Search This Blog

যে সম্পর্ক সবচেয়ে মধুর ও বরকতময়!!!

যে সম্পর্ক সবচেয়ে মধুর ও বরকতময়!!!

 

স্বামী ও স্ত্রী মানে বিপরীত লিঙ্গের এমন কিছু যাদের মাঝে আল্লাহ পারস্পরিক শক্তিশালী আকর্ষণ তৈরি করে দিয়েছেন।  আরো আছে তাদের মাঝে পারস্পারিক চুক্তির(বিবাহের) মিল বন্ধন ও ভালোবাসা।


সাধারণত নারী পুরুষের একে অপরের প্রতি বিপরীত লিঙ্গের কারণে একটা আকর্ষণ কাজ করে। অনেকে এই ভালো লাগাকে চর্চা করতে করতে চোখাচোখি, দেখাদেখি, হাতাহাতি এমনকি শারিরীক একটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দেখা যায় কোন ভুল বুঝাবুঝি হলেই দূরত্ব তৈরী হয়। আর যেহেতু তাদের মাঝে শুধু রিলেশন বা সম্পর্ক থাকে। কোন বৈবাহিক চুক্তি না থাকায় ছেলে বা মেয়ে দুইজনের দুই রকম ক্ষতি হয়ে যায়। একরকম ক্ষতি হয় বৈবাহিক চুক্তি না থাকায় গুনাহ।  অন্য ক্ষতি হলো একে অপরকে হারিয়ে মানুষিক যন্ত্রণার মত ক্ষতিতে পড়ে। অনেকে আবার এই যন্ত্রণা সইতে না পেরে পাগল হয়ে যায় কিংবা নিজের বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলে।

তাই নারী পুরুষের সম্পর্ক পূর্ণতা পায় একমাত্র বিয়ের মাধ্যমে। বিয়ের মাধ্যমে যখন সম্পর্কে জড়ায় তথন উভয়ের একে অপরের প্রতি কিছু লিখিত দায়-দায়িত্ব চলে আসে। তা নিম্নে দেওয়া হলঃ

আরেকটা কথা বলে রাখি তা হল দায়িত্ব মানে এমনকিছু যা নিজের ভালো লাগুক বা নাই লাগুক, কিন্তু অন্যের সুবিধার কথা চিন্তা করে তার জন্য ভালো কিছু করা। 

সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটা জরুরী বিষয় হল পুরুষ নারী যখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তখন তারা মাত্র অঙ্গিকার ব্যক্ত করল একসাথে চলার। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একসাথে চলতে হলে পরস্পর পরস্পরের প্রতি সম্মান, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা খুবই প্রয়োজন যা তৈরি হতে সময়ের প্রয়োজন।  এই সময়টা কমপক্ষে ০৩ হতে ০৫ বছর লাগে। হ্যাঁ, আমরা বুঝি আর না-বুঝি, মানি আর না-মানি কমপক্ষে এই সময়টাই লাগে। তাই সংসারের যে কোন কথা কাটাকাটি কিংবা মনোমালিন্যতে ধৈর্য ধরতে হবে। খারাপ বিষয়গুলো হাসি মুখে এড়িয়ে যেতে হবে। ভালো কোন যুক্তি থাকলে মন মেজাজ আর সময় বুঝে উপস্থাপন করতে হবে। কোন ভাবেই মনোমালিন্য, হানাহানি ইত্যাদি সুযোগ সৃষ্টি হতে বহু দূরে থাকা চাই। 


 
স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের যৌথ দায়িত্বঃ

১- ব্যবহারিক অধিকারঃ- পরস্পর পরস্পরকে ক্ষমার নজরে দেখবে। ভুল হওয়া মানুষের সহজাত প্রকৃতি। মানুষ যে কাজ করে সে কাজেই নিজেকে অনেক সময় ভ্রান্ত রূপে পায়। কিন্তু তখন নিজেকে তো শাস্তি দেওয়া যায় না। বড়জোর আক্ষেপ করা যায়। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী যদি উভয়ের দুই মন এবং দুই অর্ধাঙ্গ মিলে এক দেহের মত নিজেদেরকে মনে করতে পারে তবেই ‘যত ভুল হবে ফুল ভালোবাসাতে।’

অনুরূপ একে অপরকে খুশী করবে, আল্লাহর আনুগত্যের উপদেশ দেবে, সংসারের যৌথ দায়িত্ব পালন করবে, কেউ কাউকে কারো সামনে লজ্জিত করবে না, কারো রহস্য ও গুপ্ত ত্রুটি প্রকাশ করবে না। কেউ কারো গুপ্ত দোষের কথা নিজের আত্মীয়দের নিকট ফাঁস করবে না।

