পৃথিবীতে সবাই ধনী হলে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মানুষ ধ্বংস হয়ে যেত!
আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে জীবনোপকরণের প্রাচুর্য দিলে (সকল মানুষকে বেশি বেশি সম্পদ দিলে) তারা পৃথিবীতে অবশ্যই বিপর্যয় সৃষ্টি করত; কিন্তু তিনি তাঁর ইচ্ছা মত সঠিক পরিমানেই দিয়ে থাকেন। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে সম্যক জানেন ও দেখেন। (Ash-Shura 42:27)
শুধু বেশি সম্পদ আল্লাহর পক্ষ হতে রহমত নয়। কম সম্পদও আল্লাহ পক্ষ হতে বিশেষ রহমত হয়। হ্যাঁ, আমি আবার বলছি কম সম্পদও আল্লাহর পক্ষ হতে রহমত। আল্লাহ সম্পদের মালিক এবং মানুষেরও মালিক। তিনি কোরআনে বলেন মানুষকে বেশি সম্পদ দিলে তারা ধ্বংস হয়ে যেত (সূরা আস-শোয়ারা, আয়াত ২৭)।
তাই সম্পদের মালিক আল্লাহ বসে বসে পৃথিবীর নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ মানুষের মাঝে বন্টনে কম বা বেশি করছেন। কখনও কোন উছিলায় দান করছেন আবার কোন এক উছলায় চিনিয়ে নিচ্ছেন। তবে যারা শুধু দুনিয়াতেই সব চায় আখিরাতকে বাদ দিয়ে তারা পৃথিবীতে সব সময় ভালো থাকে। পৃথিবীতে সম্পদের ভারসাম্যতা আল্লাহই করে রেখেছেন এবং এই সীমিত সম্পদই তিনি বন্টন করছেন এক মানুষ থেকে কমিয়ে অন্য মানুষের নিকট বেশি করছেন। কখনও আবার নেয়ার পর ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তাই আমাদের উচিৎ তা বুঝা এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। রিযিকের কমে ধৈর্য ধারণ করা আর বৃদ্ধিতে উল্লসিত না হওয়া।
আবার পৃথিবীর সৌন্দর্য্য হল, ধনী আর গরীব নিয়েই পৃথিবী। এটা পৃথিবীর শুধু বৈচিত্র্যই নয় বরং বাস্তবতাও বটে। যারা গরীব তারা সব সময় চেষ্টা থাকে ধনী হতে। আর যারা ধনী তারাও চায় আরো ধনী হতে। প্রত্যেক মানুষের সম্পদ লাভের প্রতি একটা দুর্বলতা বা প্রতিযোগিতায় থাকে। এই প্রতিযোগিতা মৃত্যু পর্যন্ত থাকে।
এইখানে আমাদের বুঝতে হবে, সম্পদ দুই ধরণের এক হল দুনিয়াবী সম্পদ আরেক হল আখিরাতের সম্পদ। দুনিয়ার সম্পদ হল যৌবনের শক্তি, চোখ, হাত, পা, টাকা, স্বর্ণ, রুপা, জমি, পশু, মাছ, সন্তান, স্ত্রী ইত্যাদি ইত্যাদি অর্থাৎ আল্লাহ পৃথিবীতে আমাদের সুন্দরভাবে চলার জন্য যা দিয়েছেন তার সবটাই দুনিয়াবী সম্পদ। আর আখিরাতের সম্পদ হল আমল অর্থাৎ দুনিয়াবি যত সম্পদ আছে তা আল্লাহর আদেশ বা নিষেধ অনুসারে ব্যয়, ব্যবহার ও ভোগ করার জন্য। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অনুসারে দুনিয়ার সম্পদ ব্যবহার করলে সওয়াব আর তার আদেশ-নিষেধের বিপরীত করলে গুনাহ।
এই সওয়াব বা গুনাহ শুধু পরকালেই কাজে লাগবে। যে সওয়াব বেশি আয় করতে পারবে সেই জান্নাতে যেতে পারবে। আর যে গুনাহ বেশি আয় করবে সেই জাহান্নামে যেতে পারবে। আল্লাহ আমাদের কোরআনে বারবার আদেশ দিয়েছেন সওয়াব বা ভালো কাজ করার জন্য এবং অশ্লীলতা পরিহার করার জন্য। আবার আমাদের শরীরও আরাম প্রিয় যা শুধু জান্নাতেই পাওয়া যায়। জাহান্নামে শাস্তি আর শাস্তি যা শরীরের পক্ষে বহন করা কঠিন ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে। তাই দুনিয়ায় যে সকল মানুষ আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলবে তাদের পরকালে আল্লাহ নিজেই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জাহান্নামে দিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করে দিবেন। কিয়ামতে ঋণ শোধ করা হবে নেক আমল দিয়ে, ভালো আমল না থাকলে পাওনাদারদের গুনাহ দেনাদারের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হবে!
তাই আল্লাহ পৃথিবীটা মানুষের জন্য পরীক্ষা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তাই এই পৃথিবীর সব কিছুই আমাদের জন্য পরীক্ষা। এই পরীক্ষা পাসের জন্য চাই শুরু সৎ কাজে ধৈর্য, ধৈর্য আর ধৈর্য। সৎ আমলের ধৈর্য হল শত কষ্ট শর্তেও আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী দুনিয়ায় মুসাফিরের মত চলা। দুনিয়ায় কেউ ধৈর্য দেখায় পরকাল পেতে অর্থাৎ দুনিয়ার সম্পদের লালসা বা প্রতিযোগিতা বাদ দেয়। আবার কেউ ধৈর্য দেখায় দুনিয়ার সম্পদ পেতে অর্থাৎ আখিরাতে জান্নাতের নেয়ামত বা কল্যাণ ভুলে থাকে।
আর আমি যদি চাইতাম তবে তাদের স্ব স্ব স্থানে তাদেরকে বিকৃত করে দিতাম। ফলে তারা সামনেও এগিয়ে যেতে পারত না এবং পিছনেও ফিরে আসতে পারত না। ৩৬ঃ৬৭ (সূরা ইয়াছিন)
শয়তান তোমাদেরকে দরিদ্রতার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ করে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।২ঃ২৬৮
আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রাখ! তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পরীক্ষার বিষয় মাত্র। আল্লাহর কাছে এর চেয়েও মহান প্রতিদান আছে(পরকালে)। ’ (সূরা আনফাল : ২৮)।
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবোই: মাঝে মধ্যে তোমাদেরকে বিপদের আতঙ্ক, ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে, সম্পদ, জীবন, পণ্য-ফল-ফসল হারানোর মধ্য দিয়ে। আর যারা কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য-নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করে, তাদেরকে সুখবর দাও। [আল-বাক্বারাহ ১৫৫]
0 Comments