Search This Blog

মানুষের সমস্যা একটাই তা হল শুকরিয়া আদায় করতে না পারা!!!

মানুষের সমস্যা একটাই তা হল শুকরিয়া আদায় করতে না পারা!!!

আল্লাহ আমাদের তৈরি করে কিছু বিষয়ের প্রতি আমাদের দুর্বল করে দিয়েছেন।  এই বিষয় গুলোতে আমাদের আকর্ষণ/ অভাব থাকে। এই আকর্ষণকে আমরা দুইভাবে মিটাতে পারি। প্রথমভাবে হল নিজেদের মন মত। দ্বিতীয়ভাবে হল আল্লাহর আইন মত। আমাদের মন মত আমরা চাহিদা মিটালে বিপর্যয় তৈরী হবে। কারণ মানুষের চাহিদা অসীম কিন্তু সম্পদ সীমিত।  আরেকটা বিষয় হল মানুষ অন্য সকল প্রাণী থেকে আলাদা তার বিবেক থাকার কারণে। তাই তাকে শালীনতা/ সৌন্দর্য  বজায় রেখেই তার অভাব পূরণ করতে হয় অর্থাৎ, বিবেকের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।


 

আর আমাদের রিযিক ও হায়াত নির্ধারিত:

মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে মানুষ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। ধনসম্পদ সংগ্রহে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো। কেননা কেউ তার রিজিক পরিপূর্ণ না করে মৃত্যুবরণ করবে না, যদিও তা অর্জনে বিলম্ব হোক না কেন।’ (ইবনে মাজাহ)

হাদিসঃ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সত্যবাদী ও সত্যবাদী স্বীকৃত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেই আপন আপন মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত (শুক্র হিসেবে) জমা থাকে। তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন রক্তপিন্ড, তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন গোশত পিন্ডাকারে থাকে। তারপর আল্লাহ্ একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে রিযিক, মৃত্যু, দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য- এ চারটি বিষয় লিখার জন্য আদেশ দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে যে কেউ অথবা বলেছেন, কোন ব্যক্তি জাহান্নামীদের ‘আমল করতে থাকে। এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র একহাত বা এক গজের তফাৎ থাকে।

এমন সময় তাক্দীর তার ওপর প্রাধান্য লাভ করে আর তখন সে জান্নাতীদের ‘আমল করা শুরু করে দেয়। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর এক ব্যক্তি জান্নাতীদের ‘আমল করতে থাকে। এমন কি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত বা দু’হাত তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার উপর প্রাধান্য লাভ করে আর অমনি সে জাহান্নামীদের ‘আমল শুরু করে দেয়। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [বুখারী (রহ.)] বলেন যে, আদম তার বর্ণনায় কেবল ذِرَاعٌ (এক গজ) বলেছেন।[2] [৩২০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৪২)


রিযিক বেশি হলে আমরা ধ্বংস হয়ে যেতামঃ 

যদি আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে প্রচুর রিজিক দিতেন, তাহলে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা, সেই পরিমাণ (রিজিক) অবতীর্ণ করেন।’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ২৭)

আমাদের পৃথিবীতে সকল মানুষ যদি সম্পদশালী হত তাহলে পৃথিবীতে এখন যে ব্যালেন্স আছে তা থাকতো না। যেমন- মানুষের সম্পদ কম হওয়াতে অর্থাৎ অভাব থাকার কারণে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন কাজকে পেশা হিসেবে বেচে নিয়েছে। আর এই পেশার মাধ্যমে মানুষ যেমন অন্যের চাহিদাগুলো পূরণ করছে তেমনি নিজের চাহিদাগুলোও পূরণ করছে। সবাই সম্পদশালী হলে কষ্ট করে কেবা রাস্তা তৈরি করতো, টয়লেট পরিষ্কার করতো, রাত জেগে সিকিউরিটি গার্ড হত, অন্যের চাকরি করতো!!!

 

পৃথিবীতে আমরা এক মানুষই অন্য মানুষের জন্য পরীক্ষাঃ

আর তোমার পূর্বে যত নবী আমি পাঠিয়েছি, তারা সবাই আহার করত এবং হাট-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের একজনকে অপরজনের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। তোমরা কি ধৈর্যধারণ করবে? আর তোমার রব সর্বদ্রষ্টা। (আল-ফোরকান ২৫ঃ২০)

আমরা যে পরিশ্রম করছি, বিপদ-আপদ বা সুখ-দুঃখগুলো আমাদের জীবনে মেনে নিচ্ছি, অন্যকে সহ্য করছি, দায়িত্বগুলো মেনে নিচ্ছি, সৎ কাজে আদেশ দিচ্ছি বা অন্যায় কাজে বাধা দিচ্ছি, প্রয়োজনীয় সম্পর্কগুলো রক্ষা করছি আর অপ্রয়োজনীয় সম্পর্কগুলো ভেঙে দিচ্ছি ইত্যাদি ইত্যাদি অর্থাৎ আমরা যা করছি আর যা ত্যাগ করছি সবাই আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা। এই ধৈর্য যদি আমরা ধরতে পারি তাহলে আল্লাহর কাছে হবো পুরুষ্কৃত (জান্নাত পাবো) আর ধৈর্য হারা হলে শাস্তি (জাহান্নাম পাবো)। 