২- বৈষয়িক অধিকারঃ- এতে স্বামীর পিতা স্ত্রীর জন্য এবং স্ত্রীর মাতা স্বামীর জন্য আপন পিতা-মাতার ন্যায় হয়ে যায়। এর ফলে আপোসে বিবাহ হারাম হয়। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের ওয়ারেস হয়।

সর্বশেষ ও প্রধান অধিকার হল উভয়ের ইচ্ছা ও খুশীমত একে অপরের দেহ ব্যবহার ও (বৈধভাবে) চির যৌনতৃপ্তি আস্বাদন।



স্বামীর দায়িত্ব স্ত্রীর প্রতিঃ 

১/ স্ত্রীর সাথে ভালো আচরণ করতে হবে, মিষ্টভাষায় কথা বলতে হবে। সর্বোপরি, অন্তর থেকে স্ত্রীকে ভালোবাসতে হবে। মহান আল্লাহ কুরআনে বলেন, ‘তোমরা তাদের (স্ত্রী) সাথে উত্তম আচরণ করো। আর যদি তাকে তোমার অপছন্দও হয়, তবুও তুমি যা অপছন্দ করেছ হয়তো আল্লাহ তাতে সীমাহীন কল্যাণ দিয়ে দেবেন।’ (সূরা নিসা, আয়াত-১৯)

স্ত্রীর প্রতি কোনো রাগ-দ্বেষ করা যাবে না। কারণে-অকারণে গায়ে হাত তোলা যাবে না। এ বিষয়ে রাসূল সা: বলেছেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ মুমিন নারীর প্রতি রাগান্বিত হবে না। কেননা, যদি তার কোনো কাজ খারাপ মনে হয়, তাহলে তার এমন গুণও থাকবে, যার জন্য সে তার ওপর সন্তুষ্ট হতে পারবে।’ (সহিহ মুসলিম-১৪৬৯)
স্ত্রীরা মা-বাবা অর্থাৎ নিজের আপনজন ছেড়ে চিরতরে স্বামীর বাড়ি চলে আসে। একটা নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়। আর তখন স্বামীর পরিবারটাই তার নিজের করে নেয়। স্ত্রী একটা সংসারের মূল দায়িত্ব পালন করে। তার অক্লান্ত পরিশ্রম, আদর-যতœ, স্নেহ-মমতা, ভালোবাসা দিয়ে সবাইকে আগলে রাখে। আর তাকে আগলে রাখে স্বামী। পরিবারের সবাই যদিও খারাপ হয়, তাতেও তার দুঃখ থাকে না। একমাত্র স্বামী তার প্রতি অনুরাগী থাকলেই যথেষ্ট। স্বামীর একটু সাহচর্যে সে সব কষ্ট ভুলে থাকে। নীরবে সয়ে নেয় সব যাতনা। তাই স্বামীকে অবশ্যই স্ত্রীর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তার প্রতি যেসব দায়িত্ব রয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
স্ত্রীর সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। স্ত্রীর সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করবে।’ (সূরা নিসা, আয়াত-১৯)। আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত রাসূল সা: বলেন, ‘তোমাদের আদেশ করা হচ্ছে, তোমরা নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, বুকের হাড় থেকে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। সবচেয়ে প্যাঁচানো বা বাঁকানো হচ্ছে বুকের ওপরের হাড়টি। যদি তা সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি ছেড়ে দাও তাহলে ওরকম বাঁকা রয়েছে। অতএব, তোমাদের আদেশ করা হচ্ছে, তোমরা নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে।’ (বুখারি-৫১৮৬)


২/ প্রথম দায়িত্ব হিসেবে স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করতে হবে। মোহরানা পরিশোধ করা অতীব জরুরি। মহান আল্লøাহ বলেন, ‘আর তোমরা নারীদের তাদের মোহরানা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে পরিশোধ করবে। সন্তুষ্টচিত্তে তারা মোহরানার কিছু অংশ ছেড়ে দিলে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করবে।’ (সূরা নিসা, আয়াত-৪)

৩/ স্ত্রীর থাকার জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেরূপ গৃহে বাস করো তাদেরও (স্ত্রীদের) সেরূপ গৃহে বাস করতে দাও। তাদের কোনো কষ্ট দেবে না, তাদের (জীবন) সঙ্কটে ফেলার জন্য।’ (সূরা তালাক,
আয়াত-৬)

