবেন চিরস্থায়ী জান্নাতে, এটাই বিরাট সাফল্য। এবং আরো একটি অনুগ্রহ দিবেন, যা তোমরা পছন্দ কর; আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং নিকটবর্তী বিজয়। (হে রাসুল) মুমিনদেরকে এর সুসংবাদ জানিয়ে দিন। (সুরা সফ ১০-১৩)

Al-Anfal 8:2

إِنَّمَا ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتُهُۥ زَادَتْهُمْ إِيمَٰنًا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ 

নিশ্চয়ই মু’মিনরা এরূপই হয় যে, যখন (তাদের সামনে) আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয় তখন তাদের অন্তরসমূহ ভীত হয়ে পড়ে, আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পায়, আর তারা নিজেদের রবের উপর নির্ভর করে।


দুনিয়ার সম্পদ (টাকা) নয় বরং আখিরাতের সম্পদ (নেক আমল)-এর প্রতিযোগিতা করঃ

হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, দুনিয়া পেছনের দিকে চলে যাচ্ছে। আর পরকাল সামনে চলে আসছে। (মানুষের অন্তরে) এ দু’টির প্রতিটিরই রয়েছে প্রবল আসক্তি। 

সুতরাং তোমরা পরকালের প্রতি আসক্ত হও। দুনিয়ায় আসক্ত হইও না। কারণ এখন (দুনিয়া) আমলের সময়; কিন্তু (কোনো) হিসাব নেই। আর আগামীকাল (পরকাল) হবে হিসাবের; সেখানে আমল করার (কোনো) সুযোগ নেই। (বোখারি)



তিনি (সা.) বললেন, দুনিয়া ত্যাগ কর, আল্লাহ তোমাকে ভালবাসবেন এবং মানুষের কাছে যা আছে, তার প্রতি লালসা করো না, তবে লোকেরা তোমাকে ভালবাসবে। (মেশকাত, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ) 



দুনিয়ার লাগামহীন সুখ মুমিনদের জন্য নয়ঃ

At-Taubah 9:112

ٱلتَّٰٓئِبُونَ ٱلْعَٰبِدُونَ ٱلْحَٰمِدُونَ ٱلسَّٰٓئِحُونَ ٱلرَّٰكِعُونَ ٱلسَّٰجِدُونَ ٱلْءَامِرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَٱلنَّاهُونَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَٱلْحَٰفِظُونَ لِحُدُودِ ٱللَّهِۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ 

তারা হচ্ছে তাওবাহকারী, ইবাদাতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকু ও সাজদাহকারী, সৎ বিষয় শিক্ষা প্রদানকারী এবং মন্দ বিষয়ে বাধা প্রদানকারী, আল্লাহর সীমাসমূহের (অর্থাৎ আহকামের) সংরক্ষণকারী; আর তুমি এমন মু’মিনদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফিরের জন্য জান্নাত।’ [মুসলিম ২৯৫৬, তিরমিযি ২৩২৪, ইবন মাজাহ ৪১১৩, আহমদ ৮০৯০, ২৭৪৯১, ৯৯১৬]


হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াকে মহব্বত করল সে তার পরকালকে ক্ষতিগ্রস্ত করল। আর যে ব্যক্তি পরকালকে মহব্বত করল সে তার দুনিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করল। সুতরাং  তোমরা অস্থায়ী বস্তুর ওপর চিরস্থায়ী বস্তুকে প্রাধান্য দাও। (মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি, মিশকাত)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) বলেছেন- একজন মুমিনের জন্য ইহকাল কয়েদখানা ও অবিশ্বাসীর জন্য জান্নাত। (মুসলিম)  


যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, আর ভূ-পৃষ্ঠে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি এটাই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শুলে চড়ান হবে, অথবা এক দিকের হাত ও অপর দিকের পা কেটে ফেলা হবে, অথবা তাদের দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে; এটাতো দুনিয়ায় তাদের জন্য ভীষণ অপমান, আর আখিরাতেও তাদের জন্য ভীষণ শাস্তি রয়েছে। 

তাহলে আর টেনশন শুধু আমল, চরিত্র ও ইবাদতের; চলুন ইবাদতের মগ্নে জীবনের সময়গুলো পার করে দেই। 

Post a Comment

0 Comments