Search This Blog

আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান কোথায়?


 আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান কোথায়?

আগে আয়াত ৩টি পড়িঃ  

পুরুষ অথবা নারীর মধ্যে কেউ সৎ কাজ করলে ও মুমিন হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তার প্রতি অণু পরিমাণও জুলুম করা হবে না। (সূরা নিসা (৪) : ১২৪)

মুমিন হয়ে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকর্ম করবে তাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব। (সূরা নাহল (১৬) : ৯৭)

যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তোমরা তা লালসা করো না। পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে তা তারই প্রাপ্য অংশ। (সূরা নিসা (৪) : ৩২)





মানুষের জীবন ফুল সজ্জা নয়! আমাদের জীবন চলার পথে অনেক উত্থান পতন আছে। এই গুলো বুঝে পথ চলাতেই শান্তি আর কল্যাণ। 

আমাদের জীবনে উত্থান পতন আছে কারণ এটা আল্লাহর পক্ষ হতে পরীক্ষা!!!

যেমন-  ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা, ধন-সম্পদের ক্ষতি ও প্রাণহানি এবং ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাক্বারা : আয়াত ১৫৫)

সুতরাং, আমরা যদি আমাদের মনে সেট করতে না পারি যে আমরা জীবনে বারবার সমস্যায় পড়বো। আর এই সমস্যার জন্য মানসিক, শারিরীক, আর্থিক ইত্যাদি যত উপায়ে সম্ভব  প্রস্তুত না থাকি তাহলে আমরা হতাশ হবো বারবারই। আর আমরা যাদের সাথে থাকি আর কাজ করি তাদেরকেও এই বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। তাহলে আমরা নিজের, সমাজের বা পরিবেশ দ্বারা হতাশাকর পরিস্থিতিতে পড়বো না!!!

আরেকটি বিষয় হল বিপদকে শেষ করে দেওয়া যায় ধৈর্য দ্বারা। যেহেতু মানুষের এই উত্থান পতন সময়ের সাথে পরিবর্তন হয়, তাই খারাপ সময়ে ধৈর্য ধরলে পরে ভালো সময় আসতে বাধ্য।  সুতরাং, আল্লাহ কোরআনে ও নবী সঃ হাদিসে বারবার ধৈর্যের প্রতিযোগিতার কথা বলেছেন।  

আমরা যদি ধৈর্য হারা হয়ে যাই।  তাহলে আমরা হতাশ হয়ে নানা রকম জটিল সিদ্ধান্ত নিব যা আমাদের জীবনকে সহজ না করে জটিল থেকে জটিলতর করে দিবে। যেমন সংসারে সচ্ছলতার জন্য আমরা যদি পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও কর্মস্থলে নিয়ে আসি তাহলে নিম্ন সমস্যাগুলো দেখা দিবেঃ

১/ পরিবার ব্যাবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়ঃ আদর্শ পরিবার হল সেই পরিবার যে পরিবারে স্বামী অভিভাবক ও উপার্জনকারী আর স্ত্রী অনুগত ও রক্ষণাবেক্ষণকারী।

(পুরুষেরা নারীদের উপর তত্ত্বাবধানকারী ও ভরণপোষণকারী, যেহেতু আল্লাহ তাদের মধ্যে একের উপর অপরকে বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এই হেতু যে, তারা স্বীয় ধন সম্পদ হতে তাদের জন্য ব্যয় করে থাকে; সুতরাং যে সমস্ত নারী পুণ্যবতী তারা আনুগত্য করে, আল্লাহর সংরক্ষিত প্রচ্ছন্ন বিষয় (অর্থাৎ তাদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) সংরক্ষণ করে; যদি নারীদের অবাধ্যতার আশংকা হয় তাহলে তাদেরকে সদুপদেশ প্রদান কর, তাদেরকে শয্যা হতে পৃথক কর এবং তাদেরকে প্রহার কর; অনন্তর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তাহলে তাদের জন্য অন্য পন্থা অবলম্বন করনা; নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহা মহীয়ান।) 