৪/ স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্বও স্বামীর। স্ত্রী ঘরে থাকবে, ইবাদত করবে আর সন্তানাদি পালন করবে। খুব প্রয়োজন ব্যতিরেকে বাইরে বের হবে না। আর চাকরি না করাটাই ভালো। তবে একান্তই যদি করতে হয় পর্দার সাথে করতে হবে। মূলত স্ত্রীর যাবতীয় ভরণপোষণের দায়িত্ব তার স্বামীর। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘পিতার কর্তব্য যথারীতি তাদের (সন্তান ও তার মায়ের) ভরণপোষণ করা।’ (সূরা বাকারা, আয়াত-২৩৩)। অন্যত্র রাসূল সা: পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘তুমি যখন খাবে, তাকেও খাওয়াবে, তুমি যখন পরিধান করবে, তাকেও পরাবে। তার চেহারায় কখনো প্রহার করবে না। তার সাথে অসদাচরণ করবে না।’ (আবু দাউদ-২১৪২, মুসনাদে আহমাদ-১৮৫০১)

৫/ স্ত্রীদের দ্বীনদার হতে তাগিদ দিতে হবে। নামাজ-কালাম করতে কঠোর আদেশ দিতে হবে। একজন দ্বীনদার স্ত্রী স্বামীর অমূল্য সম্পদ। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ঈমানদাররা তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনদের রক্ষা করো (জাহান্নামের) আগুন থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।’ (সূরা-তাহরিম, আয়াত-৬)
স্ত্রীর প্রতি যতœশীল হতে হবে। রোগে-শোকে তার পাশে থেকে মানসিক সাহস দিতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পবিত্র। তাই দুজন দুজনকে বিশ্বাস করতে হবে। বিশ্বাস ছাড়া কোনো সম্পর্কই টিকে না। স্বামীর যেমন সচ্চরিত্রবান হতে হবে, স্ত্রীকেও তেমন সচ্চরিত্রবান হতে হবে। অহেতুক ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটি করা ঠিক নয়। এতে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের উচিত নিজ নিজ দৃষ্টিকে সংযত রাখা যাতে যিনা-ব্যভিচারের মতো ঘৃণিত কাজে লিপ্ত না হয়। যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হলেই সংসারে অশান্তি হয়, সন্দেহের রেখাপাত হয় দুটি মনে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যখন তারা এটি শুনল, তখন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা নিজেদের লোকদের সম্পর্কে কেন ভালো ধারণা করল না? কেন তারা বলল না যে, এটা তো সুস্পষ্ট অপবাদ।’ (সূরা নূর, আয়াত-১২)

৬/ স্ত্রীকে সময় দিতে হবে। কাজের ফাঁকেও সময় করে তার সাথে গল্প গুজব করতে হবে। সারাদিন কাজের ব্যস্ততা থাকতেই পারে। তাই দিনে না পারলেও রাতে কিছু সময় স্ত্রীর সাথে গল্প করতে হবে, তাকে হাসিখুশি রাখতে হবে। আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সা: এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি তাঁর বিবিদের সময় দিতেন। তাদের সাথে গল্পগুজব করতেন। এমনকি তিনি স্ত্রীদের সাথে রাত্রিবেলা দৌড় প্রতিযোগিতাও করতেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্য সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে ভালো ব্যবহার করে।’ (সুনানে তিরমিজি-১১৬২)

একজন আদর্শ স্বামী অবশ্যই স্ত্রীর হক পালন করবে। কেননা, তার জাহান্নামের আগুনের ভয় আছে। আদর্শ স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের অহঙ্কার, গর্ব। আদর্শ স্বামীর সংস্পর্শেই দাম্পত্যজীবন সুন্দর ও সুখময় হয়ে ওঠে।


স্ত্রীর দায়িত্ব স্বামীর প্রতিঃ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভয়ের কথা বলেছেন। জানিয়েছেন অধিকাংশ নারী জাহান্নামি। তাই নারীদেরকে দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক সুন্দর ও নিরাপদ করার অনেক নসিহত পেশ করেছেন।

১. স্বামীর আনুগত্য :
স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর কর্তব্য। তবে যে কোন আনুগত্যই নয়, বরং যেসব ক্ষেত্রে আনুগত্যের নিম্ন বর্ণিত তিন শর্ত বিদ্যমান থাকবে।

(ক) ভাল ও সৎ কাজ এবং আল্লাহর বিধান বিরোধী নয় এমন সকল বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য করা। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর অবাধ্যতায় কোন সৃষ্টির আনুগত্য বৈধ নয়।

(খ) স্ত্রীর সাধ্য ও সামর্থ্যরে উপযোগী বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য করা। কারণ আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্বারোপ করেন না।

(গ) যে নির্দেশ কিংবা চাহিদা পূরণে কোন ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, সে ব্যাপারে স্বামীর আনুগত্য করা।

