বিবাহ সহজ করুন না হয় ধ্বংস অনিবার্য!!!
বিবাহ জিনা ব্যবিচারকে শেষ করে দেয়। বিবাহ সহজ করলে জিনা-ব্যাভিচার কঠিন হয়ে যায়। সমাজে বিবাহ যত সহজ হয়, যিনা ব্যবিচার ঠিক ততটাই কঠিন হয়।
ইসলাম নারী-পুরুষের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। কারণ বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন ছাড়া মানুষের বৃদ্ধি সম্ভব নয়। সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালনে নূন্যতম কিছু দায়িত্ব হলেও পালন করতে হয় যা বিবাহের মাধ্যমে বাধ্য বাধকতা তৈরি হয়। এই বিবাহ যত সহজে হবে, মানব জাতি তত সহজেই বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। তাই বিবাহের ক্ষেত্রে ধার্মিকতা ছাড়া আর কোন শর্তই প্রাধান্য দেওয়া নিষেধ। নিম্নের হাদিসটি পড়লেই সব ধারণা পরিষ্কার হয়ে যাবেঃ
৩০৯০-[১১] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের নিকট কেউ বিবাহের প্রস্তাব পাঠায়, তখন দীনদারী ও সচ্চরিত্রের মূল্যায়ন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ কর। যদি তোমারা তা না কর, তাহলে দুনিয়াতে বড় রকমের ফিতনা-বিশৃঙ্খলা জন্ম দেবে। (তিরমিযী)[1]
[1] হাসান : তিরমিযী ১০৮৪, ইবনু মাজাহ ১৯৬৭, ইরওয়া ১৮৬৮।
ব্যাখ্যা: এটা এ কারণে যে, যদি তোমরা সম্পদ কিংবা অন্য দিক বিবেচনায় বিবাহ না দাও তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাবে যে, অধিকাংশ মহিলা স্বামী ছাড়া থাকবে। অন্য দিকে অনেক পুরুষ-ই স্ত্রী ছাড়া থেকে যাবে। এর ফলে যিনা-ব্যভিচারের মাধ্যমে ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হয়ে যাবে এবং কখনও কখনও এ বিষয় নিয়ে অভিভাবকগণ বিপাকে পড়বেন। আর বংশ বিস্তার বন্ধ হয়ে যাবে এবং মীমাংসার ও সৃষ্ট ফিতনা থেকে মুক্তির সম্ভাবনাক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যাবে।
‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ আলোচ্য হাদীস ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতের স্বপক্ষে দলীল। তিনি বলেন, দীন ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে কুফু (সমতা) প্রযোজ্য নয়। জুমহূর ‘উলামাগণের মতে চারটি বিষয়ে কুফু লক্ষ্যণীয়- যথা (১) দীনদারিত্ব (২) স্বাধীন হওয়া (৩) বংশ (৪) কর্ম অর্থাৎ কর্ম করে খেতে পারবে কিনা। তবে মহিলা কিংবা তার অভিভাবক যদি কুফু বা সমতা ছাড়াই বিবাহে রাজী হয় তবে বিবাহ সঠিক হবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৩য় খন্ড, হাঃ ১০৮৪; মিরকাতুল মাফাতীহ)

0 Comments