আবূ ইয়াহয়া সুহাইব ইবনু সিনান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মুমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক। তার প্রতিটি কাজে তার জন্য মঙ্গল রয়েছে। এটা মু’মিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। সুতরাং তার সুখ এলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। ফলে এটা তার জন্য মঙ্গলময় হয়। আর দুঃখ পৌঁছলে সে ধৈর্য ধারণ করে। ফলে এটাও তার জন্য মঙ্গলময় হয়।’’

উৎস ঃ মুসলিম ২৯৯৯, আহমাদ ১৮৪৫৫, ১৮৪৬০, ২৩৪০৬, ২৩৪১২, দারেমী ২৭৭৭

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। সে একটি কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। তিনি বললেন, ‘‘তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্য ধারণ কর।’’ সে বলল, ‘আপনি আমার নিকট হতে দূরে সরে যান। কারণ, আমি যে বিপদে পড়েছি আপনি তাতে পড়েননি।’ সে তাঁকে চিনতে পারেনি (তাই সে চরম শোকে তাঁকে অসঙ্গত কথা বলে ফেলল)। অতঃপর তাকে বলা হল যে, ‘তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন।’ সুতরাং (এ কথা শুনে) সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুয়ারের কাছে এল। সেখানে সে দারোয়ানদেরকে পেল না। অতঃপর সে (সরাসরি প্রবেশ করে) বলল, ‘আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।’ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘আঘাতের শুরুতে সবর করাটাই হল প্রকৃত সবর।’’

মুসলিমের একটি বর্ণনায় আছে, সে (মহিলাটি) তার মৃত শিশুর জন্য কাঁদছিল।

উৎস ঃ সহীহুল বুখারী ১২৫২, ১২৮৩, ১৩০২, ৭১৫৪, মুসলিম ৯২৬, তিরমিযী ৯৮৮, নাসায়ী ১৮৬৯, আবূ দাউদ ৩১২৪, ইবনুূু মাজাহ ১৫৯৬, আহমাদ ১১৯০৮, ১২০৪৯, ১২৮৬০।

আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমার মু’মিন বান্দার জন্য আমার নিকট জান্নাত ব্যতীত অন্য কোন পুরস্কার নেই, যখন আমি তার দুনিয়ার প্রিয়তম কাউকে কেড়ে নই এবং সে সওয়াবের নিয়তে সবর করে।’’

উৎস ঃ সহীহুল বুখারী ১২৮৩, ১২৫২, ১৩০২, ৭১৫৪, মুসলিম ৯২৬, তিরমিযী ৯৮৮, নাসায়ী ১৮৬৯, আবূ দাউদ৩১২৪, ইবনু মাজাহ ১৫৯৬, আহমাদ ১১৯০৮, ১২০৪৯, ১২৮৬০।

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যখন আমি আমার বান্দাকে তার প্রিয়তম দুটি জিনিস দ্বারা (অর্থাৎ চক্ষু থেকে বঞ্চিত করে) পরীক্ষা করি এবং সে সবর করে আমি তাকে এ দু’টির বিনিময়ে জান্নাত প্রদান করব।’’

উৎস ঃ সহীহুল বুখারী ৫৬৫৩, তিরমিযী ২৪০০, আহমাদ ১২০৫৯, ১২১৮৫, ১৩৬০৭

আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দুঃখ-কষ্টে ফেলেন।’’

উৎস ঃ সহীহুল বুখারী ৫৬৪৫, আহমাদ ৭১৯৪, মুওয়াত্তা মালেক ১৭৫২

পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি যদি আল্লাহ মানুষের হাতে দিয়ে রাখতেন, মানুষ অন্যায় ও বিপর্যয়ের মাধ্যমে তা আরো আগেই ধ্বংস করে ফেলতো। মানুষকে আল্লাহ শুধু চিন্তা, কথা আর কর্মের সুযোগ দিয়েছেন। কর্মের ফলাফল সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর নিকট। আল্লাহই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। আর সময়ের সাথে উত্থান আর পতন দিয়ে সকল মানুষকে পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। ঈমানদারগণ এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করছে আর কাফিররা তাদের পাপ বৃদ্ধি করছে। 

"যদি তোমাদেরকে কোন আঘাত স্পর্শ করে থাকে তবে তার অনুরূপ আঘাত উক্ত কওমকেও স্পর্শ করেছে। আর এইসব দিন আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন করি এবং যাতে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে জেনে নেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদেরকে গ্রহণ করেন। আর আল্লাহ যালিমদেরকে ভালবাসেন না। (আলে-ইমরান ৩ঃ১৪০)" 

তাই আমাদের যখন যে অবস্থা আসবে সেই অবস্থাতেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে জানতে হবে। অন্যথায় আমরা ক্ষতি গ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ে যাবো।

আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। (সূরা-বাকারাঃ ২ঃ১৫৫)


তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহর নিকট ধৈর্য্য ধরে ইবাদত করে গেলেই আমাদের মুক্তি ও সফলতা মিলবে!!! কারণ যদিও আমার রিযিক, হায়াত নির্ধারিত; কিন্তু আমার ইবাদত আমাকেই করতে হবে। আমার ইবাদত  আমি ছাাড় আর অন্য কেউ করে দিবে না!!! 

আসুন বেশি বেশি ইবাদতে মগ্ন থেকে তার শুকরিয়া আদায় কারী বান্দাদের শামিল হয়ে যাই। 

যারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, আনুগত্যশীল ও ব্যয়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী। (আলে-ইমরানঃ ৩ঃ১৭)

তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের, যারা
তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ‘আমরা তো আল্লাহর এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী’। (পারা: ২, সূরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৭)।


Post a Comment

0 Comments