আনুগত্য আবশ্যক করে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘নারীদের উপর পুরুষগণ শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারী।’ [বাকারা : ২২৭]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: ‘পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বকারী। কারণ আল্লাহ তাআলা-ই তাদের মাঝে তারতম্য ও শ্রেষ্ঠত্বের বিধান রেখেছেন। দ্বিতীয়ত পুরুষরাই ব্যয়-ভার গ্রহণ করে।’ [নিসা : ৩৪] উপরন্তু এ আনুগত্যের দ্বারা বৈবাহিক জীবন স্থায়িত্ব পায়, পরিবার চলে সঠিক পথে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বামীর আনুগত্যকে এবাদতের স্বীকৃতি প্রদান করে বলেন— যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজান মাসের রোজা রাখে এবং নিজের লজ্জাস্থান হেফাজত করে ও স্বীয় স্বামীর আনুগত্য করে, সে,নিজের ইচ্ছানুযায়ী জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবে। [আহমাদ : ১৫৭৩]

স্বামীর কর্তব্য, এ সকল অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে আল্লাহর বিধানের অনুসরণ করা। স্ত্রীর মননশীলতা ও পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে সত্য-কল্যাণ ও উত্তম চরিত্রের উপদেশ প্রদান করা কিংবা হিতাহিত বিবেচনায় বারণ করা।উপদেশ প্রদান ও বারণ করার ক্ষেত্রে উত্তম আদর্শ ও উন্নত মননশীলতার পরিচয় দেয়া । এতে সানন্দ চিত্তে ও স্বাগ্রহে স্ত্রীর আনুগত্য পেয়ে যাবে।

২. স্বামী-আলয়ে অবস্থান:
নেহায়েত প্রয়োজন ব্যতীত ও অনুমতি ছাড়া স্বামীর বাড়ি থেকে বের হওয়া অনুচিত।মহান আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নারীদের ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীদের সম্বোধন করে বলেন—সকল নারীই এর অন্তর্ভুক্ত: ‘তোমরা স্ব স্ব গৃহে অবস্থান কর, প্রাচীন যুগের সৌন্দর্য প্রদর্শনের মত নিজেদের কে প্রদর্শন করে বেড়িও না। ’ [আহজাব : ৩৩]

স্ত্রীর উপকার নিহিত এবং যেখানে তারও কোন ক্ষতি নেই, এ ধরনের কাজে স্বামীর বাধা সৃষ্টি না করা। যেমন পর্দার সাথে, সুগন্ধি ও সৌন্দর্য প্রদর্শন পরিহার করে বাইরে কোথাও যেতে চাইলে বারণ না করা। ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর বান্দিদেরকে তোমরা আল্লাহর ঘরে যেতে বাধা দিয়ো না। [বুখারী: ৮৪৯ ]

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা: এর স্ত্রী যয়নব সাকাফী রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলতেন: তোমাদের কেউ মসজিদে যাওয়ার ইচ্ছে করলে সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। [মুসলিম : ৬৭৪]

৩. নিজের ঘর এবং সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা
স্বামীর সম্পদ সংরক্ষণ করা। স্বামীর সাধ্যের অতীত এমন কোন আবদার কিংবা প্রয়োজন পেশ না করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ স্ত্রী স্বীয় স্বামীর ঘরের জিম্মাদার। এ জিম্মাদারির ব্যাপারে তাকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন করা হবে।’ [বুখারী: ২৫৪৬]

৪. নিজের সতীত্ব ও সম্মান রক্ষা করা
পূর্বের কোন এক আলোচনায় আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি হাদিস এ মর্মে উল্লেখ করেছি যে, নিজেকে কখনো পরীক্ষা কিংবা ফেতনার সম্মুখীন না করা।

৫. স্বামীর অপছন্দনীয় এমন কাউকে তার ঘরে প্রবেশের অনুমতি না দেয়া
হোক না সে নিকট আত্মীয় কিংবা আপনজন। যেমন ভাই-বেরাদার। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘তোমাদের অপছন্দনীয় কাউকে বিছানায় জায়গা না দেয়া স্ত্রীদের কর্তব্য।’ [মুসলিম : ২১৩৭]

স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত নফল রোজা না রাখা। কারণ, রোজা নফল—আনুগত্য ফরজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ নারীর জন্য স্বামীর উপস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া রোজা রাখা বৈধ নয়। অনুরূপ ভাবে অনুমতি ব্যতীত তার ঘরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়াও বৈধ নয়। [বুখারী : ৪৭৬৯]


Post a Comment

0 Comments