২/ সমাজে যেনা-ব্যাবিচার বেড়ে যায়ঃ নারী মাহরম ব্যাতিত ঘরের বাহিরে নিরাপদ নয়। নারী কর্মক্ষেত্রে তার সারাজীবনে অনেক খারাপ অভিজ্ঞতা দিয়ে যায়। পশ্চিমা নারীরা প্রায়ই অভিযোগ করে যৌন হয়রানির।  আর কোন নারী যদি নিজেও  পুরুষদের প্রতি খারাপ দৃষ্টি থাকে। তাহলে ঐ নারী চাইবে পুরুষের সঙ্গে কর্মস্থল হউক। এতে তার যৌন চাহিদা অবৈধ উপায়ে মিটিয়ে নিবেন। 

৩/ পুরুষের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়ঃ উপার্জন যে করবে সেই শ্রেষ্ঠ। আর এই দায়িত্ব নিয়ে পুরুষ ঘরে বসে থাকবেনা। কিংবা রিযিকের সংকোচনের কারণে পুরুষ ধৈর্য হারা হয়ে নারীকে কর্মস্থলে বের করে দিবেনা। নারীদের ঘরে বসিয়ে সম্মানের সহিত খাওয়ানো ও সম্মানজনক আচরণ করা পুরুষের দায়িত্ব ও মর্যাদার প্রতিফলন। 

নারীদের তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষের মর্যাদা আছে। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা বাকারা (২) : ২২৮)

৪/ পৃথিবীতে মানুষ ধ্বংসের মুখে পড়ছেঃ

নারীকে সুন্দর একটা ঘরোয়া পরিবেশ না দিলে ঘরে নারী স্বাধীনতা নষ্ট হবে। আর নারীও ধৈর্য হারা হয়ে ঘর হতে বাহির বের হয়ে আসবে। তাহলে নারী তার যে সন্তান উৎপাদনের সক্ষমতা আছে তা সেই ঝামেলা মনে করবে। নারী সন্তান উৎপাদন না করলে পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা হবে আর কিভাবে?!!! অথচ হাদিসে বলা হয়েছে দুই বৈশিষ্ট্য দেখে নারী বিবাহ করতে এক হল অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানদাত্রী।

আবার অনেকে অধিক সম্পদ বা সম্পদের অনিশ্চয়তা কাটার জন্য একাধিক আয়ের উৎস খুঁজে নেয়। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় চিন্তা, হতাশা আরো বেড়ে যায়। আরো উল্টো সম্পদের ক্ষতির মুখে পড়ে। সময় আর সম্পদ হারিয়ে বুঝে সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। ধৈর্য ধারণই অনেক ভালো ছিল। 

 


 

 

আরও দেখা যায় যে, আমাদের পারিবারিক বা কোন সম্পদের সমস্যা সমাধান নিয়ে আমরা এতোটাই বিচলিত হই যে। আমরা একে অপরের সাথে কলহে, ঝগড়া, বিবাদে জড়িয়ে পড়ি। কিন্তু ঝগড়া শেষে আমরা আর দুনিয়ায় থাকিনা যদিও সম্পদ তার জায়গা শক্তিশালী হয়ে দাড়িয়ে আছে। আশেপাশে মানুষ বলে আমরা ধৈর্য হারা হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলাম। যদিও আপোষ, মীমাংসা করার অনেক সুন্দর পথ খোলা ছিল বা আছে। 

তাই ধৈর্যই হল একমাত্র সুন্দর ও সহজ সমাধান, আমাদের জীবনকে সুন্দর করার জন্যে। আর পৃথিবী সুন্দর রাখতে আমাদের সৎ কাজে উৎসাহ ও অসৎ কাজে বাধা দান করতে হবে। তা না হলে অসৎ দলের উশৃংখল আচরণে আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো!!!


Post a Comment

0 Comments